
রাজশাহীর দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষকদের ওপর হামলার তীব্র প্রতিবাদ ও দোষীদের গ্রেফতার করে অবিলম্বে শাস্তির দাবিতে বিবৃতি জানিয়েছেন বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক ডক্টর মাহবুব আলম প্ৰদীপ প্রেরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজ গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র প্রতিবাদের সঙ্গে জানাচ্ছে যে, গত ২৩ এপ্রিল রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালীন ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি আকবর আলীর নেতৃত্বে একটি গ্রুপ প্রতিষ্ঠানে অবৈধভাবে প্রবেশ করে। উক্ত গ্রুপটি নারী শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা, কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ কলেজের আরও দুইজন কর্মচারীর ওপর নৃশংস হামলা চালায়। আমরা এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং অবিলম্বে হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।
ড. মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত ১৮ মাসে দেশের শিক্ষাঙ্গণে চরম অরাজকতা, প্রতিহিংসা, মব সন্ত্রাস ও নিপীড়নের পরিবেশ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ সমগ্র শিক্ষাব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে শিক্ষকদের ওপর ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। এতে ইতোমধ্যে ১০ জন শিক্ষক মৃত্যুবরণ করেছেন এবং শত শত শিক্ষক গুরুতর আহত হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসাপরায়ণতার কারণে কয়েক হাজার শিক্ষক চাকরিচ্যুত হয়েছেন। শিক্ষকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা, গ্রেফতার, সাময়িক ও স্থায়ী বহিষ্কার, অ্যাকাডেমিক বয়কট, পদাবনমন, বাধ্যতামূলক অবসর এবং প্রশাসনিক পদ থেকে অপসারণের মতো ঘটনা ঘটেছে। একইভাবে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল, ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সনদ বাতিল, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতি এবং প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে কলেজ পর্যন্ত বহু শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে। এই অস্থিতিশীলতা ও নিপীড়নের ধারা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতিনিয়ত শিক্ষকরা মব সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছেন। শিক্ষকেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়ার আগে শঙ্কিত থাকছেন—তারা আজ কোনো সহিংসতার শিকার হবেন কি না। এই পরিস্থিতি দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এমনকি বিনা কারণে বহিষ্কৃত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ বিপন্ন হয়েছে।
বাংলাদেশ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রগতিশীল শিক্ষক সমাজের সুস্পষ্ট ৯টি দাবি করেছেন। দাবিগুলো হলো-
১। দাউদকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের শিক্ষকদের ওপর হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২। মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ—অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন, অধ্যাপক ড. আবুল বারাকাত, অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ এবং অধ্যাপক শিবলী রুবায়েতুল ইসলাম—এর অবিলম্বে নিঃশর্ত মুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৩। রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত সকল স্তরের শিক্ষকদের দ্রুত ও নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে। একই সঙ্গে, অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত শিক্ষকদের বহিষ্কারাদেশ ও সাময়িক বরখাস্তাদেশ প্রত্যাহার করে তাঁদের শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
৪। গত ২০ মাস ধরে শিক্ষকদের ওপর হামলাকারী সকল মব সন্ত্রাসীকে চিহ্নিত করে অবিলম্বে গ্রেফতার এবং কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
৫। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও প্রহসনমূলক রায়ের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকবৃন্দ—সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ও সাবেক প্রক্টর মো. শরিফুল ইসলাম এবং সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডলের বিরুদ্ধে প্রদত্ত সকল রায় অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
৬। শিক্ষকদের স্থগিত রাখা বেতন-ভাতা অবিলম্বে চালু করতে হবে এবং বকেয়া সকল পাওনা দ্রুত পরিশোধ করতে হবে।
৭। সারাদেশে প্রাথমিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায় পর্যন্ত যেসব অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষককে জোরপূর্বক পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে, তাঁদের পুনঃনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে এবং উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৮। বহিষ্কৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দ্রুত স্বপদে পুনর্বহাল করতে হবে।
৯। অন্যায়ভাবে বহিষ্কৃত হাজার হাজার শিক্ষার্থীর বহিষ্কারাদেশ এবং ডিগ্রিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট বাতিলের সিদ্ধান্ত অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]