স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ!
প্রকাশ : ০৩ মে ২০২০, ২১:৫৯
স্বাস্থ্য সুরক্ষাই বড় চ্যালেঞ্জ!
শিহাব উদ্দিন
প্রিন্ট অ-অ+

প্রতিনিয়ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে বিশ্ব। বিভিন্ন সময়ে মহামারীর কবলে পড়ে বিপর্যস্ত হয়েছে জনজীবন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক স্বাস্থ্যমান নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এসব মহামারীতে বার বার স্থবির হয়ে পড়ছে বিশ্ব এবং মুখ থুবড়ে পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতি। মৃত্যুমুখে পতিত হচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। বর্তমানে করোনাভাইরাস প্রায় পুরোবিশ্বকে করেছে পরষ্পর বিচ্ছিন্ন। কার্যত অচল গ্লোবালাইজেশন ও তথ্যপ্রযুক্তির এই আধুনিক বিশ্ব। কিন্তু এমন সংক্রামক মহামারী নতুন কিছু নয়। এর ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। প্রাচীন যুগ থেকেই সংক্রামক রোগের অস্তিত্ব দেখা যায়। কালের সাক্ষী হিসেবে ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, কলেরা, কুষ্ঠ, প্লেগ, ইনফ্লুয়েঞ্জা, গুটিবসন্ত প্রভৃতি রোগ মহামারীর আকার নিয়েছে। এসব মহামারি বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির মোড় বদলে দিয়েছে। সামরিক খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতও বিশ্ব রাজনীতির বড় চালিকা শক্তি হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। তাই বর্তমান বিশ্বেও নেতৃত্বশালী দেশগুলো স্বাস্থ্য খাতে ব্যর্থ হলে বদলে যেতে পারে বিশ্বরাজনীতি।


যুগে যুগে মানবসভ্যতাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে মহামারী। ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার, উন্নত মানের সামরিক অস্ত্র কিংবা শিল্পপ্রযুক্তির দৌরাত্ম্য কোনো কিছুই বাঁচাতে পারেনি জনজীবন। পাল্টে গেছে বৈশ্বিক অবস্থা। মোড় নিয়েছে বিশ্বরাজনীতি। ওলট-পালট হয়েছে কর্তৃত্বের। প্রাচীনকাল থেকেই মহামারীর ধ্বংসযজ্ঞ লক্ষণীয়। ৫৪১ খ্রিষ্টাব্দে জাস্টিনিয়ান প্লেগ মহামারীতে মিসর, ফিলিস্তিন, বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্য, রোম ও ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে মারা গিয়েছিল প্রায় পাঁচ কোটি মানুষ। তখনকার হিসাবে এটি ছিল পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার ২৬ শতাংশ। ফলে ক্ষমতা থেকে পিছিয়ে পড়ে এই রাষ্ট্রগুলো। আবার ১৩৫০ সালে দ্য ব্ল্যাক ডেথ নামক মহামারীতে তৎকালীন সময়ে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশের মৃত্যু হয়েছিল। এই মহামারীর কারণে ওই সময়ে ইংল্যান্ড ও ফ্রান্সের মধ্যাকার যুদ্ধ থেমে যায়। ধসে পড়েছিল ব্রিটিশ সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থা। এরপর ১৬৬৫ সালে দ্য গ্রেট প্লেগ অব লন্ডন নামের মহামারীতে লন্ডনের মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের মৃত্যু হয়। পুরো পৃথিবীকে উপনিবেশ বানিয়ে রাখা ব্রিটেন দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে বিভিন্ন এলাকার কর্তৃত্ব চলে যায় ফ্রান্স ও অন্যান্য রাষ্ট্রের হাতে। পরবর্তীতে ১৭২০ সালে ‘গ্রেট প্লেগ অফ মার্সেই' এর প্রভাবে পৃথিবী জুড়ে একলাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পুরো পৃথিবীর শাসনকর্তা ইংল্যান্ডের সাথে লড়াই করা ফ্রান্সে ৪৫ বছরের জন্য কমে গিয়েছিল জন্মহার। ফলে ক্ষমতার দিক দিয়ে আরও একধাপ পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স। এরপর ১৮১৭ সালের প্রথম কলেরা মহামারীর শুরুটা হয়েছিল রাশিয়ায়। সেখানে এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। পরে তা ভারতীয় উপমহাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এতে এই অঞ্চলে ১০ লাখের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।


