এমসি কলেজে গণধর্ষণের বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী সেই তরুণী
প্রকাশ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, ১৮:২৯
এমসি কলেজে গণধর্ষণের বর্ণনা দিলেন ভুক্তভোগী সেই তরুণী
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

সিলেট এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে ধর্ষণের শিকার তরুণী (২০) তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বর্ণনা দিয়েছেন আদালতে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা দেড়টার দিকে সিলেট মহানগর হাকিম তৃতীয় আদালতের বিচারক শারমিন খানম নিলার কাছে উপস্থিত হয়ে তিনি ২২ ধারায় ঘটনার জবানবন্দি দেন। এ সময় ওই তরুণীর সঙ্গে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহপরান থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য ও তার স্বামী উপস্থিত ছিলেন।


ঘটনার শুরু শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিলেটের ১২৮ বছরের পুরোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরারি চাঁদ (এমসি) কলেজের ফটকের সামনে থেকে। ফটকের ভেতরের মাঠে অনেকে বেড়াতে যান। শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই দম্পতিও সেখানে বেড়াতে গিয়েছিলেন। রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন সিগারেট কিনতে। ফিরে এসে দেখেন, স্ত্রীকে উত্ত্যক্ত করছেন কয়েকজন তরুণ। স্বামী প্রতিবাদ করলে মারধর করে তাদের দুজনকে গাড়িসহ জোর করে তুলে নিয়ে যান ওই তরুণেরা।


এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে একেবারে শেষ প্রান্তে ( সেভেন ব্লক নামে পরিচিত এই হলটি) নেয়ার পর স্বামীকে একটা স্থানে আটকে রাখেন তারা। তরুণীকে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। ঘণ্টাখানেক পর স্বামীকে ছেড়ে দিয়ে দুর্বৃত্তরা এলাকা ত্যাগ করে।


এরপর এ ঘটনায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মোট নয়জনের বিরুদ্ধে ওই তরুণীর স্বামী শাহপরান থানায় মামলা করেন। মামলায় যে ছয়জনের নাম উল্লেখ করেছেন, তারা সবাই ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত। এই ছয়জন হলেন সাইফুর রহমান (২৮), তারেকুল ইসলাম ওরফে তারেক আহমদ (২৮), শাহ মাহবুবুর রহমান ওরফে রনি (২৫), অর্জুন লস্কর (২৫), রবিউল ইসলাম (২৫) ও মাহফুজুর রহমান ওরফে মাসুম (২৫)। এর মধ্যে প্রধান আসামি সাইফুর রহমান ও অর্জুন লস্করকে রবিবার গ্রেফতার করা হয়েছে। সাইফুরকে সুনামগঞ্জের ছাতক থেকে এবং অর্জুনকে হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করা হয়।


পুলিশ জানিয়েছে, শুক্রবার রাতে যে কক্ষের সামনে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে যে কক্ষটি ‘ছাত্রলীগের দখল করা কক্ষ’ হিসেবে পরিচিত। করোনাকালে কলেজ বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ছাত্রাবাসটিতে অবস্থান করছিলেন ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিরা। পরে শনিবার পুলিশ ওই কক্ষে অভিযান চালিয়ে একটি পাইপগান, চারটি রামদা ও দুটি লোহার পাইপ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই কক্ষে ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি ছাত্রলীগের কর্মী সাইফুর থাকতেন। তাকে একমাত্র আসামি করে অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে।


এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সিলেটের এমসি কলেজের ঘটনায় সরকার কঠোর অবস্থানে।


তিনি বলেন, দেশে আইন নিজস্ব গতিতে চলছে। বিচার বিভাগের ওপর সরকারের কোন হস্তক্ষেপ নেই। দেশের মানুষ দেখেছে নিজ দলের সমর্থক কিংবা নেতারাও অপরাধী হলে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধা দেয়নি। এমসি কলেজের ঘটনায়ও শেখ হাসিনার সরকার কঠোর অবস্থানে। অপরাধী যেই হোক ছাড় পাবে না।


বিবার্তা/আবদাল

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com