রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮
প্রকাশ : ০৮ জুলাই ২০২৬, ১৯:২৫
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাহাড়ধসে নিহত বেড়ে ৮
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং পাঁচ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ‘এ-থ্রি’ ব্লকে একটি মাদ্রাসায় পাহাড়ধসের ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে আটজনে দাঁড়িয়েছে। নিহতদের মধ্যে সাতজনই শিশু।


বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর আড়াইটার দিকে পাহাড়ধসে এ দুর্ঘটনায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন। তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনার সময় ওই মাদ্রাসায় ৪০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থী ক্লাস করছিল। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী। এ ছাড়া নিহত অপর একজন ওই মাদ্রাসার প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষক।


শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


স্থানীয় সূত্র ও ফায়ার সার্ভিস জানায়, দুপুরে ক্লাস চলাকালে হঠাৎ মাদ্রাসাটির ওপর পাহাড়ধস হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা মাটিচাপা পড়েন। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে ১৩ জনকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত পাঁচজনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।


টানা ভারী বর্ষণের কারণে মাদ্রাসাসংলগ্ন পাহাড়ের মাটি দুর্বল হয়ে ধসে পড়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।


এর আগে কয়েক দিনের টানা ভারী বর্ষণে কক্সবাজারে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।


জেলার নয়টি উপজেলার অর্ধশতাধিক ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাহাড়ি ঢল ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ঈদগাঁও, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী ও টেকনাফের লাখো মানুষ দুর্ভোগে পড়েছেন।


গত দুই দিনে পাহাড়ধস ও ঘরধসের ঘটনায় জেলায় ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়াবিদ আবদুল হান্নান জানান, মঙ্গলবার (৭ জুলাই) ভোর ৬টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এরপর ভোর ৬টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত আরও ৪৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। সব মিলিয়ে ৩৩ ঘণ্টায় ১৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। আগামী দুই থেকে তিন দিনও ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পাহাড়ধস ও ভূমিধসের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।


মঙ্গলবার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের বড়ছড়া এলাকায় পাহাড়ধসে নাছিমা আক্তার লিমা (২৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন তার স্বামী জসিম উদ্দিন। এদিন উখিয়ার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের জামবাগান এলাকায় অতিবৃষ্টিতে মাটির ঘরের দেয়াল ধসে মানিক (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়।


এর আগে সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে টানা বৃষ্টিতে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পৃথক পাহাড়ধসে আট রোহিঙ্গার মৃত্যু হয়। একই সময়ে কক্সবাজার শহরে পাহাড়ধসে একজন এবং পেকুয়ায় মাটির ঘর ধসে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সব মিলিয়ে গত দুই দিনে পাহাড়ধস ও ঘরধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।


রোহিঙ্গা কো-অর্ডিনেশন প্ল্যাটফর্মের (আরসিপি) তথ্যমতে, ৪ জুলাই থেকে ৭ জুলাই সকাল পর্যন্ত উখিয়া-টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। এ সময় ১৫ হাজার ৮১৩ জন ক্ষতিগ্রস্ত ও তিন হাজার ১৮২ জন বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। একই সময়ে ক্যাম্পগুলোতে ১৬০টি দুর্যোগজনিত ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৫২টি ভূমিধস, ১৪টি আকস্মিক বন্যা এবং ৮৩টি ঝড়ের ঘটনা রয়েছে। এ ছাড়া এক হাজার ৬১৪টি আশ্রয় আংশিক এবং ১০টি আশ্রয় সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com