
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া ২ হাজার ২৪৭ জন বন্দীর মধ্যে বর্তমানে ৬৯০ জন এখনো পলাতক। তাঁদের মধ্যে নরসিংদী কারাগার থেকে পালানো ১৬৬ জনের কোনো তথ্য এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন কারা মহাপরিদর্শক (আইজি প্রিজন) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মো. মোতাহের হোসেন।
আইজি প্রিজন বলেছেন, কারাগারের তথ্য ও সার্ভার পুড়ে যাওয়ায় তাঁদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। তবে পলাতকদের তথ্য উদ্ধারে আদালত থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে। অন্য পলাতকদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে এবং তাঁদের নামে মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজার-সংলগ্ন উমেশ দত্ত রোডে কারা অধিদপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কারাগারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন কার্যক্রম ও সংস্কার নিয়ে কথা বলেন আইজি প্রিজন।
কারাগারে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা মুঠোফোনসহ কোনো অবৈধ সুবিধা ভোগ করছেন কি না, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজি প্রিজন বলেন, অবৈধ মুঠোফোনের ব্যবহার ঠেকাতে গত এক বছরে বিভিন্ন কারাগার থেকে প্রায় তিন হাজারের বেশি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক হাজারের বেশি কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আইজি প্রিজন বলেন, শুরুর দিকে অবৈধ মুঠোফোনের সংখ্যা বেশি থাকলেও ধীরে ধীরে তা কমে এসেছে। কোনো কারারক্ষী বা অন্য কেউ অবৈধভাবে মুঠোফোন ঢোকানোর সঙ্গে জড়িত থাকলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কারাগার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে আইজি প্রিজন বলেন, অভিযোগগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা চলছে। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি প্রায় ৬০টি কারাগার পরিদর্শন করেছেন। এসব সফরে জেল সুপারদের উপস্থিতির বাইরে বন্দীদের সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলার চেষ্টা করেছেন বলেও জানান তিনি।
কারাগারে মাদক প্রবেশের বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না জানিয়ে আইজি প্রিজন বলেন, বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার বন্দী মাদকসংক্রান্ত মামলায় কারাগারে আছেন। তাঁদের বড় একটি অংশ মাদকসেবী। মাদক না পেলে তাঁদের কেউ অসুস্থ হয়ে পড়ছেন, কেউ সহিংস আচরণ করছেন, আবার কেউ কথা শুনছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে আইজি প্রিজন জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে কারাগারে ১৮৬ বা ১৮৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছর এখন পর্যন্ত ১২২ জনের মৃত্যুর তালিকা আছে। বর্তমানে ১২২ জন বন্দী কারাগারের বাইরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। গত সাত মাসে ৫৬ হাজার বন্দীকে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
তাঁর ভাষ্য, কোনো বন্দী অসুস্থ হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তাঁকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। গভীর রাতেও জরুরি পরিস্থিতিতে পুলিশ স্কোয়াড পাওয়া না গেলে নিজেদের স্কোয়াড দিয়ে বন্দীকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে অ্যাম্বুলেন্সের স্বল্পতার কারণে কখনো কখনো হাসপাতালে নেওয়ার পথেই বন্দীর মৃত্যু ঘটে।
বন্দীর মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করা হয়। প্রয়োজন হলে ফরেনসিক পরীক্ষা করে তা নথিবদ্ধ করা হয়। হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সময় বেশি লাগার দুটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইজি প্রিজন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]