ইনফো্ডেমিকঃ করোনাকালের আরেক চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয় [দ্বিতীয় পর্ব]
প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২০, ১৮:৪৫
ইনফো্ডেমিকঃ করোনাকালের আরেক চ্যালেঞ্জ ও আমাদের করণীয় [দ্বিতীয় পর্ব]
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

প্রবন্ধটির প্রথম পর্বে ইনফোডেমিক কি? কিভাবে ছড়ায়? কিভাবে এটি তার অন্তর্নিহিত বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য (যেমন: মিস-ইনফরমেশন, ডিস-ইনফরমেশন, রং-ইনফরমেশন, ফেইক-ইনফরমেশন ও ইনফরমেশন হাইডিং) দ্বারা মানুষের মনকে নানানভাবে বিভ্রান্ত করছে? এসব নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে। প্রথম পর্বের লিংক: https://www.bbarta24.net/reader-mail/124221


এখন দেখা যাক ইনফোডেমিক থেকে আত্মরক্ষা করতে হলে আমাদের কী করতে হবে। শুরুতেই একটা কথা বলে রাখা দরকার। ইনফোডেমিককে পুরোপুরি পরাস্ত করার কোনো উপায় নেই। ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার মতো এর সঙ্গেই আমাদের বসবাস করতে হবে। আমরা পারমানবিক শক্তির সফল পরীক্ষা, হাইড্রোজেন বোমা, নিউক্লিয়ার পাওয়ার তৈরীতে সক্ষম, চাঁদের দেশে নভোচারী, পাতাল ফুঁড়ে সাবমেরিন, মহাকাশ ভেদ করে স্যাটেলাইট পাঠাতে পারদর্শী। রিমোট কন্ট্রোল দ্বারা নিয়ন্ত্রিত ড্রোনের আঘাতে ২০ হাজার মাইল থেকে কাশেম সুলেমানীকে হত্যা করতে সক্ষম। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় এ/আই, রোবোটিকস কতকিছুই না তৈরী করলাম! মানব সভ্যতা ধ্বংস করতে আরো কত মারনাস্ত্র প্রতিনিয়ত বানিয়ে চলছি। ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করে এসব বাস্তবায়নে বাজেট ঘোষণা করছি। অথচ মহামারী থেকে বাঁচতে আমরা কি করেছি এতকাল? গোটা পৃথিবী আজ অসহায়।


দেশে দেশে স্বাস্থ্যখাতের অব্যবস্থাপনা প্রমান করে পুরো মানবতা বাঁচাতে কতটা সভ্য হয়েছি আমরা? করোনা মোকাবেলায় আমেরিকা আর বাংলাদেশের চিত্র মোটামুটি একই। বরং ক্ষেত্রবিশেষে বাংলাদেশ ওসব উন্নত বিশ্বের চেয়ে এগিয়ে আছে। আর এই এগিয়ে থাকার প্রাকৃতিক বা সামাজিক কারণ যাই হোক, এদেশের মানুষ এখনো অনেক সাহস আর বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েই করোনা মোকাবেলা করে চলছে। শুধু প্যান্ডামিকের সাথেই এদের যুদ্ধ করতে হচ্ছে না। লড়ে যেতে হচ্ছে ইনফোডেমিক এর সাথেও। কিন্তু ঠেকানো যাচ্ছে কি ইনফোডেমিক? প্যান্ডামিক থেকে বাঁচতে যেমন ভ্যাকসিনের বিকল্প নেই, তেমনি ইনফোডেমিক থেকে বাঁচতে সঠিক তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। আর সেই সঠিক তথ্য পেতে ইনফরমেশন লিটারেসী সম্পর্কে ন্যূনতম জ্ঞান থাকা একান্ত বাঞ্ছনীয়।


করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন দ্রুত আবিষ্কারের লক্ষ্যে এর জিনোম সিকোয়েন্স এর রহস্য জানা যেমন জরুরি, অনুরুপ, ইনফোডেমিক থেকে রক্ষা পেতে এর উৎস জানা তেমনই জরুরি। নইলে গোটা বিশ্বে আমরা একটি হুজুগে জাতি হিসেবে পরিগনিত হব। ইনফোডেমিক থেকে বাঁচতে অন-লাইনের এই যুগে যে ছয়টি পদ্ধতি বিশ্লেষণ করে প্রকাশ করেছে গ্লোবাল ইনভেস্টিগেটিভ জার্নালিজম নেটওয়ার্ক সেগুলো হলোঃ


