সিডনিতে উম্মোচিত হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ১০:৪৭
সিডনিতে উম্মোচিত হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ
প্রবাস ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

একুশে ফেব্রুয়ারি জাতীয় শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে গতকাল রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিডনিতে উম্মোচিত হলো দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ। একুশে ফেব্রুয়ারি ২০২১ সকাল ১১টায় সিডনির বেলমোরের পীল পার্কে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালো অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ।


ক্যান্টারব্যুরি- ব্যাংক্সটাউন কাউন্সিলের উদ্যোগে বাংলাদেশী অধ্যুষিত লাকেম্বার পার্শ্ববর্তী সাবার্ব বেলমোরের পিল পার্কে (Peel Park) স্থাপিত এই স্মৃতিসৌধটি উম্মোচন করেন কাউন্সিলের মেয়র খাল আশফর, কাউন্সিলর নাজমুল হুদা, কনসাল জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম, ফেডারেল এমপি টনি বার্ক।


এসময় উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় মেয়র খাল আসফার, স্মৃতিস্তম্ভ বাস্তবায়ন কমিটির টিম লিডার কাউন্সিলর মোহাম্মদ নাজমুল হুদা, মুনীর হোসেন, আব্দুল্লাহ আল নোমান শামীম, শাহে জামান টিটু, লিঙ্কন শফিকউল্লাহ সহ বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতারা।


ক্যান্টারবারি ব্যাংকসটাউন সিটি কাউন্সিলের মেয়র খাল আসফর বলেন, “কাউন্সিলের আজকে একটি গর্বের দিন কেননা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের এই দিনটিতেই আমার কাউন্সিলে স্মৃতিসৌধটি অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে পেরেছি।”


অস্ট্রেলিয়ার ফেডারেল এম পি টনি বার্ক বলেন, “‌পৃথিবীর অনেক দেশ থেকে প্রতি বছরই মাতৃভাষা হারিয়ে যাচ্ছে এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেও আদিবাসীদের শতধিক মাতৃভাষা হারিয়ে গিয়েছে। ১৯৫২ সালের তৎকালীন পাকিস্তান সরকারের চাপিয়ে দেয়া ভাষার বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তান জেগে উঠে তাদের ভাষা রক্ষার জন্য। বহু সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে বাংলা ভাষাকে রক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষরা। আর সেই কথা স্মরণ করেই আজ পৃথিবী জুড়ে ২১ শে ফেব্রুয়ারি পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস।”


বাংলাদেশী কাউন্সিলর মোহাম্মদ হুদা বলেন, “আজকে আমি কাউন্সিলর হিসেবে নিজেকে খুবই ধন্য মনে করছি আমাদের বাংলাদেশ কমিউনিটির তথা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের জন্য একটি স্মৃতিসৌধ করতে পেরেছি কাউন্সিলের সহায়তায়। আমি বিশেষ ভাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ডিজাইন, অর্থ সংগ্রহ এবং কমিউনিটির অন্যান্য সংগঠনের প্রতিটি সদস্যকে যারা আমাকে সবসময় উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন।”


এ সময় তিনি তাঁর পুরো কাজের অকৃত্তিম সহযোদ্ধা টিটো শাহে জামান, স্মৃতিসৌধের প্রাথমিক ধারনার জন্য মুনীর হোসেইনকে, আব্দুল্লাহ আল নোমান শামিম, লিঙ্কন শফিকুল্লাহকে ধন্যবাদ জানান।


বাংলাদেশ হাই কমিশনের সিডনির কনসোলেট জেনারেল খন্দকার মাসুদুল আলম বলেন,” আজ আমার অহংকার লাগছে সেই ২১ শে ফেব্রুয়ারী এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসেবে পৃথিবীতে স্বীকৃতি পেয়েছে এবং অস্ট্রেলিয়ার মতো দেশে সরকারি ভাবে আরও একটি মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন করার মধ্য দিয়ে ।”


ফারিয়া নাজিম ও অমিয়া মতিনের সাথে সমবেত কণ্ঠে “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী”গানটি গেয়ে ভাষা শহীদদের স্বরণ করেন উপস্থিত সবাই। ডাঃ তানভীর, রেমন্ড সোলেমন, কানিতার অনবদ্য আয়োজনও কাউন্সিলর হুদা উল্লেখ করেছেন।


আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ উদ্বোধন শেষে পুস্পস্তবক অর্পন করেন ফেডারেল এমপি টনি বার্ক। পিল পার্কের নতুন এ মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধটির নকশায় একজন মা ও ডানে–বাঁয়ে তাঁর দুই সন্তানকে আগলে রেখেছেন এবং ওপরে বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা সাদৃশ্য প্রতীক রয়েছে। ম্যুরালটির পেঁছনে রয়েছে পাঁচটি ভাষায় লেখা একটি বিবৃতি। সেটি হলো: মাতৃভাষা আমাদের স্বত্বার অংশ। মায়ের ভাষাকে নিজে ধারন করুন এবং আপনার সন্তানদের মাঝে ছড়িয়ে দিন। মাতৃভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে লেখায়, পড়ায় এবং বলায় এর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করুন।


এর আগে স্থানীয় প্রবাসীদের উদ্যোগে একটি গালা ডিনারে বাংলাদেশিরা প্রায় ৪৩ হাজার ডলার সংগ্রহ করে কাউন্সিল তহবিলে দিয়েছে। সেই হিসেবে এই ম্যুরালটির সঙ্গে বাঙালি কমিউনিটির ওতপ্রোত অবদান রয়েছে।


এর আগে ২০০৬ সালে সিডনির অ্যাশফিল্ড পার্কে বাংলাদেশিদের উদ্যোগে প্রথম আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা স্মৃতিসৌধ নির্মিত হয়। সেই থেকে সেখানেই প্রতি বছর ফেব্রুয়ারিতে বইমেলা এবং একুশের অনুষ্ঠান হয়ে আসছিলো।


বিবার্তা/এনকে

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com