
আজ ১৬ মে, ঐতিহাসিক ফারাক্কা লংমার্চের ৫০ বছর বা সুবর্ণজয়ন্তী। ১৯৭৬ সালের এই দিনে মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর ডাকে ভারতের পানি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছিল এদেশের লাখ লাখ দেশপ্রেমিক জনতা। পাঁচ দশক আগে দূরদর্শী এই নেতা ফারাক্কার ভয়াবহ বিরূপ প্রভাব অনুধাবন করে ঘোষণা দিয়েছিলেন— ‘মরণবাঁধ ফারাক্কা ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’। সেই বজ্রকণ্ঠ আজও পদ্মা অববাহিকার আকাশে-বাতাসে অনুরিত হয়।
১৯৭৬ সালের এই দিনে মওলানা ভাসানীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে সারা দেশ থেকে মানুষ রাজশাহীর মাদরাসা ময়দানে সমবেত হয়েছিল। বিশাল জনসমুদ্রে ১০ মিনিটের এক দিকনির্দেশনামূলক ভাষণের পর লংমার্চ শুরু হয়, যা শেষ হয়েছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে। মওলানা ভাসানী প্রকাশ্যে এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিলেও এর নেপথ্যের কারিগর ছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, যিনি এই ইস্যুটিকে জাতিসংঘ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।
১৯৭৪ সালে ফারাক্কা ব্যারেজ চালুর পর থেকেই পদ্মার মরণদশা শুরু হয়। ১৯৭৭ সালে জিয়াউর রহমান সরকারের আমলে ৫ বছর মেয়াদি একটি কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও পরবর্তীতে এরশাদ সরকারের আমলে তা কেবল সমঝোতা স্মারকে সীমাবদ্ধ থাকে। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সম্পাদিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিতে ‘গ্যারান্টি ক্লজ’ না থাকায় গত তিন দশকে বাংলাদেশ চরমভাবে প্রতারিত হয়েছে। শুকনো মৌসুমে পানিহীনতা আর বর্ষায় অতিরিক্ত পানির চাপে পদ্মা আজ ১৮ মিটার বালির নিচে চাপা পড়েছে, হারিয়েছে নাব্যতা।
এবারের ফারাক্কা লংমার্চ দিবসটি ভিন্ন এক রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে এসেছে। ১৯৯৬ সালের গ্যারান্টি ক্লজবিহীন সেই বিতর্কিত চুক্তির মেয়াদ এ বছরই শেষ হচ্ছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২৯ জানুয়ারি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, বিএনপি ক্ষমতায় এলে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্পের কাজ বর্তমানে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে উত্তরাঞ্চলের ২৪টি জেলার কৃষি, মৎস্য ও জীববৈচিত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
রাজশাহীবাসীর আশা, এবার আর গ্যারান্টি ক্লজবিহীন কোনো দুর্বল চুক্তি হবে না। নতুন চুক্তিতে কেবল পানির হিস্যা নয়, বরং নদীর নূন্যতম প্রবাহ নিশ্চিত করার বাধ্যবাধকতা থাকতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে গঙ্গার পানিবণ্টন সমস্যার একটি স্থায়ী ও সম্মানজনক সমাধান হবে এমনটাই প্রত্যাশা পদ্মা পাড়ের কোটি কোটি মানুষের।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]