১). ছবিতে কারসাজিঃ গুগুল রিভার্স সার্চ এর মত টুল ব্যবহার করে সহজে ছবিতে কারসাজি যাচাই করা যায়। তবে অনেক ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। তাই ‘টিআই’ নামের আরেক ধরনের রিভার্স টুল ব্যবহার করা যেতে পারে। বাইডু, ইয়ান্ডেক্স, ও ফটোফরেন্সিক ওয়েবসাইটের এরোর লেভেল বিশ্লেষণ করে ছবির এডিট করা অংশটি শনাক্ত করা সম্ভব।


২). ফেব্রিকেটেড ভিডিওঃ এই ধাপে রয়েছে গভীরভাবে ভিডিও পর্যবেক্ষণ এবং আসল ভিডিও খুঁজে বের করা। ভুয়া ভিডিও শনাক্তকরণের জন্য ‘ইউটিউব ডেটা ভিউয়ার’ নামের ওয়েবসাইট থেকে সাহায্য নেয়া যেতে পারে। বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম যেমন টুইটার, ফেসবুক, ইউটিউব, ইনষ্টাগ্রাম, ভিডিও ডেইলী মোশন, লাইভলিংক, স্ন্যাপচ্যাট, ড্রপবক্স বা ওএলএক্সের নামে ভূয়া বা এডিটকৃত ভিডিও যাচাইয়ের জন্য ইনভিউ রিভার্স সার্চটুল বা প্ল্যাগইন ব্যবহার করা যেতে পারে। গুগুল ম্যাপস, গুগুল ষ্ট্রীট ভিউ অপশনগুলো ব্যবহার করে ভিডিওর সত্যতা যাচাই করা সম্ভব। আবার সত্যের বিকৃতি শনাক্তকরণের জন্য গুগুল এ্যাডভান্স সার্চ ব্যবহার করা যেতে পারে।


৩). সত্যের বিকৃত উপস্থাপনঃ বিভ্রান্তিকর শিরোনামের দিকে নজর রাখা এবং স্বীকৃত তথ্যের আকারে তথ্য উপস্থাপন করা৷ বিকৃত বা কাল্পনিক তথ্য এবং সত্য এড়িয়ে যাওয়ার প্রবনতা লক্ষ্য করা।


৪). নকল ও কাল্পনিক বিশেষজ্ঞ দ্বারা ভূয়া বক্তব্য প্রদানঃ উপস্থাপকের উপস্থাপনার ধরণ লক্ষ্য করতে হবে। বিষয়ের ওপর তার কর্তৃত্ব কতটুকু তা যাচাই করতে হবে।


৫). গন-মাধ্যমের অপব্যবহারঃ মূলধারার গন-মাধ্যম উদ্ধৃত করে মিথ্যা দাবী কিনা তা যাচাই করতে হবে।


৬). তথ্য বিকৃতিঃ গবেষণা-পদ্ধতি, প্রশ্ন, ব্যবহারকারী ইত্যাদি বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।


গুজব প্রতিরোধে ফেসবুক ফিল্টারিং অত্যাবশ্যক। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে যে টুইটারে গুজব অন্য সব মাধ্যমের চেয়ে ৬ (ছয়) গুন বেশী দ্রুত ছড়ায় এবং বেশী শেয়ার হয়। এর কারন টুইটারে ব্যবহারকারী বেশি ও বিশ্বব্যাপী সেলিব্রিটিদের অধিকাংশদের আইডি টুইটারে। পশ্চিমা বিশ্বে টুইটারে গুজব বেশী ছড়ালেও দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোতে ফেসবুকে বেশি গুজব ছড়ায়। গবেষকেরা এ ধরনের নেতিবাচক প্রবণতাকে 'ডিসাস্টার ওয়ার্ড’ হিসেবে দেখছেন। তাছাড়া ভূয়া আইডি খুলে ফেসবুকে বিভ্রান্তি ছড়ানো একটি অতি স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সঠিক মনিটরিং ও রেগুলার ফেসবুক ফিল্টারিং এর মাধ্যমে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়া যায়। এছাড়াও ‘ফেসবুকপিউরিটি সফটওয়্যার’ এর টেক্সট ফিল্টার এক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক। যদিও বাংলাদশে এখনো ফেসবুক ফিল্টারিং করার প্রযুক্তি খুবই অপ্রতুল এবং ফেসবুক নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাতেই থাকছে ফিল্টারিং এর আসল কর্তৃত্ব।


