ভাত কতটা উপকারী?
প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর ২০২০, ১৯:৪৮
ভাত কতটা উপকারী?
অনামিকা রায়
প্রিন্ট অ-অ+

এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদের খুব ঠাটবাট। সুস্বাস্থ্যের কথা চিন্তা না করে অতিরিক্ত মাত্রায় ফিগার সচেতন আমরা। বাড়তি মেদ যখন জানান দেয় বিপদের, তখনই তা ঝরিয়ে ফেলার জন্য অতিমাত্রায় সতর্ক হয়ে উঠি আমরা। বাদ চলে যায় ভাত। কঠিন ও কঠোর ডায়েটে অভ্যস্ত হতে চাই প্রথম থেকেই। শরীরের ফ্যাট পোড়ানোর জন্য যে সব প্রচলিত উপায় আমরা জানি, সে সবের প্রয়োগও করতে থাকি পর পর।


কিন্তু মুশকিল হলো, নিজেদের ইচ্ছামতো ডায়েট বাছতে গিয়ে বিপদ বাড়ান অনেকেই। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ না নিয়ে ডায়েট বাছতে গিয়ে শরীরে ক্যালোরির প্রয়োজনীয়তা বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। ভাত বাদ দিয়ে হয়তো বাছেন এমন কোনো সিরিয়াল যা শরীরের পক্ষে ক্ষতিকর। তাই ডায়েট বাছার আগে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেয়া খুব জরুরি।


পুষ্টিবিদদের মতে ভাত খুবই নিরীহ খাবার। প্যাকেটজাত সিরিয়ালগুলোর চেয়ে অনেক গুণে ভাল। ভাতকে বলে ‘ফ্রি ফুড’। কারণ এতে সোডিয়াম, কোলেস্টেরল, গ্লুটেন ইত্যাদি ক্ষতিকর উপাদান থাকে না। চর্বি থাকেই না প্রায়৷ বিশেষ করে ট্রান্স ফ্যাট, যা খেলে কোলেস্টেরল বাড়ার আশঙ্কা থাকে৷ স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে না। বরং থাকে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট বা স্টার্চ, শরীরকে শক্তি জোগাতে যার বিরাট ভূমিকা। ফাইবারের উপস্থিতিও পেটের সমস্যা কমাতে, ওজন–সুগার–রক্তচাপ বশে রাখতে যার ভূমিকা আছে। ভাত খেলে মেদ জমার যে ধারণা রয়েছে তাতেও রয়েছে ভাবনার অনেক গলদ। ভাত যদি নিয়ম মেনে খাওয়া যায়, তা হলে তা থেকে শরীরে মেদ জমে না তেমন। মূলত ভাতের গ্লাইকোজেন সহজে গলে না বলেই ভাত এড়িয়ে চলেন অনেকে, নিয়ম মানলে সে ভয়ও কাটে।


ভাতের উপকার


ভাতে রয়েছে স্টার্চ, শরীরকে শক্তি জোগাতে যার বিরাট ভূমিকা। আছে ফাইবার, পেটের সমস্যা কমাতে, ওজন–সুগার–রক্তচাপ বশে রাখতে যার ভূমিকা আছে।


ভাত সহজে হজম হয়। ফলে জ্বর, পেটের গোলমাল বা অন্য অসুখ–বিসুখের মধ্যেও খেতে পারেন। ডায়াবেটিসেও সে ব্রাত্য নয়। ফাইবারসমৃদ্ধ শাক–সবজি–স্যালাড, ডাল, মাছ ইত্যাদি থাকলে এক–আধ কাপ ভাত খাওয়া যেতে পারে।


ভাত হজম হয় ধীরে, হোল গ্রেইন চালের হলে আরও ধীরে। ফলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। তা ছাড়া ভাত খেলে সেরেটোনিন নামে হরমোনের ক্ষরণ বাড়ে বলে অল্প খেলেও শরীর–মন তৃপ্ত থাকে। ভুলভাল খাবারের প্রতি আকাঙ্ক্ষা কম জাগে।


ভাতে রয়েছে প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিন–মিনারেল। বিভিন্ন খাবারের সঙ্গে মিলিয়ে–মিশিয়ে খেলে সে উপকার আরো বাড়ে। ডাল–তরকারির সঙ্গে লেবু মিশিয়ে খেলে পাওয়া যায় প্রচুর আয়রন। তবে এত উপকার পেতে গেলে ভাত রান্না করতে হয় সঠিকভাবে।


ভাত রান্নার নিয়ম


চাল বেশি ধুলে ভিটামিন বি-র অনেকটা জলের সঙ্গে বেরিয়ে যায়। কাজেই দু–এক বারের বেশি চাল ধোবেন না।


চাল ভিজিয়ে রেখে ওই জলেই কম আঁচে ঢাকা দিয়ে রান্না করুন। এমন মাপে জল দিন যাতে ফ্যান ফেলতে না হয়। তাহলে ভিটামিন–মিনারেলরা ভাতের মধ্যেই থেকে যাবে। ফুটন্ত জলে ভেজানো চাল দিয়েও রাঁধতে পারেন। চাল নরম হয়ে গেলে আঁচ বন্ধ করে ঢাকা দিয়ে রাখুন। বাকিটা ভাপেই হয়ে যাবে। প্রেশার কুকারেও রান্না করা যায়।


ভাপে রাখা ভাত যত ধীরে ধীরে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসে ততই তার মধ্যে থাকা স্টার্চ রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চে পরিণত হয় ও সেই ভাত খেলে অল্পেই পেট ভরে যায় বলে ওজন কমে। কিছু ক্যানসারের আশঙ্কাও কমে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।


ভাত ঘুম ও ওজনবৃদ্ধি করে


কাজের সময় ভাত খেলে ঘুম পায় বলে যে জনশ্রুতি. আছে, তা অমূলক। সকালে ভাল করে কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে ও দুপুরে পেট খানিকটা খালি রেখে ভাত খেলে খুব একটা ঘুম পায় না, যদি না রাতে ঘুমের সমস্যা হয়ে থাকে। দ্বিতীয় কথা হলো, ঘুম পেলেও কোনো ক্ষতি নেই। কারণ দুপুরে ভাত খেয়ে ১৫–৩০ মিনিট ঘুমোলে ওজন তো বাড়েই না বরং দিনের দ্বিতীয়ভাগে কাজে উৎসাহ বাড়ে। করোনা–কালে হাতে একটু বেশি সময় থাকলে তা ঘুমিয়ে উসুল করতে পারেন।


বিবার্তা/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com