অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না মেধা’র
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:৪৫
অর্থাভাবে চিকিৎসা হচ্ছে না মেধা’র
হিলি(দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলার বৈগ্রাম গ্রামের ১০ বছরের মেধা মনিকে নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাবা ইলিয়াস আলী ও মা মেহের বানু। শিশু কন্যাটির যত বয়স বাড়ছে ততই চিন্তা ভাবনা বাড়ছে হতদরিদ্র এই বাবা-মায়ের। অর্থের অভাবে উন্নত চিকিৎসা করতে পারছেন না তারা শিশুটির।


জানা গেছে, প্রায় ৬ বছর আগে মেধার বয়স তখন ৪ বছর। মায়ের কোলে বসে মেধা মায়ের বুকের দুধ পান করছিলো। এমন সময় প্রতিবেশী একজন মহিলা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তাদের শরীরে গরম দুধ ছুড়ে ফেলে। গরম দুধে মেধা মনির কচি শরীরের ডান পাশের কান থেকে কোমড় পর্যন্ত ঝলসে যায়। পরে হিলি হাসপাতালে শিশুটিকে ভর্তি করে। দীর্ঘদিন চলে তার চিকিৎসা। তার চিকিৎসায় সংসারে যা ছিলো তা সব শেষ করেন হতদরিদ্র দিনমজুর বাবা ইলিয়াস আলী। চিকিৎসায় শরীরের ঘা শুকিয়ে গেলেও ক্ষত স্থানগুলো শক্ত ও জড়ো হয়ে গেছে, তবে শিশুটির বর্তমান ক্ষত স্থানেগুলোতে জ্বালা-যন্ত্রনা করে। কোমড় থেকে গলা আর গালে বিকট আকার ধারণ করেছে। চিকিৎসক বলেছেন, উন্নত চিকিৎসার মাধ্যমে মেধার ক্ষত স্থানগুলো স্বাভাবিক হবে, প্লাস্টার সার্জারি করতে হবে। তবে এটি ব্যয় বহুল চিকিৎসা।


বাবা ইলিয়াস আলী একজন দিনমজুর, মানুষের বাড়িতে দিনহাজরা হিসেবে কাজ করেন। দিন শেষে যা মজুরি পান তা দিয়ে কোন রকম চলে তাদের সংসার। সংসারে ইলিয়াস আলী দুই মেয়ে, মেধা মনি ছোট এবং বড় মেয়ে সাবিনা। সাবিনা বগুড়ায় নার্সিংয়ে লেখাপড়া করে। দিনমজুর বাবা একবুক আশা আর স্বপ্ন নিয়ে বড় মেয়েকে নার্সিং করাচ্ছেন। খেয়ে না খেয়ে তারা সাবিনার লেখাপড়ার খরচ জোগাড় করেন।


এদিকে ছোট মেয়ে মেধার শরীরের বড় সমস্যা, মেয়ে মানুষ, বড় হবে, তাকে ভবিষ্যতে বিয়ে শাদী দিতে হবে। এমন শারীরিক অবস্থা থাকলে পরবর্তীতে শিশুকন্যা মেধা মনির কি হবে? এমন নানান চিন্তায় আর হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন বাবা-মা। উন্নত চিকিৎসার জন্য মেয়েকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আনতে প্রয়োজন অনেক টাকা। এতো টাকা কোথায় পাবে মা বাবা। তাই সন্তানের জন্য তারা, সরকার আর দেশের স্বহৃদয়বান মানুষের কাছে সাহায্যের জন্য হাত বাড়িয়েছেন। আসুন আমরা যে যার স্থান থেকে পারি এই অসহায় শিশুকন্যাটি সাহায্য করি।


শিশুটির মা মেহের বানু বলেন, আমরা গরীব মানুষ। স্বামীর রোজগারে বড় মেয়ের লেখাপড়ার খরচের পাশাপাশি কোন রকম আমাদের সংসার চলে। তার উপর ছোট মেয়ের সেই দুর্ঘটনায় তার শরীর ঝলসে যায়। তার চিকিৎসায় সব শেষ হয়ে গেছে। মেয়ে আমার বড় হচ্ছে, তাকে নিয়ে আমাদের চিন্তা ভাবনা আরো বাড়ছে। তাকে ভাল করতে হলো উন্নত চিকিৎসা করাতে হবে। তার জন্য এতো টাকা কোথায় পাবো। তাই সবার কাছে আমি আমার সন্তানের জন্য সাহায্য চাচ্ছি।


মেধার বাবা ইলিয়াস আলী বলেন, গরীবের যত বিপদ, বড় মেয়ে লেখাপড়া আর ছোট মেয়ে চিকিৎসা। আমি একজন দিনমজুর দিনে ২০০ থেকে ২৫০ টাকা হাজিরা পাই। তা দিয়ে কোনটা করবো?


নার্সিংয়ে পড়ুয়া বড় মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, গরীবের ঘরে জন্ম নেয়াটাই অভিশাপ! অর্থের অভাবে আমার ছোট বোনের চিকিৎসা করতে পারছেন বাবা-মা। বাড়িতে আমিও বসে আছি কলেজও খুলেছে। ছোট বোনটাকে নিয়ে আমর পরিবারের সবাই চিন্তিত। আমার বাবা সামান্য একজন দিনমজুর, তার উপার্জনে কোন রকমে আমরা চলি। সব মিলে আমাদের সংসারে আজ নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো। তাই সরকার সহ দেশের বিত্তবানদের নিকট আমার আকুল আবেদন দয়া করে আমার বোনটার পাশে আপনারা একটু দাঁড়ান।


মেধার সাথে যোগাযোগের জন্য ফোন নং- ০১৭৮৫০৩০৬২৮।


বিবার্তা/রব্বানী/ইমরান

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com