‘রাষ্ট্র সচেতন হয়ে উঠছে: দায়িত্ব এখন নাগরিকের’
প্রকাশ : ২৬ মার্চ ২০২০, ১৫:৩৫
‘রাষ্ট্র সচেতন হয়ে উঠছে: দায়িত্ব এখন নাগরিকের’
জাকিয়া সুলতানা মুক্তা
প্রিন্ট অ-অ+

জাতির উদ্দেশ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গতকালকের ভাষণ শুনেছে এদেশের আপামর জনসাধারণ। আশা করছি এবার যাবতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম নিয়ে আমরা আশাবাদী হতে পারি যে, যেসব অব্যবস্থাপনার কথা উঠছিলো নিত্যই তার একটা সুরাহা এবার হবে। দু:খজনক হলেও এটা সত্য যে, কোভিড-১৯ এর ভয়াল থাবা সম্পর্কে চীন যতটা সচেতন ও তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে পেরেছিলো, তা বিশ্বের অন্যান্য বহু উন্নত দেশও নিতে পারেনি। এর কারণ যতদূর বোঝা যাচ্ছে বিশ্বনেতারা অনেকেই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে সম্যক অবগত ছিলেন না কিংবা অবগত হলেও খুব বেশি আমলে নেননি অনেকেই। এর মাঝে যে দেশের নেতারাই এই ভাইরাসের আক্রমণকে পাত্তা দিয়েছেন, তাদের এই সংকটকালে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা সমন্বয় করায় ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে কম। যেমন রাশিয়া, হংকং ইত্যাদি দেশ।


আর যারা তাতে পিছিয়ে ছিলেন, তাদের দেশ পড়েছে হুমকির সম্মুখে। ইতালি, ফ্রান্স, স্পেন, ইরান, আমেরিকা যার উদাহরণ। বাংলাদেশ, ভারতসহ অনেকগুলো দেশ এ পর্যন্ত আক্রান্তের পরিস্থিতির দিক থেকে যথেষ্ট পরে এসে ঝুঁকির মুখে পড়েছে, তাই তাদের সচেতন উদ্যোগগুলো যথাযথভাবে নিজেদের অনুধাবনযোগ্যতায় আসা এবং তদপরবর্তী জনগণের সামনে উপস্থাপিত হতেও দেরি হয়েছে কিংবা তারা এর সমন্বয় করায় খানিক এলোমেলোও ছিলো বলে মনে হয়েছে।


তবে আজকে যখন এই কোভিড-১৯ সারা পৃথিবীর প্রায় সবগুলো দেশকে আক্রান্ত করে ফেলেছে, তখন ধীরে ধীরে হলেও সবাই সচেতন পদক্ষেপ নিতে আরম্ভ করেছে। এই পর্যায়ে এসে আমরা দেশের নাগরিক হিসেবে এতদিন নাগরিকদের সুরক্ষায় রাষ্ট্রীয় দুর্যোগ সমর্থন কাঠামোর এ সংক্রান্ত পদক্ষেপগুলোতে যা যা ত্রুটি-বিচ্যুতি ছিলো, তা নিয়ে অনেক আলোচনা-সমালোচনায় মুখর হয়েছি। এবার যখন রাষ্ট্র সচেতন হয়েছে, তখন নাগরিক হিসেবে আমরা যে সচেতন, তারও প্রমাণ দেয়ার দায়িত্ব পড়ে এখন আমাদের কাঁধেও।


