
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃ্ষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে আটক করার প্রতিবাদে ঢাকার শাহবাগে সনাতনীরা বিক্ষোভে নামলেও তাদের ধাওয়া দিয়ে সরিয়ে দিয়েছে একদল মানুষ।
সনাতন সম্প্রদায়ের অভিযোগ, তাদের ওপর লাঠি-সোটা হাতে হামলা চালিয়েছে রাজনৈতিক কর্মীরা।
এই ঘটনার প্রতিবাদে ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাশের মুক্তি দাবিতে আরেকটি দল মিন্টো রোডে ডিবি কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। বিক্ষোভ হয়েছে চট্টগ্রাম, রংপুর, ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতেও।
সোমবার বিকেলে চিন্ময় দাশকে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জতিক বিমানবন্দর থেকে আটকের পর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে শাহবাগে বিক্ষোভ শুরু করেন সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন।
এ সময় কিছু সময়ের জন্য শাহবাগ মোড় হয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর একদল মানুষ তাদেরকে ধাওয়া দিলে বিক্ষোভকারীরা শাহবাগ থেকে সরে টিএসসি হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের দিকে চলে যায়।
ঢাকা মহানগর পুলিশ- ডিএমপির রমনা বিভাগের উপকমিশনার মাসুদ আলম বলেন, “সনাতন ধর্মের দুই থেকে আড়াইশ লোক শাহবাগে জড়ো হয়েছিল। ‘সাধারণ জনগণ’ তাদেরকে সরিয়ে দিয়েছে।”
তবে চিন্ময় দাশের ব্যক্তিগত সচিব আদিপুরুষ শ্যামদাশের অভিযোগ, ‘সাধারণ জনগণ নয়’, লাঠিসোঁটা হাতে কিছু রাজনৈতিক কর্মী তাদের ওপর হামলা চালায়।
তিনি বলেন, “কোন জনগণ লাঠিসোঁটা নিয়ে এভাবে রক্তাক্ত করতে পারে, এগুলো আপনারা খতিয়ে দেখেন। আমরা তো সেখানে লাঠিসোঁটা নিয়ে যাইনি।”
পুলিশ চিন্ময় দাশের সর্বশেষ অবস্থান নিয়ে তাদের কোনো তথ্য দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন আদিপুরুষ শ্যামদাশ।
তবে এর আগে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার রেজাউল করিম মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, চিন্ময় দাশকে বিমানবন্দর থেকে আটক করে মিন্টো রোডে নিয়ে আসা হয়েছে।
মিন্টো রোডে বিক্ষোভকারীরা ‘জয় শ্রীরাম’ বলে স্লোগান দিচ্ছিলেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভক্ত বলেন, “প্রয়োজনে জীবন দেব, তবুও উনাকে (চিন্ময়) মুক্ত করে ছাড়ব। আমরা আছি ডিবি কার্যলয়ের সামনে, প্রশাসন বাধ্য হবে ছেড়ে দিতে। চিন্ময় বাবু আটক কেন সেটা আমাদের জবাব দিতে হবে।”
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর হিন্দুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃ্ষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারী নানা কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন। সোমবার তাকে ঢাকায় আটক করে গোয়েন্দা পুলিশ।
গত ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশব্যাপী সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার প্রতিবাদে আট দফা দাবিতে সনাতনী সম্প্রদায়ের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়ে আসছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ।
গত ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদিঘী মাঠে জনসভার পর ৩০ অক্টোবর রাতে তাকেসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের কোতয়ালী থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়।
এই মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে ঢাকায় লংমার্চের ঘোষণাও দিয়েছিল সনাতনী জাগরণ মঞ্চ। পরে সেই কর্মসূচি স্থগিত করা হয়।
বিবার্তা/এসবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]