এছাড়াও যেকোনো বিবেক-বুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ নিম্নলিখিত ছয়টি প্যারামিটার বিবেচনায় নিয়ে অতি সহজেই তথ্যের সত্যতা নিরুপন করতে পারেন যেমনঃ তথ্যের কোয়ালিটি, কন্টেন্ট, ভাষা, কাঠামো, উৎস ও জীবনকাল। আবার ভূয়া ভিডিও সনাক্তকরণের কিছু নীতিমালা রয়েছে যেমন ভিডিওটির ফরম্যাট কি রকম? এর পরিধি কতটুকু? ভিডিওটিতে ক্রেডিট দেয়া রয়েছে কিনা? উপস্থাপকের সুনাম সম্পর্কে আপনি অবগত কিনা? সমজাতীয় কাজের সাথে ভিডিও মেকারের কতদিনের সম্পর্ক? ভিডিওতে তথ্যের বিন্যাসপদ্ধতি ও উপস্থাপনা কি রকম? সবশেষে দেখুন এটির কোনো সাবস্ক্রিপশন ফি চাওয়া হয়েছে কিনা? এসব বিবেচনায় নিয়ে একজন লেম্যান ভিউয়ারও অতি সহজে ভিডিওটির যথার্থতা যাচাই-বাছাই করতে পারেন।দরকার শুধু একটু সময় নিয়ে ভাবার।


অতএব ইনফোডেমিকের সঙ্গে সুপ্রতিবেশীর মতো বসবাসের কায়দাকানুনগুলো আমাদের আয়ত্ত করা একান্ত দরকার। ইনফোডেমিককে নিয়ন্ত্রণ করার প্রথম এবং প্রধান অস্ত্র হচ্ছে ইনফরমেশন লিটারেসী (তথ্য সাক্ষরতা)। এটি কী? তথ্য সাক্ষরতা আসলে একক কোনো কৌশল বা দক্ষতা নয়, এটি হচ্ছে একাধিক দক্ষতার সুষম সমন্বয়। মার্কিন আইনজীবী এবং মেধাস্বত্ত্ব ও কপিরাইট বিশেষজ্ঞ পলজারকোওস্কি ১৯৭৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের National Commission on Libraries and Information Science-এর এক প্রতিবেদনে প্রথম ‘তথ্য সাক্ষরতা’ শব্দটি ব্যবহার করেন।


যেসব ব্যক্তি সমস্যা সমাধানের উদ্দেশ্যে তথ্যকে ব্যবহারের প্রয়োজনে প্রাথমিক উৎস হিসেবে নানা ধরনের তথ্য উপকরণ ব্যবহারে সমর্থ হবে তাদেরকে ‘তথ্য সাক্ষর’ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তথ্য সাক্ষরতাকে একটি ব্যাপকভিত্তিক অন্বয় বা umbrella term হিসেবে গণ্য করা হয় যাতে তথ্যের প্রয়োজন উপলব্ধি করা থেকে শুরু করে তথ্যকে সমস্যা সমাধানে কার্যকরভাবে ব্যবহার পর্যন্ত কয়েকটি কাজ ক্রমান্বয়ে সম্পৃক্ত আছে। কাজেই তথ্যসাক্ষর বলে গণ্য হতে হলে একজন ব্যক্তির (ক). তথ্যের চাহিদা থাকতে হবে; (খ). তথ্য কীভাবে খুঁজে বের করতে হবে তা জানতে হবে; (গ). তথ্য অনুসন্ধানের ফল মূল্যায়নের কৌশল জানতে হবে; (ঘ). সমস্যা সমাধান ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে এই ফল কীভাবে প্রয়োগ করতে হবে তা জানতে হবে; (ঙ). দায়িত্বশীলতার সাথে ও নৈতিক মানদন্ড অনুসরণ করে তথ্য ব্যবহারের সক্ষমতা থাকতে হবে; (চ). অন্যের সাথে তথ্য বিনিময় বা অংশনের পদ্ধতি জানতে হবে, এবং (ছ). তথ্য অনুসন্ধানের ফল ব্যবস্থাপনার উপায় জানতে হবে।


