ফেসবুক সমাচার : একটি রম্য রচনা (পর্ব-২)
প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর ২০২০, ১৯:১৫
ফেসবুক সমাচার : একটি রম্য রচনা (পর্ব-২)
প্রফেসর ড. মো. নাসির উদ্দীন মিতুল
প্রিন্ট অ-অ+

ফেসবুকে প্রথম ক্যাটাগরির সাধারণ দর্শক বা সিম্পল ভিউয়ারদের সঙ্গে প্রফেসরদের আচরণের মিল খুঁজে পাবেন। ফেসবুকে যারা সাধারণ ভিউয়ার অর্থাৎ সবকিছু শুধু ভিউ করেন তাদের কোনো ভূমিকা বা চিহ্ন কি কখনো আপনার চোখে ধরা পড়ে? আপনি কি জানতে পারেন ক’জনা আপনার পোস্টটি ভিউ করেছে? আপনি কি অনুমান করতে পারেন, কত রথী-মহারথী আপনার সুখের পোস্টটি দেখে ঈষৎ হেসেছে আবার দুঃখের পোস্ট দেখে মন খারাপ করে দ্রুত ড্রপডাউন করে এড়িয়ে গেছে? অথচ তারা আছেন এবং আপনি যে পোস্টটি-ই দেন না কেন, তাদের মতন একটি বৃহৎ ইন্টেলেকচুয়াল গোষ্ঠী বিবেচনায় নিয়েই কিন্তু পোষ্টটি আপনাকে দিতে হয়।


উদাহরণ হিসেবে ধরুন-ফেসবুকে আপনি কোনো একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন দিবেন। আপনার টার্গেট গ্রুপ কিন্তু আলাদা। অথচ আপনার প্রোফাইলের ফ্রেন্ড-লিস্টে থাকা থাকা সকলে এবং আপনার ফলোয়াররা প্রত্যেকে কিন্তু আপনার এ পোস্টটি দেখতে পাবে। এখানে সাধারণ ওয়াচারগণ লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার কিছুই করেন না। একনজর দেখে বিজ্ঞ প্রফেসরের মতন একটু মুচকি হাসি দিয়ে ড্রপ-ডাউন করে চলে যান। যেমনটা তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে করেন। প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার কোনো বালাই নেই তাদের। অথচ বাইরে কন্সাল্টেন্সী, প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠদান, শেয়ারের ব্যবসা সবই তারা করে বেড়ান। অবশ্য যারা বই লেখাবা নানান গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন তাদের বিষয়টি আলাদা।


বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল তথ্যই তাদের নজরে আসে। কিন্তু তা এড়িয়ে চলে যান। অথচ এদের নজর কাড়তেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী ও জুনিয়র লেকচারারগণ সদা তটস্থ থাকেন। চিন্তায় থাকে তাদের সান্নিধ্য ছাড়া কি করে গড়বেন ক্যারিয়ার? কখনো গল্পচ্ছলে যদি জানান দেন যে, হুম, ‘ফেসবুকে তোমার লেখাটি দেখলাম’। আপনিতো ধন্য। আর যদি কোনো কারণে সেলিব্রেটি কোনো প্রফেসর চেতনে বা অবচেতনে আপনার পোষ্টে একখান লাইক দিয়েই ফেলেন তাহলে তো আর কথাই নেই। ওটাই যেন আপনার একমাত্র সেলিং পয়েন্ট হয়ে দাঁড়ায় তখন। অনেকটা ব্রাজিলের মডেল নাতালিয়া গ্যারিবোত্তো এর মতো। আপনিও তখন বলবেন, ‘যেহেতু পোপের আশীর্বাদ পেয়েছি, এবার অন্তত আমি স্বর্গে যাব। আমায় আর ঠ্যাকায় কে’?


