ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৯:৩৬
ডেঙ্গু ভাইরাস নিয়ে গবেষণা শুরু
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

রাজধানীসহ সারা দেশে ব্যাপক আকারে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু ভাইরাস। হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিনই ভর্তি হচ্ছেন হাজার হাজার ডেঙ্গু রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায়ও ভর্তি হন এক হাজার ৬১৫ জন। এ বছর ৯৯ শতাংশ রোগীই সেরোটাইপ-৩ দিয়ে আক্রান্ত হন, যা আগে ঘটেনি।


স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সোমবার (১৯ আগস্ট) পর্যন্ত ৫৪ হাজার ৭৯৭ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হন। এর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৮, ফেব্রুয়ারিতে ১৮, মার্চে ১৭, এপ্রিলে ৫৮, মে মাসে ১৯৩ জন, জুন মাসে ১ হাজার ৮৮৪ জন, জুলাই মাসে ১৬ হাজার ২৫৩ জন ও আগস্টে ৩৬ হাজার ৩৩৬ জন।


এসব রোগীর ৪৮ হাজার ২৪ জন চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন এবং বাকি ৬ হাজার ৭৩৩ জন এখনো চিকিৎসাধীন। সরকারি হিসাবে- এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৪০ জন। এর মধ্যে এপ্রিলে দুজন, জুনে চারজন, জুলাইয়ে ২৪ জন এবং আগস্টে ১০ জন। তবে বেসরকারি হিসাবে মৃত্যুর সংখ্যা কয়েক গুণ বেশি।


বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, চলতি বছর ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা গেছে। এ কারণে অনেক রোগীর জটিলতা তৈরি হয়েছে। অনেকের জ্বর হওয়ার ২-৩ দিনের মধ্যে ডেঙ্গু হেমরেজিক ও ডেঙ্গু শক সিনড্রোমের দিকে চলে গেছেন। তাই জ্বর হলেই রোগীদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলা হয়েছে।


জানা গেছে, ডেঙ্গু ভাইরাসের বাহক এডিস মশা ও ডেঙ্গুর ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানার্জনে গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। এ ছাড়া ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণে যেসব পরিবর্তন দেখা গেছে এবং ভাইরাসে কোনো পরিবর্তন এসেছে কিনা, তা নিয়েও গবেষণা শুরু করেছে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইডিসিআর)।


বিএসএমএমইউর উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার জানান, আমরা ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবের বিষয়টি বিবেচনায় রেখে এর ভাইরাস ও তার বাহক এডিস মশা এবং ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন অর্থাৎ রোগের প্যাটার্ন, রোগ নির্ণয়ের সেরোলজিক্যাল ফাইন্ডিংস, জেনোমিক আইডেন্টিফিকেশন, সম্ভাব্য চিকিৎসা ও ওষুধসহ অন্যান্য সাপোর্টিং চিকিৎসাসংক্রান্ত যে বিষয়গুলো আছে, সেগুলো সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান লাভের জন্য একটি গবেষণা কার্যক্রম হাতে নিয়েছি।


তিনি বলেন, সেখানে আমাদের ল্যাবরেটরি ফাইন্ডিংস, ক্লিনিক্যাল কন্ডিশন ও এপিডেমিওলেক্যাল অর্থাৎ রোগের কারণ তার পারিপার্শ্বিক অবস্থায় কী কী ফ্যাক্টর কাজ করে এবং সেগুলো বাংলাদেশে চিকিৎসার জন্য, প্রিভেনশনের জন্য, রোগ হলে কী চিকিৎসা দেয়া যায়; ভবিষ্যতের জন্য কী ব্যবস্থা নিলে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে পারি- এ রকম গবেষণালব্ধ জ্ঞান অর্জন করতে পারব।


গবেষণা থেকে কিছু তথ্য-উপাত্ত আমাদের হাতে আসবে। এ কথা মনে রেখে আমাদের মেডিসিন, ভাইরোলজি, চর্মরোগ, পাবলিক হেলথ, শিশু বিভাগ এবং গ্যাস্ট্রোএন্ট্রোলজিসহ অন্য সহযোগী বিভাগের শিক্ষক ও চিকিৎসকদের নিয়ে আমরা কমপ্রিহেন্সিভ গবেষণা কাজ হাতে নিয়েছি। আশা করি কিছু দিনের মধ্যে গবেষণার ফল জনসম্মুখে প্রকাশ করতে সক্ষম হব।


আইইডিসিআরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীরাজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, ডেঙ্গু রোগের সিনড্রোম নিয়ে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখন পর্যন্ত আমরা দেখেছি যেসব সিনড্রোম পরিবর্তন হয়েছে, সেগুলো শুধু হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু, হেমরেজিক ও শক সিনড্রোম- এ তিন ধরনের ডেঙ্গু রয়েছে।


ক্ল্যাসিক্যাল ডেঙ্গুর লক্ষণগুলো ঠিকই আছে। হয়তো জ্বরের মাত্রা অনেকের কম হচ্ছে। যাদের দ্বিতীয়বার ডেঙ্গু হচ্ছে তাদের স্বল্প সময়ে জটিলতা তৈরি হয়ে যাচ্ছে। ভাইরাস নিয়ে আমরা কাজ করছি। সেরোটাইপিং সম্পন্ন করেছি। ২০১৬ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে সেরোটাইপ-৩ দেখা যেত না।


২০১৭ সাল থেকে সেরোটাইপ-৩ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০১৮ সালে আরেকটু বেড়েছিল। এবার অর্থাৎ ২০১৯ সালে এসে ৯৯ শতাংশ রোগীর ক্ষেত্রেই সেরোটাইপ-৩ দেখা যাচ্ছে। ভাইরাসের ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।


বিবার্তা/রবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

ময়মনসিংহ রোড, শাহবাগ, ঢাকা-১০০০

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2016 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com