প্যান্ডামিক বলে কয়ে আসে না। এর জন্য মানুষের আগাম কোনো পূর্ব-প্রস্তুতিও থাকে না। তবে কভিড-১৯ চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে পড়ার পর সমগ্র বিশ্ব কয়েক সপ্তাহ সময় পেয়েছিল। তখন কেউ এর ভয়াবহতা বুঝে উঠতে পারেনি। না বুঝে অনেকেই এটি নিয়ে ট্রল করেছে। আর এসবের সূত্র ধরেই মিডিয়ায় করোনা ইনফোডেমিক ঘটে যায়।এই ইনফোডেমিকের মাত্রা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে তথ্যের সত্যমিথ্যা যাচাই করা একজন গবেষকের পক্ষেও এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। করোনাভাইরাস নিয়ে এখনো প্রতিদিন প্রতিনিয়ত নানান গুজব, তথ্য লুকানো, ভূল তথ্য পরিবেশনা একটি রেওয়াজে পরিনত হয়েছে। নেপথ্যে কাজ করছে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের মতাদর্শ, দর্শন বা বলয়ের প্রভাব। কেউ বা আবার সামাজিকভাবে যেন হেয় প্রতিপন্ন না হোন সেজন্য তথ্য গোপন করে ‘করোনা পজিটিভ’ নিয়েও সবখানে ঘুড়ে বেড়াচ্ছেন। ফলে ভয়াবহভাবে বাড়ছে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন। এর ফলে জনমনে বাড়ছে ভয় যা মানসিক স্বাস্থ্যে কঠিন আঘাত হানছে। ভেংগে দিচ্ছে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। দুর্বল করে দিচ্ছে আমাদের ইমিউন সিষ্টেমকে। তাই পরিহার করতে হবে গুজব। বাড়াতে হবে সচেতনতা। মানতে হবে সকল স্বাস্থ্যবিধি।


তথ্য-মহামারি বা ইনফোডেমিককে নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিহত করার জন্য তথ্য সাক্ষরতা সম্পর্কে যথাযথভাবে জানান একান্ত প্রয়োজন। কারণ সত্যিকার অর্থে তথ্য সাক্ষর একজন ব্যক্তিই কেবল জানেন কীভাবে তথ্যের পাহাড় ডিঙিয়ে প্রয়োজনীয় ও প্রাসঙ্গিক তথ্যগুলো খুঁজে পেতে হবে। নিজের প্রয়োজনের নিরিখে সেগুলো মূল্যায়ন করতে হবে এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে হবে। এ কারণেই বিশ্বব্যাপী তথ্য সাক্ষরতা শিক্ষার পেছনে বিপুল অর্থ ও সময় বিনিয়োগ করা হচ্ছে। কারণ উন্নত দেশগুলো বহু আগেই বুঝতে পেরেছিল যে আমরা একদিন তথ্যের বিশাল পাহাড়ের নিচে চাপা পড়তে যাচ্ছি। তথ্যের বিশাল বিস্ফোরণ তথা ইনফোডেমিককে বোঝানোর জন্য একটি পরিসংখ্যান প্রায়ই দেয়া হয়ে থাকে, তা হলো-এ মুহূর্তে পৃথিবীতে যত তথ্য আছে তার নব্বই ভাগই সৃষ্টি হয়েছে গত দুই বছরে।