প্রশ্ন হলো বিশ্বায়নের এই যুগে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করার এই ডিজিটাল বাংলাদেশের নাগরিক হিসেবে, সত্যিই কি আমরা যথেষ্ট সচেতন ও যৌক্তিক আচরণ করছি এই বেলায়? সার্বিক পরিস্থিতি দেখে কিন্তু তা মনে হচ্ছে না। কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে, বিশ্বব্যাপী এমন ভয়ানক বিপর্যয়কর সময়েও আমরা সাধারণ জনগণ রাস্তায় নামছি অহরহ। আমাদের নিজেদের মাঝে ভাইরাস যাতে সংক্রমিত না হতে পারে, আমরাই যাতে এতে আক্রান্ত হয়ে না ভুগি, তার জন্য পুলিশের লাঠির বাড়ি আমাদের পিঠের উপর তুলতে হচ্ছে! এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের বিশ্বে আমরা এই দুর্যোগেও কেন এতটা নির্বিকার এখনও? এই দায় কি শুধু সরকারের কিংবা প্রশাসনযন্ত্রের যে তারা সাধারণ জনগণকে বোঝাতে পারেনি, নাকি একইসাথে সাধারণ জনগণ হিসেবে আমাদের ঘাড়েও সমানভাবে এই দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দায় বর্তায়? অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে এই জাতির অধিকাংশই গণআত্মহত্যার মিছিলে সোৎসাহে ঝাঁপিয়ে পড়তে ইচ্ছুক। এটা কি কাম্য ছিলো? না, এটা কখনোই কাম্য হতে পারে না। জাতি হিসেবে আমাদের এমন আত্মাহুতিপ্রবণ হওয়ার যেসব দৃষ্টান্ত আমরা বাসে, ট্রেনে, ফেরিতে এই মহামারী আশংকার সময়েও দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেখালাম; তা আমাদের চূড়ান্ত উন্নাসিকতা আর দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়।


এই সময়টা এমন, যখন নিজেদের ঘরের মাঝেও পারলে একে অপরের থেকে যথেষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে চলা গেলেই ভালো হয়, যেখানে সামাজিক দূরত্ব ন্যূনতম এক মিটার রাখা বাঞ্চনীয়; তাতে কিনা আমরা গাদাগাদি-ঠেলাঠেলি করে চলাফেরা করতে বিন্দুমাত্র দ্বিধা করছি না এতটুকুও। এটা কী ধরনের অবিবেচক আচরণ? সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। এটাতো কোন প্রমোদ-উল্লাসে মাতার জন্য ছুটি দেয়া হয়নি। এটা যার যার বাড়িতে অবস্থান করার জন্য ঘোষিত হয়েছে। হ্যাঁ! প্রশ্ন আসতে পারে এই দুর্যোগের সময়ে ভ্রাম্যমাণ ছিন্নমূল মানুষগুলো কীভাবে দিন গুজার করবে? আমরা ইতিমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকে ও নিজেরাও ব্যক্তিগত বাজার পর্যবেক্ষণ থেকে চাইলেই জানতে পারি যে, এ সংক্রান্ত রাষ্ট্রের যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে; খাদ্য ঘাটতি কিংবা কৃত্রিম খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা কমই আছে এই মুহূর্তে প্রশ্ন উঠতে পারে, এই ভাষণের সারবস্তু তো সাধারণ জনগণ সাধারণ ছুটির আগে জানতো না।


কিন্তু একজন সচেতন মানুষ হিসেবে আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি, উক্ত আশংকা সত্ত্বেও, কেউ তার পরিবার-পরিজনের কাছে এই যে ছুটিতে ছুটে যাচ্ছে; এটার জের মূলত কারা টানবে? তার পরিবার-পরিজনইতো আগে টানবে। এই যে দীর্ঘ গা ঘেঁষাঘেঁষি করা নাড়ীর টানে ফেরার যাত্রা, এটাতে সামাজিক সংক্রমণের (স্যোশাল ট্রান্সমিশন বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন) মাধ্যমে কোভিড-১৯ এর জীবাণু নিজের দায়িত্বে বহন করে আমরাই কি নিজ পরিবারে নিয়ে গেলাম না? এই পর্যায়ের এই ক্ষতিটা এবং সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা কি রাষ্ট্রীয় অদূরদর্শিতায় ঘটলো, নাকি আমাদের নিজেদের খামখেয়ালির জন্য হতে যাচ্ছে? অবশ্যই এই বেলায় এসে দেশের সার্বিক মহামারীর জন্য আমরা নাগরিকরা সর্বশেষে এসে সবচেয়ে বেশি দায়ী হয়ে গেলাম।


