রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:৫১
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ আজ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

দীর্ঘ প্রায় ৩৫ বছর পর আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হবে। সংসদকক্ষে বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট চলবে।


এবার নির্বাচনে লড়ছেন বিএনপি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১-দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম। সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ প্রতিনিধিত্বকারী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হয়ে নিশ্চিত যাচ্ছেন বঙ্গভবনে। কেননা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্য পদ বাতিল হবে; সুতরাং মির্জা ফখরুলের বিজয় নিশ্চিত। তবু বিরোধী দল জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী অলি আহমদ প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। সংসদকক্ষে নির্বাচন পরিচালনা করবেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কর্তা, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট দেবেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি, ভারপ্রাপ্ত স্পিকার, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতাসহ এ সংসদের ৩৪৯ জন সদস্য। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এ বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে নির্বাচিত হবেন। বিকাল ৫টায় ভোট গ্রহণ শেষে গণনা শুরু হবে। গণনা শেষে নির্বাচন কর্তা ফলাফল ঘোষণা করবেন। এরপর আজই নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে। কাল হবে নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণ।


এদিকে গণ অভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ১৯৯১ সালের পর প্রথমবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন-সব মিলে এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন নির্বাচন কর্তা, সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন। গতকাল নির্বাচন ভবনে নিজের কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সার্বিক বিবেচনায় এটা ঐতিহাসিক তো বটেই। বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে, বড়ই বটে। আমরা কনফিডেন্ট, ইনশাল্লাহ একটা সুন্দর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হবে। বাংলাদেশে যে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হচ্ছে, বিশ্ববাসী তাকিয়ে আছে।’


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইতিহাস তুলে ধরে সিইসি বলেন, ‘১৯৯১ সালে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে আর এমন নির্বাচন হয়নি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও বিরোধীদলীয় নেতার ভোট দেওয়ার সময় তা সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সম্ভবত বিটিভির মাধ্যমে ভোটের শুরুতে এ অংশ সরাসরি দেখানো হবে। ভোট গ্রহণ চলাকালে সম্প্রচার বন্ধ থাকার পর বিকাল ৫টায় ভোট গণনা শুরু হলে আবার সরাসরি সম্প্রচার শুরু হবে। ভোটার সংসদ সদস্যরা ভোট দেওয়ার পরও গণনার সময় সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকতে পারবেন।’ ভোট গ্রহণ শেষে তৎক্ষণাৎ গণনা শুরু হবে এবং সেখানেই নির্বাচন কর্তা হিসেবে তিনি ফল ঘোষণা করবেন বলে জানান সিইসি। তিনি বলেন, ‘কতটি ব্যালট ছাপানো হয়েছে, কতটি ব্যবহার হয়েছে, কতটি অব্যবহৃত রয়েছে, কতটি বাতিল হয়েছে এবং প্রার্থীরা কে কত ভোট পেয়েছেন সব বিস্তারিত ঘোষণা করা হবে। এরপর নির্বাচনি ফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’ ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভিতরে কোনো প্রচার করা যাবে না বলে জানান সিইসি। তবে সংসদ ভবনের বাইরে প্রচারের বিষয়ে আইনে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।


কাল শপথ : নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আগামীকাল সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ অনুষ্ঠান হবে। গতকাল সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ২১ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টায় বঙ্গভবনে নির্বাচিত রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সামনে রেখে গতকাল বৈঠক করেছেন সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্যরা। বৈঠক শেষে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, ‘আমাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্য ভোট চেয়েছি।’


ভোটার ৩৪৯ জন; যেভাবে হবে ভোট : নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ ইতোমধ্যে জানিয়েছেন, সংসদকক্ষে তিনটি ভোট কাউন্টারে তিনটি ব্যালট বাক্স থাকবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে থাকবেন। নির্বাচন কর্তাকে সহায়তার জন্য ইসি সচিবালয় ও সংসদ সচিবালয়ের একদল সহায়ক কর্মকর্তা থাকবেন। ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হবে। সংসদ সদস্য বা ভোটাররা ব্যালটে ভোট দিয়ে কাছের ব্যালট বাক্সে ফেলবেন। ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। চেক মুড়িতে ক্রমিক সংখ্যা থাকবে; এ অংশে ভোটারের বিভক্তি সংখ্যা, নাম ও পূর্ণ স্বাক্ষর দিতে হবে। আর ব্যালট পেপার অংশে ভোটারের বিভক্তি সংখ্যা লিখে পছন্দের রাষ্ট্রপতি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নামের পাশে পূর্ণ স্বাক্ষর দিতে হবে ভোটারকে। অর্থাৎ কোনো স্বতন্ত্র ভোটার বা দলের ভোটার কাকে ভোট দিচ্ছেন তা প্রকাশ্য। সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যাঁরা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সংসদ্য সদস্য ২৪৭; জামায়াতের ৭৭। এ ছাড়া স্বতন্ত্র ৮ এনসিপির ৮, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ৩, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ১, বিজেপির ১, গণসংহতি আন্দোলনের ১, গণপরিষদের ১, খেলাফত মজলিসের ১ এবং জাগপার ১ জন সদস্য রয়েছেন সংসদে। এর আগে আটবার সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে সাতবারই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন ক্ষমতাসীন দল মনোনীত প্রার্থী। একবার, ১৯৯১ সালে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী থাকায় সংসদকক্ষে ভোটাভুটি হয়। সেবার বিএনপি প্রার্থী দলীয় ১৭০ ও স্বতন্ত্র দুজন মিলে ১৭২ ভোট পান; আওয়ামী লীগ প্রার্থী পান ৯২ ভোট। জামায়াত, সিপিবি ভোটে বিরত এবং জাপা বর্জন করে সে নির্বাচন। ৩৫ বছর পর এবার একাধিক প্রার্থী থাকায় সংসদকক্ষে ভোটাভুটি হচ্ছে। ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গুরুতর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গেল ২৪ জুলাই পদত্যাগ করেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে কোনো বাধা নেই : বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণে বিন্দুমাত্র আইনগত বাধার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রিট খারিজের পর গতকাল অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে গতকাল ও গত মঙ্গলবার দুটি রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাই কোর্ট।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে সবশেষ সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রার্থীদের ভোটার হওয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট খারিজ করে দিয়েছেন হাই কোর্ট। গতকাল বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর হাই কোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী সাইফুল আলম ফুয়াদ। যিনি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসন থেকে প্রার্থী ছিলেন। এর আগে গত মঙ্গলবার বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি এ এফ এম সাইফুল করিমের হাই কোর্ট বেঞ্চ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল স্থগিত চেয়ে আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দের করা রিট খারিজ করে আদেশ দেন। দুটি রিটেই রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল শুনানি করেন।


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ওই দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তার আসন শূন্য হবে। তবে এ কারণে পরবর্তী কোনো নির্বাচনে সংসদ সদস্য হওয়ার ক্ষেত্রে তিনি অযোগ্য হবেন না। রিটকারী আইনজীবী বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা স্বাধীনভাবে ভোট দিতে পারেন না। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ব্যাহত হচ্ছে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com