তবে ইতিহাসের প্রলয়ঙ্কারী মহামারী ঘটেছে বিগত শতাব্দীতে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক স্প্যানিশ ফ্লু নামক ভাইরাসের প্রভাবে বৈশ্বিকভাবে মৃতের সংখ্যা ছিল প্রায় ৫০ থেকে ১০০ মিলিয়ন, যা প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সম্মিলিত মৃতের সংখ্যার চেয়েও বেশি। ১৯২০ সালের মার্চে বিদায় নেয়ার আগে ব্রিটেনে ২ লাখ ৫০ হাজার, যুক্তরাষ্ট্রে ৬ লাখ ৭৫ হাজার, জাপানে ৪ লাখ এবং দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ সামোয়ার এক-পঞ্চমাংশ লোক মৃত্যুবরণ করেন। অথচ প্রথম বিশ্বযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা মারা গিয়েছিল মাত্র ১ লাখ ১৬ হাজারের মত। অর্থাৎ যুদ্ধে মৃত্যুর চেয়েও ছয় গুণ বেশি মারা গিয়েছিলো এই মহামারীতে। সেসময় সবচেয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল ভারতীয় উপমহাদেশে। ব্রিটিশ ভারতে মানুষের স্যানিটেশন ব্যবস্থা ছিল খুবই খারাপ পর্যায়ে। ফলে এখানে প্রায় ২ কোটি মানুষ মারা গিয়েছিল।


এছাড়াও ১৯৫৮ সালে এশিয়ান ফ্লুতে বিশ্বব্যাপী প্রায় ১১ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই মারা গিয়েছিল ১ লাখ ১৬ হাজার মানুষ। পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে এইডস প্রথমবারের মতো শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এএফপির দেয়া তথ্য মতে রোগ শনাক্তের পর থেকে এ পর্যন্ত এইডসে বিশ্বব্যাপী সাড়ে তিন কোটি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তাছাড়াও বিভিন্ন সময়ে সার্স, ইবোলা, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া, হেপাটাইটিস ইত্যাদি মহামারীর আকারে ছড়িয়েছে। পৃথিবী রূপ নিয়েছে মৃত্যুপূরীতে।


মহামারীগুলোর ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায় যে, ভারতবর্ষ স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে সবসময়ই পিছিয়ে। সেকারণেই ইউরোপ কিংবা আমেরিকা থেকে উৎপত্তি হওয়া মহামারীতেও বারবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এ উপমহাদেশ। আর এই সুযোগে ব্রিটিশ সরকার নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যুগের পর যুগ উপনিবেশ করে রেখেছে এই অঞ্চলকে। ফলে বিশ্বরাজনীতিতে কখনও সুবিধা করতে পারেনি এখানকার নেতারা। এশিয়ার অন্যান্য দেশের অবস্থাও একই। ইরান প্রথম দিকে ক্ষমতায় এগিয়ে থাকলেও ১৯১৮ সালে সঠিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে দেশটির শতকরা ৮ থেকে ২২ ভাগ মানুষ মারা যায়। একই কারণে স্প্যানিশ ফ্লুতে সবচেয়ে বেশি জীবনহানি ঘটেছে এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলোতে। এখানকার দেশগুলোতে মৃত্যুর হার ইউরোপের চেয়ে ৩০ গুণ বেশি ছিল। অথচ ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে এই হার ছিল সর্বনিম্ন। আর জীবন যাত্রার নিম্ন মান ও পর্যাপ্ত স্যানিটেশন সুবিধার অভাবে আফ্রিকার দেশগুলো বিশ্বরাজনীতি থেকে অনেক দূরে। বিভিন্ন সময়ে মহামারীর কবলে পড়ে প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে অঞ্চলটি।


বিশ্বরাজনীতিতে স্বাস্থ্য খাতের প্রভাব কতটা তা প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সমসাময়িক ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়। প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ছিল তুলনামূলক ছোট। কিন্তু ১৯১৭ সালের ৬ এপ্রিল মিত্রপক্ষে যোগ দেয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী শক্তিশালী হয়ে উঠে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় আসার সমূহ সম্ভাবনা দেখা যায়। কিন্তু সমসাময়িক ফ্লুতে দেশটির প্রায় লক্ষাধিক সৈন্য মারা যায়। পিছিয়ে পড়ে কর্তৃত্বের লড়াইয়ে।


বর্তমানে শিল্পপ্রযুক্তিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোই আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে শীর্ষ স্থান দখল করে আছে। আমেরিকা, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, চীন ইত্যাদি শিল্পোন্নত রাষ্ট্রগুলোই বর্তমানে বিশ্ব-মোড়ল। বিশ্ব নিয়ন্ত্রণের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে প্রতিটি দেশই সামরিক ও শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়িয়েই চলেছে। কিন্তু মহামারী থেকে বাঁচতে স্বাস্থ্য খাতে সে পরিমাণ জোর দিচ্ছেনা। বর্তমানে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের চিত্র লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, একমাত্র সুপার পাওয়ার আমেরিকার অবস্থা আশঙ্কাজনক। যুক্তরাজ্য, স্পেন, চীন, ইতালি, ফ্রান্স ইত্যাদি শিল্পোন্নত দেশের অবস্থাও ভয়াবহ। সর্বোচ্চ চেষ্টায়ও থামাতে পারেনি মৃত্যু হার। শুধু দুর্বল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার কারণে দেখতে হচ্ছে লাশের মিছিল। এর শেষ কোথায় তা আন্দাজ করাও দুঃসাধ্য।


