বাকৃবির ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপন
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:২৫
বাকৃবির ৬৬ তম প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপন
বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

বর্ণাঢ্য র‌্যালি, কবুতর ও মাছের পোনা অবমুক্ত এবং বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৬৬তম প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপন করা হয়েছে।


মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির আয়োজন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপন কমিটি।


দিবসটি উপলক্ষে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও আবাসিক হলগুলোতে জাতীয় পতাকা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব পতাকা উত্তোলন করা হয়। সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন চত্বর থেকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়ার নেতৃত্বে একটি আনন্দ র‌্যালি বের হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও এলাকাবাসী অংশ নেন।


র‌্যালিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে হেলিপ্যাডে গিয়ে শেষ হয়। পরে প্রতিষ্ঠাদিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হকের সভাপতিত্বে হেলিপ্যাডে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলনের পাশাপাশি কবুতর অবমুক্ত ও বেলুন উড়িয়ে প্রতিষ্ঠাদিবসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।


উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কৃষি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. জি এম মুজিবর রহমান, বাউরেস পরিচালক ও সোনালী দলের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান, রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. মো. হেলাল উদ্দীন এবং ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী ছাত্রবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, ১৯৬১ সালের ১৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আজ ৬৬তম প্রতিষ্ঠাদিবসে পৌঁছেছে। দীর্ঘ এই পথচলায় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় বাকৃবি দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থানের পেছনে যাঁদের অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।


উপাচার্য আরও বলেন, মাতৃসম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম যেন খর্ব না হয়, বরং উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পায়—এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা, নিষ্ঠা, নিয়মানুবর্তিতা ও ধৈর্যের সঙ্গে কাজ করতে হবে। শিক্ষা ও গবেষণায় আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।


এদিকে প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। হেলিপ্যাড সংলগ্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণ করা হয়। পরে উপাচার্যের বাসভবন সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে মৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের মৎস্য খামারের উদ্যোগে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন উপাচার্য।


এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতেও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব মসজিদ ও উপাসনালয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।


প্রতিষ্ঠাদিবস উপলক্ষে সকালে উপাচার্যের উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় : ৬৫ বছরের গৌরবোজ্জ্বল পথচলা’ শীর্ষক একটি ডকুমেন্টারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়।


আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল হক বলেন, আগামী ১৫ থেকে ২০ বছর পর বাংলাদেশের প্রয়োজন হতে পারে—এমন প্রযুক্তি এখন থেকেই চিহ্নিত করে গবেষণা ও উন্নয়নের কাজ করতে হবে। গত ৬৫ বছর ধরে বাকৃবি পুষ্টি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করে আসছে। আগামী দিনে তরুণ প্রজন্মকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত প্রযুক্তি ও নতুন জ্ঞান কাজে লাগিয়ে এ দায়িত্ব এগিয়ে নিতে হবে।


তিনি আরও বলেন, গবেষণার কোনো ফল পেতে দীর্ঘমেয়াদি কাজের প্রয়োজন হয়। তাই ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এখন থেকেই গবেষণায় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি উন্নয়নের দিকে নজর দিতে হবে।


বিবার্তা/আমান উল্লাহ/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com