বাকি দশ শতাংশের মধ্যে আছে বিশ্ব ইতিহাসের সূচনাপর্ব থেকে শুরু করে দু-বছর আগ পর্যন্ত যত তথ্য জমেছে সেগুলো। এ থেকেই তথ্য বিস্ফোরণের প্রকৃতি ও পরিধি সম্বন্ধে ধারণা পাওয়া যায়। আমরা মনে করি, প্রাথমিক পর্যায় থেকে শুরু করে শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত তথ্য সাক্ষরতাকে পাঠক্রমে স্থান করে দেয়ার সময় এসেছে, যাতে করে শৈশবকাল থেকেই তথ্য সাক্ষরতার মৌলিক কৌশলগুলো আয়ত্ত করতে পারে আগামীদিনের নাগরিকেরা। আমরা প্রায়ই বলে থাকি আমরা তথ্যসমাজের বাসিন্দা। তথ্যসমাজের বাসিন্দারা যদি তথ্যের সঠিক ব্যবস্থাপনা ও তথ্য সাক্ষরতার সাহায্যে ইনফোডেমিককে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন তাহলে ‘তথ্যসমাজ’ কথাটি নেহাতই একটি গালভরা বুলি হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে পাঠক্রমে ডাটা লিটাররেসী (Data Literacy), মেটালিটারেসি(Meta-Literacy), মাল্টিলিটারেসি(Multi-Literacy), ট্রান্সলিটারেসি(Trans-Literacy), গ্লোবাল কমপিটেন্সি/লিটারেসি(Global Competency/Literacy)-এসবকেও স্থান করে দিতে হবে। আর তাহলেই আমরা হতে পারব বৈশ্বিক তথ্যসমাজের যোগ্য নাগরিক।


একটি কথা সবসময়ই মনে রাখা দরকার, ইনফোডেমিক কোনো নিয়মনীতি মেনে চলে না। এর গতিপ্রকৃতি সরলরেখা নয়, বরং শাখা-প্রশাখায় পরিপূর্ণ বুনো গাছের মতো। এর মধ্যে আছে সঠিক তথ্য, ভুল তথ্য (ইচ্ছা বা অনিচ্ছায় দেয়া) এবং গুজব। এসব হচ্ছে ইনফোডেমিক নামের গাছটির ডালপালা। অতএব, তথ্য সাক্ষরতার পাশাপাশি প্রতি মুহূর্তে সক্রিয়, সচেতন ও সজাগ থাকা, তথ্যপ্রযুক্তির উপকরণগুলোকে আয়ত্তে আনা, নতুন নতুন প্রযুক্তি ও কৌশলের সঙ্গে পরিচিত হওয়া এসবই হচ্ছে ইনফোডেমিককে নিয়ন্ত্রণ করার উপায়।


সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা একটি কথা প্রায়ই বলেন, ভাইরাসকে আমাদের আগে যেতে দেয়া যাবে না। আমাদের নিজেদের থাকতে হবে ভাইরাসের আগে। ইনফোডেমিকের ক্ষেত্রেও একই কথা বলতে হবে। ইনফোডেমিককে আমার ওপর চেপে বসতে দেয়া যাবে না। সবসময় চেষ্টা করতে হবে এটি যাতে আমার নিয়ন্ত্রণে থাকে। সে চেষ্টায় কখনো আমরা সফল হব, কখনও ব্যর্থ। কিন্ত ইনফোডেমিক আমাকে নিয়ন্ত্রণ করবে, এটি কখনোই হতে দেয়া যাবে না। কারণ সেটি হবে মানবজাতির জন্য অত্যন্ত বিপর্যয়কর।


লেখকদ্বয়ঃ প্রফেসর ড. মো: নাসিরউদ্দিন মিতুল, ডিন, স্নাতকপূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রফেসর ড. কাজী মোস্তাক গাউসুল হক, চেয়ারম্যান, তথ্যবিজ্ঞান ও গ্রন্থাগার ব্যবস্থাপনা বিভাগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।


(তথ্যসূত্রঃ প্যান্ডামিক, ইনফোডেমিক ও ইকোডেমিক: ত্রিসংকটে করণীয় (https://www.bbarta24.net/reader-mail/118588)(https://www.who.int/emergencies/diseases/novel-coronavirus-2019) www.techjury.net/, www.techjury.net, BusinessInsider.com, Statista.com, Hubspot.com, www.techjury.net)


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com