প্রসঙ্গত সম্প্রতি নাতালিয়া গ্যারিবোত্তো নামের এক মডেলের স্বল্পবসনা ছবিতে পোপ ফ্রান্সিসের অফিসিয়াল ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইক দেয়া হয়। লাইক দেয়ার পরে ছবিটি আনলাইক করা হয়। তবে গত ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত মডেলের ওই পোস্টে পোপের লাইক দৃশ্যমান ছিল যা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। এ নিয়ে শুরু হয় বিশ্বজুড়ে তোলপাড়। অতএব, প্রথম ক্যাটাগরির সাথে প্রফেসরদের আচরণগত মিল খুঁজে পাওয়ার বিষয়টি অনেকটা প্রমানিত। তুলনা করতে গিয়ে বলেছিলাম ‘প্রফেসররা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেনইনা’। মিলিয়ে দেখুন বিশ্ববিদ্যালয়ে না আসার মতো ফেসবুকেও তাদের উপস্থিতি দৃষ্টির অগোচরেই থেকে যায় কিনা? অথচ উভয় ক্ষেত্রে তারাই সবচেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ। আর তাদের নজর কাড়তেই আপনার যত প্রয়াস।


দ্বিতীয় ক্যাটাগরি প্রসঙ্গে আসা যাক। বলেছিলাম ‘এসোসিয়েট প্রফেসরগণ পড়েন না, পড়ান ও না’। কিন্তু তারা প্রতিদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন। তিনি যে আসেন তার প্রমান রেখে যান লাউঞ্জে, বিভিন্ন সভায়, আড্ডায়, লাইব্রেরিতে, ল্যাবরেটরিতে। রাজনীতির মাঠে তারা খুব তৎপর। জুনিয়রদের সামনে প্রতিদিন চেহারা দেখাতে হবেই কারণ সামনে শিক্ষক সমিতি, ডিন, সিন্ডিকেট, সিনেট ইলেকশন রয়েছে না? একদম বিচ্ছিন্ন হওয়া যাবে না। হালকা একটু উঁকি মেরে নিজের অবস্থান জানানো অতিব জরুরি। কে চায় এরকম সোনালী সময়ে মনোনয়ন থেকে বাদ পড়তে? তাই মাঠ ধরে রাখতে হবে। ইচ্ছে করছে না তবুও ফেসবুকে শুধু লাইক/রিএ্যাকশন ব্যক্ত করে হলেও জানান দিতে হবে যে, আমি কিন্তু আছি তোমার সনে বাপু! মাঠ ধরে রাখার এটা একটা দারুণ কৌশল। অর্থাৎ, দ্বিতীয় ক্যাটাগরির দর্শকগন পোস্টে কমেন্ট বা শেয়ার করেন না। সম্পর্ক ধরে রাখতে তারা শুধু লাইক বা রিঅ্যাকশন ব্যক্ত করেন। যেমনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের এসোসিয়েট প্রফেসরগণ পড়েন না, পড়ানও না। কিন্তু নিয়মিত বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন, উঁকিঝুঁকি মারেন। সবার সঙ্গে হাই-হ্যালো করেন। মাঠ ধরে রাখতে তাই ফেস-টু-ফেস দেখা হলে যেমনি হালকা-পাতলা আলাপ করেন, তেমনি ফেসবুকেও শুধু লাইক, রিএ্যাকশন এর মধ্য দিয়েই সম্পর্কটা ধরে রাখেন।


আসা যাক তৃতীয় ক্যাটাগরিতে। ফেসবুকে এ গ্রুপ কি করেন তা পূর্বেই বর্ণনা করেছি। মিলিয়ে দেখা যাক, এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরদের সঙ্গে এদের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের মিল কোথায়? আগেই বলেছি, ‘এসিস্ট্যান্ট প্রফেসরগণ পড়েন না তবে পড়ান’। ঠিক যেমনটি ধরুন ফেসবুকে ওনারা কোনো পোস্ট পেলে সম্পর্কের ওপর ভিত্তি করে পুরোটা না পড়লেও ছোট্ট একটি কমেন্ট রেখে যান। যাতে আপনি খুশীতে গদগদ হয়ে ভাবেন, উনি হয়তো আপনার প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী। জিজ্ঞেস করলে বলবেন, সবটা পড়তে পারিনি, তবে প্রথম লাইনটা দারুণ লেগেছে, তাই কমেন্টস না করে থাকতে পারিনি। সম্পর্কের দিক থেকে এরা আপনার অতি আপন। তাই এদের রেসপন্স না পেলে আপনি নিজেও ব্যথিত হন। অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘এসিস্ট্যান্ট প্রফেসর’দের মত। তবে উনারা কিন্তু পাঠদানে বেশ পারদর্শী। সবার সাথে সুন্দর সম্পর্ক রাখতে তটস্থ। উচ্চতর ডিগ্রি, রাজনীতি এবং ভবিষ্যতের কথা ভেবে সম্পর্কটা ঝালাইয়ের কাজে সর্বদা নিবেদিত। ক্লাসের প্রস্ততি নেয়ার সময় কৈ তার? তাই ছাত্রজীবন ও প্রভাষককালীন কষ্টে করা নোট দিয়ে ক্লাসের পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যান এবং ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তার রেখে যাওয়া কমেন্টস এর মতোই শ্রেণিকক্ষে গতানুগতিক লার্নিং ডেলিভারি দেন। যেখানে কোনো ইনোভেশন থাকে না। এ জাতীয় পাঠদানে সিলেবাস সমাপ্ত করা যায় ঠিকই, কিন্তু নতুন কিছু বের হয় না । তবে এরা বেশ উদ্যমী বিধায় সম্পর্ক ধরে রাখতে সক্ষম।


