‘CSR’ নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
প্রকাশ : ২৭ জুন ২০২০, ২২:০৩
‘CSR’ নগর পুড়িলে দেবালয় কি এড়ায়?
মনজুরুল আমিন
প্রিন্ট অ-অ+

Corporate social responsibility তথা CSR একটি বহুল প্রচলিত শব্দ। বেশ ক বছর ধরে Corporate দুনিয়ায় প্রত্যেক বছর Corporate প্রতিষ্ঠানগুলো ঘটা করে CSR খাতে বাজেট প্রণয়ন করে এবং তা বিতরণের বা প্রদানের কাজটি মহাসমারোহ ঘটে থাকে। ঢাক ঢোল পিটিয়ে, রং বেরং এর ফেস্টুন টানিয়ে তা করা হয়। প্রত্যেক Corporate প্রতিষ্ঠানে এ সম্পর্কিত একটি আলাদা বিভাগই আছে। আবার কেন্দ্রীয়ভাবে তার সঠিকতা নিরুপনের জন্যে তদারকীর ব্যবস্থাও রয়েছে। বাংলাদেশের Corporate প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঝে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান, প্রাইভেট কোম্পানি, ব্যাংক ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান গুলো অগ্রগণ্য।


CSR কথাটি কোথা থেকে এলো একটু নজর দেয়া যাক। আপনি একটি Corporate প্রতিষ্ঠান ধরুন ইন্ড্রাস্টিজ কিংবা ফ্যাক্টরি চালান। আপনি ব্যবসা করতে গিয়ে এমন কিছু বিনিয়োগ করছেন বা অপারেশন চালাচ্ছেন, যা থেকে আপনার মুনাফা আসছে ঠিকই কিন্তু তা সবুজ পরিবেশকে ঝুকিতে ফেলে দিচ্ছে। আরো সহজে বললে আপনি ইট ভাটা কিংবা নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান তথা পারমানবিক চুল্লি স্থাপন করেছেন। বা এমন কোনো ভাইরাস বা জীবানু নিয়ে গবেষণা করছেন যার আউটব্রাস্ট হয়ে সমাজকে সংক্রমিত করছে। এ থেকে আউটপুট পাচ্ছি হয়তো তবে তা সবুজ পরিবেশকে চরমভাবে দূষিত করে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে আপনি এর দায় এড়াতে পারেন না। সেজন্যে আাপনি আর্ত মানবতার সেবায় CSR খাতে ব্যয় করছেন। পিছিয়ে পরা জনগোষ্ঠী কিংবা মূলধারার সেবার বাইরে আছে এমন সব জায়গায় CSR করে আপনি সমাজের দায় এড়াচ্ছেন। যা ইতোমধ্যেই খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছে।


আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান CSR খাতকে তার সমাজ সেবার হাতিয়ার হিসেবে নিয়ে দানবীর বনে যাচ্ছেন। সেখানে সেবা কতটা কার্যকর সেটা যতটা না মুখ্য, কাকে দিচ্ছেন, কে দিচ্ছেন মিডিয়াতে আসছে কিনা সেটাই মুখ্য ভূমিকা রাখছে। অস্বীকার করছিনা এতে হয়তো অনেক সমাজ সেবা হচ্ছে, তবে পরিবেশের যে ভারসাম্য বিনষ্ট হচ্ছে তা পোষাবার নয়। যদধরুন আমাদেরকে বয়ে বেড়াতে হচ্ছে অনেক অযাচিত সামাজিক ব্যধি যার বেশিরভাগই পরিবেশ দূষণের ফল।


Business Ethics মতে Honest and eco-friendly business itself a CSR. সৎ ও পরিবেশ বান্ধব ব্যবসা নিজেই একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচায়ক।


অথচ আমরা সে পথে হাটছিনা, আমরা হাটছি পরিবেশ ধ্বংস করে বিত্তশালী সমাজ গড়ার নেশায়। বিত্তশালী থেকে দানবীর হবার আশায়। সেদিক থেকে CSR গরু মেরে সেই গরুর চামড়া দিয়ে জুতা বানিয়ে গরুর মালিককে ক্ষতিপুরণ হিসাবে দেয়া সম


নোবেল পুরস্কারের জনক আলফ্রেড নোবেলের কথায় আসি। সুইডিশ এই বিজ্ঞানী একাধারে রসায়নবিদ, প্রকৌশলী ও উদ্ভাবক ছিলেন। তিনি ব্যালিস্টিক উদ্ভাবন করেন যা বিশ্বব্যাপী ধোয়াবিহীন সামরিক বিস্ফোরক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তিনি ৩৫৫টি উদ্ভাবনের মাধ্যমে প্রচুর ধন সম্পদের মালিক হন। তার উল্লেখযোগ্য আবিষ্কার ছিলো ডিনামাইট। এটি একটি বিস্ফোরক যা মূলত খনির বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হত। এর মাধ্যমে প্রচুর অর্থ উপার্জন হয়। কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রে এই ডিনামাইটের ব্যবহার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও প্রাণহানীর কারণ যা তাকে অনুতপ্ত ও পীড়িত করে। সে কারণে মৃত্যুর বছর খানেক আগে অর্জিত সমুদয় সম্পত্তি উইল করে যান মানবতার কল্যাণে যা পরবর্তীতে নোবেল পুরস্কারে রুপ নেয়। আমার কাছে এটি বড় রকমের CSR মনে হয়েছে তা থেকে বিশ্ব কতটা শিক্ষা নিয়েছে তা ভেবে দেখার বিষয়।


করোনা যুদ্ধ সমগ্র আধুনিক বিশ্বের জন্য বড় একটা শিক্ষা। জানিনা তা আমাদের বাংলাদেশের জন্য কতটা শিক্ষনীয় হয়ে নৈতিকতা জাগরুক করবে। এ অদৃশ্য ভাইরাস আমাদেরকে Green business ensure করে পৃথিবীকে পরিচালনে ভূমিকা রাখলে সেটাই হবে করোনার শিক্ষা। বোধ করি তেমন কিছুই হবে। নয়ত এ ধরাকে করোনা পরবর্তী আরো ভয়ংকর কিছুর জন্যই অপেক্ষা করতে বলবো। কেননা নগর পুড়িলে দেবালয় এড়ায় না। একদিন আমাদের পুড়তে হবেই। এখন যেমন দিনাতিপাত করছি করোনা আতংকে।


আসুন করোনায় মানবতার শিক্ষা নিয়ে নৈতিক বাণিজ্যের মাধ্যমে দেশ গড়ায় সরকারের পাশে দাঁড়িয়ে সত্যিকারের সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দিই।


লেখক: উপ-পরিচালক, বাংলাদেশ ব্যাংক।


বিবার্তা/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com