মতিঝিলে আজও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের অবস্থান
প্রকাশ : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৮
মতিঝিলে আজও ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুতদের অবস্থান
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পৃথক কর্মসূচি পালন করছেন।


বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকেও ব্যাংকটির দিলকুশার প্রধান কার্যালয় ও শাপলা চত্বর এলাকায় তারা অবস্থান নেন।


দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে অবস্থান নিয়ে সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এস আলম গ্রুপসহ ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানান তারা। এর আগে টানা পাঁচদিন ধরে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে আসছে ফোরামটি।


অন্যদিকে শাপলা চত্বর এলাকায় অবস্থান নেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। ‘দফা এক, দাবি এক চাকরি ফেরত চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন তারা। চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও শতাধিক চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন বলে জানান আন্দোলনকারীরা।


চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, গত রবিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হলেও এখনো তার সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাননি তারা। গভর্নর তাদের সঙ্গে দেখা না করলে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘেরাওসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।


সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের প্রক্রিয়া যখন শেষ পর্যায়ে, তখন ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার নানা ষড়যন্ত্র চলছে। এর অংশ হিসেবে একটি চক্র ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।


তিনি বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যে কোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে গ্রাহকরা ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন। গ্রাহকদের স্বার্থে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।


ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংকের স্থিতিশীলতা ফেরাতে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার, অবৈধ ঋণ সুবিধা সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহালের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, এস আলমের সময়ে অনেককে যথাযথ নিয়োগ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই ব্যাংকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পরে তাদের চাকরিতে রাখার সুযোগ তৈরি করতে পরীক্ষা নেওয়া হয়। যারা ওই পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন, তাদের অনেকে এখনো ব্যাংকে কর্মরত। কিন্তু আন্দোলনকারীদের অনেকে ওই পরীক্ষায় অংশ নেননি।


তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা মিজান। তিনি বলেন, পরীক্ষা বাতিলের দাবিতে আদালতে যাওয়ার কারণে অনেকেই পরীক্ষায় অংশ নেননি। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সবাই চাকরিতে বহাল রয়েছেন—এ দাবিও সঠিক নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। চাকরি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা আনোয়ার বলেন, কোনো নোটিশ বা যথাযথ প্রক্রিয়া ছাড়াই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। দীর্ঘদিন বেকার থাকায় পরিবার নিয়ে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চাকরিতে পুনর্বহালসহ প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার দাবি জানান তিনি।


অপর আন্দোলনকারী আশরাফ বলেন, চাকরি হারানোর পর পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে রয়েছেন তারা। চাকরি ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।


গ্রাহক ফোরামের পক্ষ থেকে চাকরিচ্যুতদের বিরুদ্ধে ঋণ বিতরণ ও অনিয়মে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করা হলেও এসব অভিযোগের বিষয়ে আন্দোলনরতদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com