পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে নয়: শিক্ষামন্ত্রী
প্রকাশ : ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ২০:১৯
পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে নয়: শিক্ষামন্ত্রী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অঅ-অ+

পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল মিলন।


শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকাস্থ কচুয়া উপজেলা সমিতি আয়োজিত ‘কচুয়ার উন্নয়নে জনমনের ভাবনা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।


তিনি বলেন, পাঠ্যবইয়ের মানের সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না। ইতোমধ্যে যেসব নিম্নমানের বই পাওয়া গেছে, সেগুলো বাতিল ও নষ্ট করা হয়েছে। নিম্নমানের বই সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হবে।


তিনি বলেন, পাঠ্যবই ছাপায় গুণগত মানের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ছাড় দেওয়া হবে না। কাগজ, কালি কিংবা ছাপাখানা—কোনও বিষয়েই কম্প্রোমাইজ করা হবে না। প্রধানমন্ত্রী চান দেশীয় মুদ্রণশিল্প গড়ে উঠুক। এ কারণে এ বছর বিদেশি কোনও কোম্পানিকে মুদ্রণের কাজ দেওয়া হয়নি। আগেও সময়মতো গুণগত মানসম্পন্ন বই ছাপানো হয়েছে এবং আগামীতেও তা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে ১৫০টি উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচি চালু রয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতে এ কর্মসূচি সারাদেশে সম্প্রসারণ করা হবে।


‘মিড ডে মিল’ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের জন্য কুপন ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। শিক্ষার্থীরা কুপন দিয়ে ক্যান্টিন থেকে নিজেদের খাবার কিনতে পারবে। খাদ্য তালিকায় নতুন খাবার যুক্ত করার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল ও স্থানীয় উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে খাবার সরবরাহ প্রক্রিয়া বিকেন্দ্রীকরণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রথমে কয়েকটি জেলায় পাইলট প্রকল্প হিসেবে এটি চালু করে পরে সারাদেশে বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।


মন্ত্রী বলেন, চতুর্থ শ্রেণিতে স্পোর্টস ও কালচারাল বই অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে নতুন সিলেবাস প্রণয়ন করা হচ্ছে। পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনও বিকল্প নেই। প্রত্যেক উপজেলায় টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে তৃতীয় ভাষা চালু করা হবে। সৌদি আরবেও টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ করা হবে বলে জানান তিনি।


আগামীতে পরীক্ষার দুই সেট প্রশ্ন দুই জায়গায় তৈরির পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, বিজি প্রেস ও আর্মি সিকিউরিটি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্র তৈরি করা হবে। পরীক্ষা গ্রহণের কারণে শিক্ষার্থীদের জীবন থেকে যাতে সময় নষ্ট না হয়, সে জন্য সময়মতো পরীক্ষা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্ষাকালীন দুর্যোগও এড়ানো হবে।


পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাস্তবতার নিরিখেই পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনা হয়েছে।


বাংলাদেশকে ‘এডুকেশন হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ক্রস বর্ডার এডুকেশন সিস্টেম’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বিশ্বের শীর্ষ ৫০০-এর মধ্যে থাকা বিদেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বাংলাদেশে শাখা খুলতে চাইলে অনুমোদন দেওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় আইন সংশোধন করা হবে।


কচুয়ার সামগ্রিক উন্নয়নে এ অঞ্চলের সবাইকে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, দক্ষ জনবল তৈরি করতে হলে কারিগরি ও উৎপাদনমুখী শিক্ষার বিকল্প নেই। কচুয়ার শিক্ষার্থীদের দক্ষ জনবল হিসেবে গড়ে তুলতে কারিগরি শিক্ষার ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


কচুয়ার প্রতিটি খাতের উন্নয়নে ‘শ্যাডো মিনিস্টার’ ও কমিটি করা হবে বলেও জানান তিনি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com