আল জাজিরায় কুকীর্তি ফাঁস হওয়ায় সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে : রিজভী
প্রকাশ : ০৪ মার্চ ২০২১, ১৬:২৮
আল জাজিরায় কুকীর্তি ফাঁস হওয়ায় সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে : রিজভী
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

আল জাজিরায় কুকীর্তি ফাঁস, দুর্নীতির মহাসড়ক নির্মাণ এবং সরকারি হেফাজতে লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুতে দেশ-বিদেশের মানুষ এই মাফিয়া সরকারের বিরুদ্ধে যে ধিক্কার জানাচ্ছে তাতে সরকারের মাথা বিগড়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।


বৃহস্পতিবার নয়াপল্টন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।


রিজভী বলেন, জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য সরকার আরো বেশী বেপরোয়া হয়ে বিরোধী দল ও বিরোধী চিন্তার মানুষের বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়েছে। বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জুলুমের উগ্রগতি চারিদিকে দৃশ্যমান। সেই কারণে সংবিধানে স্বীকৃত সভা-সমাবেশের ওপর সিরিজ আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে সরকারের পেটোয়া পুলিশ বাহিনী। হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছে বিএনপিসহ যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল তথা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের। নেতাকর্মীদের বাড়িতে বাড়িতে হানা দিচ্ছে পুলিশ। এই উদ্দেশ্য অত্যন্ত ভয়ংকর।


তিনি বলেন, সবাই আশঙ্কা করছে-পুলিশি এই হানার মধ্যে পূর্বের ন্যায় আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক গুম ও বিচার-বহির্ভূত হত্যার মতো কোনো ঘটনা হতে পারে। কারণ নির্দয় জুলুম ও আওয়ামী লীগ অভিন্ন সত্তা। আওয়ামী লীগ কখনোই গণতন্ত্রের পক্ষে স্বাস্থ্যকর হয়নি। হত্যার আসামির দন্ড মওকুফ হয়, দ্রুত জামিন হয়, লুটপাটকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে, দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারকারীরা সহজেই দেশ ছাড়তে পারে, অথচ মানুষ এসবের সমালোচনা করলেই তাদের ওপর নেমে আসে নির্যাতন। নিপীড়ণ আর হুংকারের স্বরে এখন দেশ শাসন চলছে।


বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, মুশতাক ফাঁসির আসামি নন, তবুও তাকে কারাগারের মধ্যে জীবন দিতে হলো। সরকার মনে করছে, যারা সমালোচনা করে তারা প্রত্যেকেই অপরাধী, সুতরাং কারাগার এবং মৃত্যুই তাদের একমাত্র প্রাপ্য। এই কর্মসূচি নব্য বাকশালী সরকারের বাস্তবায়নের লক্ষ্য। সেজন্যই গণতন্ত্রকে অনুপস্থিত করে বাকশালের মৃতদেহকে ঘাড়ে করে বয়ে বেড়াচ্ছে।


প্রেসক্লাবের সামনে জাতীয়তাবাদী যুবদলের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ সভাকে বানচাল করতে শুরু থেকেই আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর ছিল বলে অভিযোগ করে রিজভী আরো বলেন, তারা সভাকে কেন্দ্র করে ক্ষুধার্ত হায়েনার মতো চারিদিকে ওঁত পেতে ছিল। সভা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই নেতাকর্মীদের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ে গ্রেফতারের হিড়িক শুরু করে এবং জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সভাপতি রফিকুল আলম মজনুকে আটক করে। এছাড়াও প্রায় ২০ জনের অধিক নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এমনকি সভাস্থলে উপস্থিত বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দের সাথেও পুলিশ অসদাচরণ করে।


তিনি বলেন, গুম, অপহরণ, খুন, গুপ্তহত্যা, গলাবাজী ও মিথ্যা ভাষণের অদ্ভুত রসায়ণ এই নিশিরাতের সরকার যুবক-তরুণের আওয়াজে বিচলিত হয়ে উন্মত্ত হয়ে উঠেছে। এজন্য বিএনপি-কে নির্মূল করতে সকল শক্তি নিয়োগ করেছে তারা। কিন্তু তারা উপলব্ধি করছে না, যেকোন মূহুর্তেই ক্ষমতার ঋতু পরিবর্তন হয়ে যাবে। পরিবর্তনের ঝড়ো বাতাস বইতে শুরু করেছে। মসনদ ধুলোতে লুটোপুটি খেতে থাকবে। মানুষ এখন রাস্তায় নামতে শুরু করেছে। পুলিশ দিয়ে বিক্ষোভ-প্রতিরোধ দমানো যাবে না।


বিবার্তা/বিপ্লব/জাই

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2021 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com