
জলাবদ্ধতা নিরসন এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণের লক্ষ্যে সরকার খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, পানির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২ মে) সিলেট নগরীর সুধী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জন্য বড় একটি সমস্যা হচ্ছে মাটির নিচ থেকে পানি তোলা। কৃষিকাজের জন্যও পানি তুলছি। এটি ধীরে ধীরে ভয়াবহ অবস্থার দিকে নিয়ে যাচ্ছে পুরো পরিস্থিতি। আমরা যদি এই পরিস্থিতিকে এখনই মোকাবিলা করতে চাই, তাহলে প্রথম কাজটি হচ্ছে আমাদের খাল খনন করতে হবে।
সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে বিস্তীর্ণ হাওরাঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। নতুন রাস্তা নির্মাণ করলে ফসলের ক্ষতি হবে। তিনি বলেন, সিলেটের ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতাল দ্রুত চালু করে ১২শ শয্যায় উন্নীত করা হবে। মানুষকে শারীরিকভাবে সুস্থ রাখাই মানুষের লক্ষ্য।
সিলেট নগরবাসীকে সচেতন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা প্লাস্টিক, পলিথিন ও কাগজসহ অন্যান্য বর্জ্যদ্রব্য যাতে যত্রতত্র না ফেলি। বিষয়টি যদি সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছোট ছোট বাচ্চাদের শেখানো যায়, এটি তাদের মাথায় গেথে থাকবে এবং সে তাদের মা-বাবাকেও শেখাতে বাধ্য করবে। শুধু সিলেট সিটি করপোরেশন নয়, এটি সব সিটি করপোরেশনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বাচ্চাদের শেখাতে পারলে আমরা ধীরে ধীরে পরিবেশকে ঠিক করে আনতে পারব।
সমাবেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ অর্থনীতির ভিত্তি মজবুত করতে বন্ধ কল কারখানা চালু করারও আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। দ্রুত সিলেটে আইটি পার্ক করার চিন্তা রয়েছে সরকার বলেও জানান তিনি।
এর আগে, সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে তাকে বহনকারী বিমানটি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তার প্রথম সিলেট সফর। সফরে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি বিশেষ বাসে চড়ে শহরের দিকে যাত্রা করেন। সফরের শুরুতেই তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেন।
পরে তিনি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের উদ্বোধনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। এরপর বিকেলে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস-২০২৬’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে দলীয় সভায় অংশ নেবেন। দিনের কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় ঢাকার উদ্দেশে সিলেট ত্যাগ করার কথা রয়েছে তারেক রহমানের।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে বিমানবন্দর এলাকায় আগে থেকেই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন সংস্থা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
এর আগে, রাজধানীর গুলশানের বাসা থেকে সড়কপথে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। পরে সকাল ৯টা ২০ মিনিটে আকাশপথে সিলেটের উদ্দেশে যাত্রা করেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]