ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচার
সাইপ্রাসে এস আলম ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক
প্রকাশ : ২৮ মে ২০২৬, ২৩:৩৮
সাইপ্রাসে এস আলম ও তার স্ত্রীর সম্পত্তি ক্রোক
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশে চলমান ব্যাংক জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের ফৌজদারি তদন্তের অংশ হিসেবে ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সাইফুল আলম (এস আলম) ও তার স্ত্রীর মালিকানাধীন সাইপ্রাসের একটি সম্পত্তি ক্রোকের নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির নিকোসিয়া জেলা আদালত।


সাইপ্রাসভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘সাইপ্রাস মেইল’-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তা প্রক্রিয়ার আওতায় সাইপ্রাসের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ ইউনিট আদালতে আবেদন করলে গত ১৯ মে এই আদেশ জারি করা হয়।


ক্রোকের আওতায় থাকা সম্পত্তিটি সাইপ্রাসের পারেক্লিশিয়া এলাকায় অবস্থিত একটি দোতলা আবাসিক ভবন।


প্রতিবেদন বলছে, মোহাম্মদ সাইফুল আলম ‘এস আলম গ্রুপ’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তিনি ২০১৬ সালে সাইপ্রাসের ‘সিটিজেন-বাই-ইনভেস্টমেন্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশটির নাগরিকত্ব লাভ করেন। এই কর্মসূচিটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নামে পরিচিত ছিল। যদিও পরে সাইপ্রাস সরকার ওই কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়।


আদালতে জমা দেওয়া নথিপত্র অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে গড়ে ওঠা বিভিন্ন কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেন নিয়ে তদন্ত করছেন বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ। তদন্তে জালিয়াতির মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


এই সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ জারির একদিন পর বাংলাদেশের একটি আদালত ইসলামী ব্যাংক থেকে এস আলম গ্রুপের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠানের নেওয়া প্রায় ৬০ লাখ ইউরোর সমপরিমাণ ঋণসংক্রান্ত মামলায় এস আলম, তার ১০ জন আত্মীয় ও সহযোগীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দেন।


বাংলাদেশি গণমাধ্যমের বরাতে সাইপ্রাস মেইল জানিয়েছে, ১৩৪টি বাস কেনার উদ্দেশ্যে ওই ঋণ নেওয়া হলেও পরে বাসগুলো কেনা হয়নি।


তবে তদন্ত শুধু ওই একটি ঋণ মামলার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। সাইপ্রাসে পাঠানো অনুরোধপত্রে বলা হয়েছে, এস আলমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কোম্পানির বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকসহ একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে নেওয়ার অভিযোগও তদন্ত করা হচ্ছে।


বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের অনুরোধপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, এসব ঋণের একটি বড় অংশ পরে খেলাপি হয়ে পড়ে। তদন্তকারীরা এখন খতিয়ে দেখছেন, ওই ঋণের অর্থ বিভিন্ন দেশে পরিচালিত কোম্পানি ও আর্থিক কাঠামোর নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে কি না।


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর প্রকাশ্যে এই মামলার বিষয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে জানান, এ ঘটনায় প্রায় ৮ বিলিয়ন ইউরোর বেশি অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের ধারণা, তদন্তসংশ্লিষ্ট সম্পদ ও সম্পত্তি সাইপ্রাস, সিঙ্গাপুরসহ আরও কয়েকটি দেশে থাকতে পারে।


তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাইপ্রাসে নিবন্ধিত ‘অ্যাক্লেয়ার ইন্টারন্যাশনাল’ নামের একটি কোম্পানিকে ঘিরে। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে ‘অ্যাক্লেয়ার ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড’ অধিগ্রহণের মাধ্যমে এস আলম প্রতিষ্ঠানটির মালিকানা নেন।


বাংলাদেশি তদন্তকারীরা এখন পরীক্ষা করে দেখছেন, তদন্তাধীন অর্থ পাচারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লেনদেনে এই কোম্পানিটি ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।


আদালতের নথিপত্রে সাইপ্রাস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ডস ও জার্সিভিত্তিক বিভিন্ন কোম্পানি ও ট্রাস্টের একটি নেটওয়ার্কের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা এসব প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামো ও আর্থিক কার্যক্রম যাচাইয়ের চেষ্টা করছেন।


তবে এস আলম তার বিরুদ্ধে আনা সব ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।


আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠান ‘কুইন ইমানুয়েল’-এর মাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে এস আলম দাবি করেন, তার সব বিনিয়োগ বৈধ বিদেশি উৎস থেকে এসেছে। তার অভিযোগ, তার বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপগুলো অন্যায্য ও অযৌক্তিক।


এ ছাড়া তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর সেটেলমেন্ট অব ইনভেস্টমেন্ট ডিসপিউটস’ (আইসএসআইডি)-এও আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। সেখানে তার দাবি, সাইপ্রাসে তার সম্পত্তির ওপর নেওয়া ক্রোকসহ অন্যান্য পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তির লঙ্ঘন।


তবে সাইপ্রাসের ‘গোল্ডেন পাসপোর্ট স্কিম’ নিয়ে গঠিত তদন্ত কমিটি ‘নিকোলাটোস কমিটি’র চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এস আলমের নাম পাওয়া যায়নি।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com