ভারতে হজের ভর্তুকি বন্ধ নিয়ে নানা কথা
প্রকাশ : ২২ জানুয়ারি ২০১৮, ১৭:০৭
ভারতে হজের ভর্তুকি বন্ধ নিয়ে নানা কথা
বিবার্তা ডেস্ক
প্রিন্ট অ-অ+

ভারতে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুসারে বার্ষিক হজযাত্রার ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে মোদী সরকার। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ ছিল, ২০২২ সালের মধ্যে তা তুলে দিতে হবে। কিন্তু মোদী সরকার তার চার বছর আগেই তা তুলে দেয়ার কথা ঘোষণা করেছে।


সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী মুখতার আব্বাস নাকভি বলেছেন, এই ভর্তুকি তুলে নিলে যে টাকাটা বাঁচবে, তা খরচ করা হবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের, বিশেষ করে কন্যাসন্তানের শিক্ষা তথা কল্যাণ খাতে।


''মুসলিমদের কল্যাণে সরকারের দায়বদ্ধতা''র কথা মাথায় রেখেই এই সিদ্ধান্ত বলে দাবি করছে সরকার।


২০১২ সালে কংগ্রেস জোট সরকারের আমলেই সুপ্রিম কোর্টের মুসলিম বিচারপতি আফতাব আলমের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের নির্দেশ ছিল ১০ বছরের মধ্যেই হজযাত্রার ভর্তুকি ধাপে ধাপে তুলে নিতে হবে। সেটা কার্যকর করতে সরকারের এই পদক্ষেপ। কিন্তু মোদী সরকার ভর্তুকি তুলে নেয়ার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে - এমনটাই অভিযোগ বিরোধীদের।


কংগ্রেস নেতা গুলাম নবি আজাদের অভিযোগ, হিন্দু তীর্থযাত্রীদের জন্য কি সরকার ভর্তুকি দিচ্ছে না? তাহলে মুসলিমদের হজযাত্রার জন্য ভর্তুকি দেয়াটা কোনদিক থেকে অসাংবিধানিক?


হায়দ্রাবাদের এআইএমআইএমের সাংসদ আসাদউদ্দিন ওয়েসি ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে নীতিগতভাবে তিনি হজ ভর্তুকি তুলে দেয়ার পক্ষপাতি। কিন্তু সব ধর্মের ক্ষেত্রেই যেন সেটা প্রযোজ্য হয়। হজযাত্রীদের ক্ষেত্রে তুলে দেয়া হলে মানস সরোবরের ক্ষেত্রে তা নয় কেন?


তবে কোনো কোনো মুসলিম সংস্থা এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। লক্ষ্নৌর মওলানা খালিদ রসিদ ফারাঙ্গি মনে করেন, ভর্তুকি তুলে দিয়ে বিমানভাড়া ইত্যাদির জন্য টেন্ডার ডাকা উচিত। এতে সব বিমানসংস্থাই যোগ দিতে পারবে এবং ভাড়া কমতে সাহায্য হবে।


তামিলনাড়ু রাজ্যের এআইএডিএমকে সরকার কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে বলেছে, কেন্দ্রের উচিত এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা।


রাজ্যের অপর দল ডিএমকে দলের নেতা এম.কে স্টালিন বলেন, সরকার তো প্রতিবছর অমরনাথ তীর্থযাত্রীদের পরিষেবার জন্য সরকার খরচ করে থাকে ১০ কোটি টাকা। কেরালা সরকার ত্রিভাঙ্কুর দেবস্থানমের জন্য রাজ্য সরকার সরকারী কোষাগার থেকে প্রতি বছর খরচ করে প্রায় ৪৭ কোটি টাকা। গত বছর কর্নাটকে চার্চের জন্য রাজ্য সরকার দিয়েছে সাড়ে ১৬ কোটি টাকা। উত্তরপ্রদেশের আদিত্য নাথের বিজেপি সরকার কাশী, মথুরা ও অযোধ্যার জন্য বাজেট বরাদ্দ রেখেছে ৮০০ কোটি টাকা। তাহলে সেগুলো তুলে দেওয়া হচ্ছে না কেন?


উত্তরবঙ্গের নজরুল হাফেজ, যিনি ‘হাজি সাহেব' নামে পরিচিত, তাঁর কাছে মোদী সরকারের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘‘হজ সাবসিডি উঠে যাবে বা তুলে দেয়া হবে, এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। কারণ, আমাদের কোরানেও আছে, যার টাকা আছে সে-ই হজে যাবে। আসলে একের পর এক টার্গেট করা হচ্ছে আমাদেরই - তা সে তিন তালাক হোক বা হজ ভর্তুকি হোক। একটা নন-ইস্যুকে যে ইস্যু করা হচ্ছে, ভয়টা এখানেই।''


হাজি সাহেবের মতে, ‘‘সুপ্রিম কোর্ট বলেছিলেন, ১০ বছরের মধ্যে, কিন্তু মোদী সরকার চার বছর আগেই তা করতে চাইছেন। এত তাড়াহুড়ো করার দরকার কী ছিল? অহেতুক একটা ভীতি সৃষ্টি করা? ভর্তুকির টাকাটা খরচ করা হবে মুসলিম মেয়েদের শিক্ষা খাতে। বেশ ভালো কথা। কিন্তু গলদটা রয়ে যাচ্ছে ভুল সিস্টেম বা পদ্ধতিতে। তোমাদের এটা দেব না, ওটা দেব না। কোথায় যেন মনে হচ্ছে একটা রাজনীতি কাজ করছে।''


হিন্দুদের তীর্থযাত্রায় ভর্তুকি প্রসঙ্গে হাজি সাহেব বলেন, ‘‘সরকারী ভর্তুকি নিয়ে হজে যেতেই হবে এমন কোনো কথা নেই। হিন্দু তীর্থ অমরনাথ যাত্রায় ভর্তুকি তুলে নেয়া হোক - এমন কথা আমরা বলবো না। সেটা যাঁদের ভাবার কথা তাঁরা ভাববেন। আমরা দুই ধর্মের মানুষই মিলেমিশে থাকি আমাদের এখানে। হিন্দুদের বিয়ে-শাদি এমন কি শ্রাদ্ধানুষ্ঠানেও আমরা নিমন্ত্রণ পাই। আমরা যাই। অনর্থক ভুল বোঝাবুঝি চাই না।'' সূত্র : ডয়চে ভেলে


বিবার্তা/হুমায়ুন/মৌসুমী

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

৪৬, কাজী নজরুল ইসলাম এভিনিউ

কারওয়ান বাজার (৬ষ্ঠ তলা), ঢাকা-১২১৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com