চতুর্থ ক্যাটাগরির উদাহরণটি বেশ মজার। ফেসবুকে এ গ্রুপটি কমেন্টস করেই ক্ষান্ত হন না। শেয়ারও করেন। এরাই হলো আসলে ফেসবুকের চালিকাশক্তি এবং যে ক’জনা আপনার পোস্টটিতে কমেন্টস ও শেয়ার করবেন তারাই আপনার আত্মার পরমাত্মীয় বনে যান। এ ক্যাটাগরির আচরণ অনেকটা বিশ্ববিদ্যালয়ের লেকচারারের মতো। যারা পড়েন ও পড়ান। বিশ্ববিদ্যালয়কে ভাইব্রেন্ট রাখতে এদের প্রচেষ্টা চোখে পড়ার মত। শিক্ষার্থীদের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নে সদা সচেষ্ট লেকচারারগণ সবকিছুই ভালো ভাবে পড়েন। নিজের ক্যারিয়ার গড়তে কোনো কিছুই ড্রপডাউন করে এড়িয়ে যান না। তার প্রমান হিসেবে ক্লাসের পূর্বপ্রস্তুতি নেয়া থেকে শুরু করে ভাল ডেলিভারি শেয়ার করা তাদের অন্যতম টার্গেট থাকে। সেজন্য ফেসবুকেও এদের কমেন্টস ও শেয়ার করার মাধ্যামে সরব উপস্থিতি চোখে পড়ে। অতএব, ফেসবুকের ৪র্থ ক্যাটাগরীর সাথে লেকচারের তুলনা করাটা যৌক্তিক বলেই আমি মনে করি।


এ গ্রুপের অনেকের অধিকতর জনপ্রিয়তা কখনো কখনো তাদেরকে সোশ্যাল মিডিয়ায় সেলিব্রেটি করে তোলে। প্রয়াশঃই এমন ঘটে যে, এজীবিনে কোনোদিন কারো দেখা হয়নি অথচ ফেসবুকে তারা জনম-জনমের বন্ধু। আবার ফেসবুকের মাধ্যমে আপনার এত পরিচিতি যে, ভাইভা বোর্ডে এসে সাক্ষাৎকার প্রার্থী বলেই ফেলতে পারেন, ‘স্যার আপনি আমার ফেসবুক ফ্রেন্ড। বোর্ডে ফেভার না করলেও একথা শুনে মনটা আপনার একটু নরম হবে। চোখের চাহনিতে ঈষৎ পরিবর্তন আসবে। এটাই স্বাভাবিক। এমন অনেক উদাহরণতো চোখের সামনে দেখতে পাই যে, আপনি ভাল শিক্ষক, গবেষক, আমলা, মন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, খেলোয়াড় যাই হোন না কেন, অনেক বিখ্যাত হওয়া সত্ত্বেও শুধু ফেসবুক আইডি না থাকার কারণে আপনার প্রচার যথাযথ হচ্ছে না। ফেসবুক আইডি নাই কেন? জিজ্ঞেস করলে যা উত্তর দেন তাতে মনে হয় যারা ফেস বুক চালান, তারা অথর্ব, অকর্মা ও অপদার্থ। কোন কাজই এদের নেই। ভাব নিতে গিয়ে মন্তব্য জুড়ে দেন, ‘ওসব ফেসবুক-টেসবুক আমি করি না বাপু, তোমাদের কোনো কাজ নেই, তোমরা করো ওসব। সময় কৈ আমার?’ অথচ সেই আপনি আজ যখন প্রচারের দরকার হলো তখন খুঁজে নিচ্ছেন অধঃস্তন কারো প্লাটফর্ম। কাঙ্ক্ষিত সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারছেন না। অথচ অন্তরে তীব্র বাসনা লালন করছেন যেনো আপনার সুকীর্তির কথা সবাই জানে। আপনার সম্পর্কে যেন পাবলিক পারসেপশন ধনাত্বক হয়। মুখে না বললেও আপনি ভালো করেই জানেন যে, ব্যক্তির সুখ ও সাফল্যের ঘটনাগুলোকে দ্রুত বিশ্বময় ছড়িয়ে দিতেই সম্ভবত সর্বোত্তম ব্যবহার ঘটে ফেসবুকের। সেকেন্ড সময়ের মধ্যে আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ব্যক্তি, দেশ-মহাদেশ ছাড়িয়ে উত্তর মেরু থেকে দক্ষিণ মেরুতে স্পর্শ করে। কখনোবা এর ব্যবহার হয় সুখ দুঃখ ভাগের আশায়, আবার কখনোবা ব্যবহৃত হয় রাজনৈতিক হীন স্বার্থে। সেই বাসনা থেকে অধঃস্তন কারো প্লাটফর্ম ভাড়া চাইতেও আপনি দ্বিধা করেন না। ইনিয়ে-বিনিয়ে তাকে অনুরোধ করেন যেন আপনার বিষয়ে তার প্লাটফর্ম থেকে পোষ্টটি দেয়া হয়। এই ক্যাটাগরির ব্যক্তিদের সে রকম অনেক পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।


