নিরাপত্তাহীনতায় রাবি প্রফেসর ড. সুজিত সরকার
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২১, ১৬:০১
নিরাপত্তাহীনতায় রাবি প্রফেসর ড. সুজিত সরকার
ফাইল ছবি
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরকার সুজিত কুমারকে (সুজিত সরকার) হত্যার হুমকি দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তিনি রাজশাহীর বোয়ালিয়া থানায় একটি জিডি করেছেন। জিডি নং-২৪৫৯।


জিডিতে উল্লেখ করা হয়, প্রফেসর ড. সরকার সুজিত কুমার রাজশাহী সিটি করপোরেশেনের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কুমারপাড়া এলাকায় বাসবাস করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে চারটি গ্রন্থ রচনা করেন। এরমধ্যে একটিতে নাটোর জেলার ইতিহাস ঐতিহ্য ও মুক্তিযুদ্ধ অন্যতম। এই গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। পরের বছর ২০১০ সালে গ্রন্থটি প্রথম সংস্করণ প্রকাশিত হয়। দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় ২০২১ সালের বই মেলায়। ওই গ্রন্থে নাটোর সদর আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের পিতার নাম একাত্তরের রাজাকারের তালিকায় স্থান পায়। গ্রন্থের প্রথম প্রকাশের ৩১০ পৃষ্ঠা, প্রথম সংস্করণের ৩৬১ পৃষ্ঠা এবং দ্বিতীয় সংস্করণের ৬০০ পৃষ্ঠায় রাজাকার হাসান আলীর নাম মুদ্রিত হয়েছে।মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ ও স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম মাঠ পর্যায়ে তিন বছর যোগাযোগ করে নাটোর জেলার গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে সাক্ষাৎকার নিয়ে, ছবি তুলে গ্রন্থ অসংখ্যা তথ্য সন্নিবেশ করেছি।


তিনি জিডিতে আরো উল্লেখ করেন, সাক্ষাৎকারদাতারা যদি ভুল তথ্য নিয়ে থাকেন সে বিষয়েও যাচাই-বাছাই করেছি। একাধিক সাক্ষাৎকারদাতা নাটোর কান্দিভিটার (পুরাতন কোর্টপাড়া) হাসান আলী একাত্তের মুক্তিযুদ্ধেও সময় একজন কুখ্যাত রাজাকার ছিলো বলে তথ্য নিয়েছেন। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে গ্রন্থে নাম সংযোজন করা হয়েছে একাধিক ব্যক্তি কারো বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করতে পারেন না। তাই হাসান আলী সরদারের নাম গ্রন্থে মুদ্রণ করা হয়েছে বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।


কিন্তু বর্তমানে নাটোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ গঠন নিয়ে নিজেদের মধ্যে দ্বিধা-দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হওয়াতে মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষের নেতাকর্মীরা আমার গ্রন্থের কথা উল্লেখ করছেন। এ সময় সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলের পিতার স্বাধীনতা বিরোধী ভুমিকার কথা স্মরণ করা হচ্ছে। এতে সংসদ সদস্য শিমুল আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রচনা করে হুমকি দিচ্ছেন।


জিডিতে আরো বলা হয়, গ্রন্থটি প্রথম প্রকাশিত হয় ২০০৯ সালে। তখন হাসান আলীর নাম রাজাকারের তালিকাভুক্ত করা হলেও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা লেখকের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের হুমকি দেয়া হয়নি।



তিনি বলেন, আমি কখনো সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম শিমুলকে দেখেনি। তার সাথে আমার পরিচয় নেই। তিনিও আমাকে চিনেন না। হাসান আলী যে এমপি মহোদয়ের পিতা সেটাও ২০২১ সাল পর্যন্ত আমার অজান ছিলো। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যখন দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে একটি শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করানোর জন্য দিনরাত কাজ করছেন; ঠিক সেই সময় কিছু ব্যক্তি সরকারি দলে অবস্থান নিয়ে তাদের স্বার্থ সংরক্ষনে ব্যস্ত বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।


এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রবিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বোয়ালিয়া থানার এসআই ও জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা নাহিম বিবার্তাকে বলেন, বিষয়টি তদন্ত শুরু হয়েছে। তদন্তের পর বিস্তারিত জানা যাবে। তবে বোয়ালিয়া থানার ওসি নিবারণ চন্দ্র বর্মণের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেনি।


বিবার্তা/খলিলুর/বিদ্যুৎ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

পদ্মা লাইফ টাওয়ার (লেভেল -১১)

১১৫, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ,

বাংলামোটর, ঢাকা- ১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com