এই দায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও এড়িয়ে যেতে পারে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ভঙ্গুর অর্থনীতির বিশ্বে রোগ শোক মহামারী থেকে পরিত্রাণের উদ্দেশ্যে জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা হিসেবে এটি ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এর প্রধান উদ্দেশ্য ছিলো ‘সর্বোচ্চ সম্ভাব্য সকল মানুষের স্বাস্থ্য নিশ্চিত কর’। কিন্তু উদ্দেশ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি। ২০১২ সালের এক জরিপ মতে পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি ২৬ লাখ মানুষ অস্বাস্থ্যকর কাজ করার কারণে মারা যান। অর্থাৎ প্রতি ৪ জনে ১ জনের মৃত্য ঘটে এই কারণে।


কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও এক্ষেত্রে সফলতার পরিচয় দিতে পারেনি সংস্থাটি। পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকেই প্রত্যেক দেশকে সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে জোর তাগিদ দেওয়ার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু সেক্ষেত্রেও আশার আলো দেখা যায়নি। এরূপ ব্যর্থতার কারণে বারবার সমালোচিত হয়েছে সংস্থাটি। গত ১৯ এপ্রিল করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ভূমিকার সমালোচনা করে অজিদের সংবাদমাধ্যম এবিসিকে দেয়া সাক্ষাৎকারে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যমন্ত্রী গ্রেগ হান্ট বলেন, ‘কিছু ক্ষেত্রে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ উপেক্ষা করতে পারায় অস্ট্রেলিয়া ভাইরাসের বিস্তার সীমিত করতে পেরেছে। পোলিও, হাম, ম্যালেরিয়ার মতো রোগগুলো মোকাবিলায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সফলতা দেখালেও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তারা বিশ্বকে সহযোগিতা করতে পারেনি।’


বলা বাহুল্য, বিগত শতাব্দীতে যুদ্ধের ময়দানে বুলেটের আঘাতে যত মানুষ প্রাণ দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি নিরাপরাধ মানুষকে জীবন দিতে হয়েছে যুদ্ধের ময়দানে সৃষ্ট এক ভাইরাসের কারণে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কায় রাষ্ট্রপতি উড্রো উইলসনের ১৪ দফা প্রস্তাবের উপর ভিত্তি করে শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে বিশ্বনেতারা। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধেও হিরোশিমা ও নাগাসাকি অঞ্চলের ভয়াবহতার পরিণতি চিন্তা করে আবারো শান্তি স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয় বিশ্ব। কিন্তু মহামারী থেকে বাঁচার জন্য কিংবা ক্ষয়ক্ষতি থেকে পরিত্রাণ পেতে কোনো শান্তি চুক্তির সুযোগ নেই। এ ধ্বংসযজ্ঞ থেকে তাৎক্ষণিক বাঁচারও কোনো উপায় নেই। এ থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। শারীরিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার বলেই শুধু পরিত্রাণ পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য নিশ্চিতকরণই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।


বর্তমানে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনার সংক্রমণ। বিশ্বজুড়ে দেখতে হচ্ছে লাশের মিছিল। কোনো কিছুর বিনিময়েই যেন মিলছে না জীবনের নিরাপত্তা। সামরিক শক্তি কিংবা শিল্পক্ষেত্রে দৌরাত্ম্য কোনোকিছুই কাজে আসছে না। এই সংক্রমণের মধ্য দিয়ে হয়তো বিশ্ব কর্তৃত্বের ওলট-পালট হবে। ক্ষমতায় আসবে নতুন রাষ্ট্র। তবে এখানেই শেষ নয়। ভবিষ্যতে এমন মহামারী আবার দেখা দিবে। ইতিহাস তাই বলে। নতুন করে শুরু হবে কর্তৃত্বের লড়াই। এ লড়াইয়ে কারা এগিয়ে থাকবে বলা কঠিন। তবে যারা এখন থেকেই সামরিক খাত ও শিল্পখাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য খাতে নজর দিবে, সঠিক স্বাস্থ্যমান নিশ্চিত করতে সক্ষম হবে, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের লড়াইয়ে তারাই এগিয়ে থাকবে এটা নিশ্চিত। আর সেকারণেই প্রতিটি দেশের স্বাস্থ্যমান নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।


লেকক: শিক্ষার্থী, সরকার ও রাজনীতি বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।


বিবার্তা/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com