আবেগতাড়িত বাংলাদেশীরা নিজেদের সাথে নিজেরা মোলাকাত না করে থাকতে পারে না, তাই তারা দেশে বাস করুক কী প্রবাস থেকে সদ্য দেশে ফিরে হোক; বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে জমিজমা-সংক্রান্ত আইন-আদালত করা আর চায়ের দোকানে সিগারেট ফুঁকে আড্ডায় বসার ঝোঁক; এই মহাদুর্যোগের সময়েও সীমিত করতে পারছি না। এখন বিশ্বব্যাপী এই মহামারীর ঝুঁকিতে, ছোঁয়াচে রোগ করোনার বিস্তারের মুখে; আমাদের এই সামাজিক অভ্যস্ততার বিপদগুলো সম্পর্কে আমরা কে না জানি?


আর কেন জানার চেষ্টা করলাম না? এই দায় কে নেবে? এই দায় আমাদেরকেই নিতে হবে। সামনে এই কোভিড-১৯ এর আক্রান্ত হয়ে যদি বাংলাদেশ লাখ লাখ মৃত্যু গোনে, তবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক কিছু এলোমেলো পদক্ষেপের সাথে সাথে আরো বেশি করে উচ্চারিত হবে; এদেশের আপামর জন সাধারণের এই অসচেতন উন্নাসিকতা প্রদর্শনের প্রেক্ষিতে ছড়িয়ে যাওয়া করোনা রোগ বিস্তারের বিষয়টি। আমরা জাতি হিসেবে কতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হলে পরে, গতকাল এদেশের একটি নেতৃত্বস্থানীয় দলের দলীয় প্রধানের মুক্তির পর; সেই দলের কর্মীরা নেতাকে শুভেচ্ছা জানাতে এই ভয়ানক সময়েও ভীড় ঠেলে জয়ধ্বনি দিতে যায়। একবারও ভাবলো না, যেখানে ইতালির মতন দেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তারা জাতি হিসেবে মানসিক ও শারীরিকভাবে ভেঙে পড়েছে এই দুর্যোগে, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাতির উদ্দেশ্যে ভিডিও বার্তায় এই দুর্যোগ মোকাবেলার ভয়ানক পরিস্থিতি অবলোকন করে কান্না করছেন; তখন আমরা বিষয়গুলোকে এত সাধারণভাবে কেন নিচ্ছি? এতদিন আমরা অভিযোগ করেছি, আমাদের নেতৃবৃন্দ ঠিকঠাক সচেতন আচরণ করছেন না এই কঠিন পরিস্থিতিতে।


এখন ওনারা তৎপর হয়েছেন, প্রশাসন তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়ার সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেয়ার বিভিন্ন ঘোষণা দিচ্ছে; তখন কেন আমরা রাস্তার মোড়ে আড্ডা দিয়ে বেড়াচ্ছি? দাওয়ার খেয়ে বেড়াচ্ছি? এই খোশগল্প করার সময় কি এখন? বরং এখন সময় নিজেকে গৃহবন্দী করে রাখার, যাতে নিজে এই রোগে আক্রান্ত না হই এবং হলেও যাতে অন্যদের মাঝে সেই রোগ সংক্রমিত হওয়ার সুযোগ তৈরি না করে দিই। এখন সময় সঙ্গনিরোধ বা কোয়ারেন্টাইনে থাকার, সামাজিকভাবে একে অপরের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বিচ্ছিন্ন থাকবার। এমনকি ঘরের মাঝে কেউ আক্রান্ত হলে, তাকে বাড়ির অন্যান্যদের কাছ থেকে আলাদা করে রাখার বা আইসোলেশনে রাখবার।