ফেসবুক এখন এক মহাকাব্য। কি নেই এতে? এর মাধ্যমে একজন নাস্তিক যেমন তার ফলোয়ার বাড়াতে সচেষ্ট, ঠিক তেমনি একজন বকধার্মিকও সেই চেষ্টায় সদা তটস্থ থাকেন। এখানে সুন্দরী সুপার মডেলরা যেমনি নিত্য নতুন বসন-ভূষণ আপলোড করে বিক্রি বাড়াতে ব্যস্ত; তেমনি কেউ কেউ আবার সেলফিশের মতো শুধুই সেলফিতে নিমজ্জিত। শুধু ধর্ম, পন্য আর সেলফি প্রচারই বা বলছি কেন? সমাজকর্মীদের প্রতিবাদের ভাষাও সরব হয়ে উঠে ফেসবুকে। একথা অনস্বীকার্য যে, বর্তমান সময়ে দেশে-বিদেশে সামাজিক বহু আন্দোলনের মূলভিত্তি হল ফেসবুক। সাহিত্যচর্চা-কাব্যচর্চার মত সৃষ্টিশীলতা-সংবেদনশীলতার প্রয়াসও চলে ফেসবুকে। ফেসবুকের মধ্য দিয়ে বহিঃপ্রকাশ ঘটে ব্যক্তির রুচি, সংস্কৃতি ও ব্যক্তিত্বের। ভার্চুয়াল জগত হওয়ার কারণে এখানে নেই সামাজিক অনুশাসন। নেই বিধি-বিধান। আর এই সুযোগের অপব্যবহার করে ফেসবুকের সুন্দর পরিবেশকে কলুষিত করছে কতিপয় অদৃশ্য দুষ্টূ লোক। যেমন ‘নাবালককে প্রেম দাও’, ‘আমিই জেমস বন্ড’, ‘কুয়াশার মাঝে আমায় খোঁজো’, ট্রাম্প এখন ঢাকায়’, ‘শয়তানের দল’, ‘৪২০’ এরকম অদ্ভুত নামের লাখো ভুয়া অ্যাকাউন্টের ছড়াছড়ি এখন ফেসবুকে। দয়া করে এসব বন্ধ করুন। জানেনতো ফেসবুকের মাধ্যমে নিজের স্বচ্ছ চিন্তাভাবনা অন্যদের কাছে তুলে ধরার সুযোগ অপরিসীম। সামাজিক এই যোগাযোগ মাধ্যমকে কাজে লাগিয়ে অনেকে নিজেদের ভাগ্যও পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছেন। তাই আসুন, খারাপটুকু বর্জন করে শুধু ভালোটুকু গ্রহণ করি। ভুয়া আইডি খুলে গুজব ও ভুয়া তথ্য প্রচার থেকে ফেসবুককে রক্ষা করি। নিজেকে সচেতন করার মাধ্যমে দেশ ও জাতিকে অপপ্রচারের হাত থেকে বাঁচাই।


লেখক : ডিন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/জাই


সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com