সৌদি থেকে লাশ ফিরতেই ৯ মাস
শুকিয়ে গেছে স্বজনদের চোখের জল
প্রকাশ : ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ২০:২১
সৌদি থেকে লাশ ফিরতেই ৯ মাস
ফাইল ছবি
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

মৃত্যুর ৯ মাস পর সৌদি আরব থেকে বৃহস্পতিবার (১৩ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আব্দুর রহিমের লাশ পৌঁছায় নিজ বাড়িতে। সেখানে এক হৃদয় বিদারক পরিবেশের সৃষ্টি হয়। স্বজন হারানোর কষ্টে আপনজনদের চোখের জল শুকিয়ে গেছে।


টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার বড়বাজু পাথাইলকান্দি গ্রামের মৃত নসকর আলীর ছেলে আব্দুর রহিম (৫২)। তিনি জীবিকার তাগিদে প্রায় ১৭ বছর আগে সৌদি আরবের জেদ্দায় যান। দেশে আসতেন কয়েক বছর পরপর। ৩ মেয়ে নিয়ে স্ত্রী লিলি বেগম স্বাভাবিকভাবেই জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু ২০১৯ সালের ১৭ মে সিলিন্ডার বিস্ফোরনে কর্মক্ষেত্রে আব্দুর রহিম মারা যান।


নিহত আব্দুর রহিমের মেয়ের জামাতা নাহিদ সরকার বলেন, মারা যাওয়ার দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষার পর আমরা ওনার লাশ ফিরে পেয়েছি। তিনি যেখানে কাজ করতেন সেখান থেকে কোন আর্থিক সাহায্য-সহযোগিতা পাই নাই। তদুপরি লাশ ফিরে পেতে দূতাবাসসহ বিভিন্নস্থানে যোগাযোগ করতে আমাদের ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।


আব্দুর রহিমের বড় মেয়ে সাবিনা আক্তার পপি গাজীপুরের একটি গামের্ন্টস কারখানায় কাজ করেন। মেঝ মেয়ে পলি খাতুন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স পাশ করেছেন এবং ছোট মেয়ে গৃহিনী। পুরো পরিবারের দেখভাল এবং দায়িত্ব ছিল তার উপরই।


লাশ ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিলাপ করতে করতে বলছেন এমন ভাগ্য যেন আর কারো কপালে না জুটে। তাদের দাবি সরকারের মাধ্যমে যদি কিছুটা আর্থিক সাহায্য কিংবা ক্ষতিপূরণ পাওয়া যেত, তাহলে তাদের অনেক উপকার হতো।


এ বিষয়ে কালিহাতীর সল্লা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল আলীম বলেন, পরিবারের আর্থিক দূরাবস্থা কাটাতে কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুর রহিম সৌদি আরবে যান। তিনি মারা যাওয়ায় পরিবারের সদস্যরা এখন দিশেহারা। সরকার কিংবা কর্মকালীন সৌদি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আর্থিক সাহায্য পেলে পরিবারটা বাঁচতে পারবে।


বিবার্তা/তোফাজ্জল/এনকে

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com