হাজিয়া সোফিয়া: গির্জা থেকে মসজিদ। রুপান্তর কি জরুরী?
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২০, ১৯:৪৩
হাজিয়া সোফিয়া: গির্জা থেকে মসজিদ। রুপান্তর কি জরুরী?
কামরুজ্জামান
প্রিন্ট অ-অ+

তুরস্কে অবস্থিত,ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ তালিকাভুক্ত, ১৫০০ বছরের পুরোনো এ স্থাপনাটি মূলত একটি বৃহৎ গির্জা ছিল। পরে এটিকে মসজিদ এবং আরো পরে ১৯৩০ এর দশকে যাদুঘর বানানো হয় । তুরস্কের আদালত অনুমোদন দিলে এটি আবার মসজিদে পরিণত হবে।


৫৩২ সালে এটি নির্মিত হয়েছিল, যেসময় শহরটি কনস্টান্টিনোপল নামে পরিচিত ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী ছিল। হাজিয়া সোফিয়া প্রায় ৯০০ বছর ধরে পূর্ব অর্থোডক্স চার্চের কেন্দ্র হিসেবে ছিল।


১৪৫৩ সালে মুসলিম শাসক, অটোমান সাম্রাজ্যের দ্বিতীয় সুলতান মেহেমেদের অধীনে এটি সংস্কার ও মসজিদে রূপান্তরিত হয়। এরপর ১৯৩৫ সালে তুরস্কের প্রতিষ্ঠাতা ও ধর্মনিরপেক্ষ প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক হাজিয়া সোফিয়াকে যাদুঘরে পরিণত করার নির্দেশ দেন। এরপর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পর থেকে এটি তুরস্কের অন্যতম দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠে।


এখন ২০২০ সালে, সমগ্র বিশ্ব যখন মহামারীতে আক্রান্ত, তখন এটিকে আবার মসজিদে রূপান্তর করা কি জরুরী? যদি জরুরী হয় তবে কোন কারণে? মুসলমানের প্রতিটি কাজতো আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। মানুষের মধ্যে এখন কি কোনো ধরণের মানসিক চাপ বাড়ানোর সময়? আমাদের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা) সর্বদা শান্তিপূর্ণ পথ বেছে নিতেন। তিনি কখনো সংঘর্ষের পথ বেছে নিতেন না। শত্রুদের মন জয় করে তাদের নিজ দলে তথা ইসলামের ছায়া তলে নিয়ে আসতেন। আজকে মুসলিমগণ বিশ্বে মর্যাদা ও ক্ষমতার আসনে আসীন হতে চাইলে রাসুলের দেখানো পথ অনুসরণ করা ছাড়া সম্ভব নয়।



বিশ্ববাসীকে ভেতর থেকে,মানসিকভাবে পরিবর্তন করতে হবে সুন্দর ও শ্রেষ্ঠ আখলাক এর মাধ্যমে, যেমনটি আমাদের নবী শিক্ষা দিয়েছেন। যতক্ষন মুসলিমগণ মনে করবে যে,তাদের পক্ষে এটা সম্ভব নয় যে তারা এত সুন্দর আখলাকের অধিকারী হবে যে অন্যরা সেই চরিত্রের প্রতি মুগ্ধ হয়ে ইসলামের পথে আসবে, ততক্ষন বিজয়ও তাদের পক্ষে আসা সম্ভব নয়। যতক্ষন পর্যন্ত আমরা মুসলমানরা চরিত্রের দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন না পারবো ততক্ষন আল্লাহ আমাদেরকে বাদশাহী দান করবেন না। কিন্তু যদি আমরা ধৈর্যহারা হই এবং বল প্রয়োগের মাধ্যমে ইসলামকে এগিয়ে নিতে চাই এটা হবে চরম মাত্রার ভুল পদক্ষেপ।


আমরা এমন স্বপ্ন দেখতেই পারি যে,আমরা হোয়াইট হাউসকেও মসজিদ অথবা মুসলিম বাদশাহর বাসভবন বানাবো। তবে সেটি বলপ্রয়োগ বা মারনাস্ত্র প্রয়োগের মাধ্যমে সম্ভব নয়। বরং মানুষের ঐকান্তিক ভালবাসা ও আস্থা অর্জনের মাধ্যমে সম্ভব। যেভাবে মদীনাবাসী রাসুল (সা) কে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে গিয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠের সম্মতিতে মদীনার বাদশাহ বানিয়ে দিয়েছিলেন। আর যদি আমার মনে হয় যে, রাসুলের সেই পুরোনো পদ্ধতি বর্তমান যুগে সম্ভব নয় তাহলে বুঝতে হবে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা ও দর্শন অনুধাবনে ঘাটতি রয়েছে। কারণ রাসুলের আদর্শ যা আল্লাহর কিতাব থেকে নির্গত তা কখনো পুরোনো হতে পারে না। আল্লাহ আমাদের সবাইকে সঠিক বুঝ দান করুন ।


লেখক:সহকারি অধ্যাপক, ইসলামিক স্টাডিজ, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/আবদাল

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com