গালাগাল বা দোষারোপের সময় এখন না
প্রকাশ : ১৮ মার্চ ২০২০, ১৯:১৪
গালাগাল বা দোষারোপের সময় এখন না
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবাই শঙ্কিত, ভীষণ রকমের শঙ্কিত। এই শঙ্কা বা ভয় থেকেই মানুষ রাগান্বিত হয়, গালাগাল দেয়, দোষারোপ করে, চিৎকার করে।বিশ্বাস করেন এই গালাগাল বা দোষারোপের সময় এখন না। আপনি, আমি ঘরে বসে কখনো ডাক্তার, কখনো আইইডিসিআর বা মন্ত্রণালয়/সরকারকে গালি দিচ্ছি।


ভুলচুক যে হয়নি তা না, অনেক বড়সড় ভুলও হয়েছে, যেমন: প্রবাসীদের ঢালাওভাবে দেশে ঢুকিয়ে হোম কোয়ারেন্টিন নামক হাস্যকর পরিস্থিতিতে ছেড়ে দেয়া, আইইডিসিআর ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠানকে করোনা টেস্ট বা চিকিৎসায় সক্ষম না করা, করোনা ভীতিতে সাধারণ রোগীকে চিকিৎসা না দেয়ায় রোগীর মৃত্যু সহ আরো অনেক ভুল বা দোষ খুঁজে বের করা যায়। তবে ত্রুটি খুঁজলে কিন্তু সবচেয়ে বড়টি আমাদের দ্বারাই হয়েছে বা হচ্ছে! এখনো আমরা পুরোপুরি সচেতন নই, ঘুরে বেড়াচ্ছি, সভা, জমায়েত বা অনুষ্ঠান করে বেড়াচ্ছি, আবেগে পুতুপুতু হয়ে সংক্রমণের আশংকা থাকা লোকটির সাথেও সামাজিকতা করছি! এই আমরাই আবার কঠোর সমালোচক!


আসেন এবার একটি আশা জাগানিয়া খবর শোনাই, করোনা প্রতিরোধে স্বেচ্ছাসেবক নিবন্ধন শুরু হয়েছে এবং শত শত ডাক্তার স্বেচ্ছায় নাম নিবন্ধন করেছেন ইতোমধ্যে! আমাদের ডাক্তার-নার্সরাই রোগ-শোকে সর্বোচ্চ ঝুঁকি গ্রহণ করেন, অতীতেও তা প্রমাণ করেছেন, এবারো কিন্তু লড়াইয়ের সম্মুখ সারিতে তারাই অবস্থান নিয়েছেন জীবনের ঝুঁকি নিয়েই। সুতরাং আসুন সমালোচনা করি গঠনমূলক, কোনো দোষারোপ না করে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করি, নিজের দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে পালন করি।


আমার মনে হয় পূর্বের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে আজ এই মুহূর্ত থেকেই নিন্মলিখিত পদক্ষেপ সমূহ নেয়া উচিত :


১। শুধু আইইডিসিআর-এর উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। রোগ শনাক্তকরণ ও গবেষণায় আইসিডিডিআরবি'র মত প্রতিষ্ঠানগুলোকে সাথে নিয়ে কাজ করতে হবে।


২। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়সহ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এবং সকল সরকারি মেডিকেল কলেজ সমূহের (সম্ভব হলে বড় বড় প্রাইভেট হাসপাতালগুলোও) চিকিৎসা সেবা ২টি ভাগে ভাগ করে ফেলতে হবে দ্রুত, ক). স্বাভাবিক সেবা, খ). করোনা রোগী বা করোনাভাইরাসের সংক্রমণের শঙ্কা নিয়ে যারা আসবেন তাদের সেবা। এখানে করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগও তৈরি করতে হবে, প্রয়োজনে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা রাখতে হবে। যেন সাধারণ শঙ্কিত মানুষ ঠান্ডা-জ্বর-নিউমোনিয়া নিয়ে এলেও আশ্বস্ত হয়ে ঘরে ফিরতে পারেন। ডাক্তারের ২টি কথায় আতঙ্কিত ব্যক্তি /রোগী যতটা আশ্বস্ত হবে আমার আপনার হাজার কথাতেও তা হবে না।


৩। খুব দ্রুতই করোনা ইউনিটের জন্য ডাক্তার-নার্সদের প্রস্তুত করতে হবে। অবশ্যই যথাযথ নিরাপত্তা (প্রশিক্ষণ, পোশাক, যন্ত্রপাতি, জীবাণুনাশক) সহ।


৪। দ্রুততম সময়ের মধ্যেই প্রতিটি বিভাগীয় শহরে একাধিক এবং সকল জেলায় অন্তত একটি হাসপাতালে এই সেবা বিস্তৃত করতে হবে।


৫। সকল মন্ত্রণালয়, প্রতিষ্ঠান, সংস্থার মধ্যে সমন্বয় সাধন করে কাজ করতে হবে। একক আধিপত্য প্রকাশ বা একক হিরো হবার সময় নয় এখন।


৬। দেশের বিজ্ঞানী, গবেষক, চিকিৎসকদের সমন্বয়ে করোনাভাইরাস টেস্ট কীট তৈরির জন্য পৃথক টিম করে দিতে হবে। পারলে প্রতিষেধক বানানোর জন্যও! কারণ আমদানির উপর নির্ভরশীল হবার সময় এখন না, সারা বিশ্বেই করোনা টেস্ট কীটের জন্য হাহাকার। দেশের শীর্ষস্থানীয় ঔষধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানকে এই কর্মযজ্ঞে সংযুক্ত করা যেতে পারে।


৭। জনসাধারণকে করোনা পরিস্থিতির আপডেট যথাযথ জানাতে হবে। কোন লুকোচুরি চলবে না। এতে করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ায়, মানুষ আতঙ্কিত হয়।


৮। আর আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব হবে আমরা যারা নিয়ম মানতে চাই না, ভাইরাসের বাহক হচ্ছি অবলীলায়, তাদের পেঁদিয়ে সোজা করা! কোন দয়ামায়া চলবে না। ভাইরাস বাহক কিন্তু অসংখ্য মানুষের গোপন হন্তারক!


আমি ও আমার পরিবার করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সচেতন। নিজ দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে নির্দেশনা মেনে চলছি, বাকিটা আল্লাহর হাতে। আপনিও সচেতন হন, দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করুন। আল্লাহ সহায় হোন। ধন্যবাদ।


লেখক: মুহাঃ শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক, সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়


বিবার্তা/জাহিদ

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com