এই কৌশল তো অন্যান্য ছোঁয়াচে রোগের ব্যাপারে আমরা সবসময় অবলম্বন করি, এই বেলায় এসে তা করতে আমাদের কেন এত দ্বিধা আর কেন এত উদাসীনতা? আমরা কি দেখতে পাচ্ছি না দেশে দেশে সব লোকে লোকারণ্য শহরগুলো কেমন জনমানবশূন্য হয়ে গেছে। আমরা কী হয়ে গেছি যে সেসবের কোনো তোয়াক্কা করছি না? এই বোধহীন আচরণের কোনো ক্ষমা হয় না। কেউ মরতে আগ্রহী হলে, নিজের ঘরের দোর বন্ধ করে মরতেই পারে; কিন্তু এই মুহূর্তে রাস্তায় যথাযথ স্বাস্থ্যসুরক্ষা ব্যতীত ইতিউতি ঘুরে বেড়িয়ে, গাদাগাদি-ঠেলাঠেলির মতন ভীড় সৃষ্টি করে আর আড্ডা-গল্পের আসর বসিয়ে গণহারে সবাইকে মৃত্যুর মুখে ফেলার উদ্যোগ নিলে; এই অন্যায়ের কোনো ছাড় দেয়া যায় না।


রাষ্ট্র আপনাকে বাড়িতে অবস্থানের নির্দেশ দিয়েছে, আপনার ও আপনার পরিবারের সুরক্ষার জন্য। এই মুহূর্তে সেটা মেনে চলার কোনো বিকল্প নেই। আর প্রবাসী বাংলাদেশী যারা নিজেরাই করোনার ভয়াবহ বিস্তার জেনে দেশে ফিরেছেন, তাদের কারোর কারোর কাণ্ডজ্ঞানহীনতার তো কোনো তুলনাই হয় না। ওনারা কেউ কেউ এত ব্যাপক ভয়ানক রোগের বিস্তারে মানুষের বিপর্যয়ের প্রত্যক্ষ স্বাক্ষী হওয়া সত্ত্বেও, দেশে এসে শোনা যাচ্ছে, ওনারা কেউ কেউ নাকি স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, প্রশাসনকে সাহায্য না করে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, তথ্য গোপন করে বিভিন্ন স্থানে তো যাচ্ছেনই, এমনকি চিকিৎসা নিতে গিয়েও তথ্য গোপন করা অব্যাহত রেখে হাসপাতালে যাচ্ছেন। এইসব অপরাধের কি সাজা হওয়া উচিৎ না? মানুষ হয়ে মানুষকে, বিশেষ করে তার নিজের ও অপরের পরিবারের এত বড় ক্ষতি করার, এভাবে তাদের সবাইকে একত্রে মৃত্যুর ঝুঁকিতে ফেলার অধিকারতো তাদের কারোর নেই; যারা এইসব অন্যায়গুলো করছেন।


এদিকে সামাজিকভাবে আমরা যে ক্রমান্বয়ে ভয়ানক স্বার্থপর এক জাতি হয়ে উঠছি, এটা প্রমাণিত হয় এই মানবিক বিপর্যয়ের সংকটকালেও ব্যবসায়িকভাবে খাদ্য মজুদ করা এবং ব্যক্তি পর্যায়েও অনেকেই নিজেদের স্বার্থে ও নিজেদের ঘরে প্রয়োজনাতিরিক্ত খাদ্য সংগ্রহ করার যে হিড়িক ফেলেছেন; তা থেকে। সরকারকে এই ব্যাপারে ধন্যবাদ দিতে হয় যে, এই বিষয়টিতে প্রশাসন ইতিমধ্যেই কঠোর পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। এমনকি আমরা গতকালকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ থেকেও আশ্বস্ত হতে পারি যে, দেশে এই মুহূর্তে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ আছে। যা আমাদের কয়েক মাসের সংকটকালীন গৃহবন্দী থাকার সম্ভাবনা থাকলেও, হয়তো বিপদে ফেলবে না। তবে সাপ্লাই চেইনে এই মুহূর্তে যে বিঘ্ন ঘটবে তার জন্য কিছু সংকটতো দেখা দিতেই পারে, যেটা সবার সার্বিক সহযোগিতা থাকলে উৎরে যাওয়া সম্ভব বলেই বিশ্বাস রাখা যায়। একই সাথে আমাদের সাধারণ মানুষের মনস্তত্ত্বে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রতি যে বিস্ময়কর ঘৃণা বা ভীতি জন্মেছে, এটা অত্যন্ত আপত্তিকর ও অমানবিক।


এমনিতে আমরা সামাজিক দূরত্ব মানতে চাচ্ছি না, নিজেদের এতদিনকার পারস্পরিক সৌহার্দ্যের দোহাই দিয়ে সামাজিক অভ্যস্ততার কথা উল্লেখ করে; অপরদিকে আমরাই আবার কেউ আক্রান্ত হলে তাকে নির্মম নিষ্ঠুরতায় একঘরে করে দিচ্ছি এবং এরকমও জানা যাচ্ছে করোনা আক্রান্ত রোগী মারা গেলেও তাকে সৎকার করায় কোনো কোনো স্থানে বাধা দেয়া হচ্ছে বা অসহযোগিতা করা হচ্ছে। এই অমানবিকতার কোনো অর্থ নেই! বেঁচে থাকতে এই জাতির অনেকেই দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতন একে অপরকে এই সংকটকালে, যেখানে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে একে অপরের কাছ থেকে; সেখানে জোটবদ্ধ থাকতে বিষম রকমের আগ্রাসী মনোভাব প্রদর্শন করে বেড়াচ্ছে, সেখানে তাদের এই সৌহার্দ্য এক লহমায় কেউ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর মুখোমুখি থাকাকালে কিংবা মৃত্যুর মুখে পতিত হওয়ার পরে কীভাবে ভুলে যেতে পারে বা এই আগ্রহ তাদের উবে যায়? এই মনস্তত্ত্বের ব্যাখ্যা কী? কেউ আক্রান্ত হলে বা আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে তার কাছে যাওয়া যাবে না এটাওতো ঠিক না। কাছে অবশ্যই যাওয়া যাবে, তবে তা যথাযথ স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধি মেনে যাওয়াই যেতে পারে বা যাওয়াইতো উচিৎ। নইলে মানুষ কি আক্রান্ত হলেই কারোর সমর্থন না পেয়ে মরে যাবে নাকি? তাকে সাহায্য করতে হবে না? সাহস দিতে হবে না? এই স্বার্থপরতা করে আমরা কি বেঁচে যাবো বলে ভাবি নাকি?


আমরা কেউ আক্রান্ত হবো না এই নিশ্চয়তা আছে? যেখানে সর্বোচ্চ সুরক্ষা থাকা সত্ত্বেও ব্রিটেনের প্রিন্স চার্লস করোনায় আক্রান্ত এই মুহূর্তে? এই করোনা ভাইরাস কি রাজা-প্রজা, ধনী-গরীব মানছে? এতো সবার জন্যই আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সচেতনতার পাশাপাশি মানবিক ও দায়িত্বশীল হওয়াটা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের সবার উচিৎ এই মুহূর্তে নিজেদের, পরিবার-পরিজনসহ দেশ ও জাতিকে সুরক্ষায় সর্বোতভাবে বৈশ্বিক ও জাতীয় যাবতীয় স্বাস্থ্য সুরক্ষার রাষ্ট্রীয় বিধি ও নির্দেশনা মেনে চলা। আসুন নাগরিক হিসেবে আমরা সবাই নিজেদের দায়িত্বগুলো অনুধাবন করি, এই সংকটের মুহূর্তে রাষ্ট্রীয় দিকনির্দেশনা মেনে চলি।


লেখক: জাকিয়া সুলতানা মুক্তা, সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গোপালগঞ্জ।


বিবার্তা/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com