
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যা মামলার অন্যতম প্রধান সন্দেহভাজন অপূর্বকে (২২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে দুর্গাপুর বাজারের পুরোনো সিনেমা হলের পাশ থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
রবিবার (১৮ অক্টোবর) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার অপূর্বর বাবার নাম শমশের আলী। এর আগে নেত্রকোনায় এক পুলিশ সদস্য হত্যা মামলায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিল সে। আলিফকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলাকারীরা তার চেহারার সঙ্গে মিল থাকায় ভুলবশত এক পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ আরও জানায়, তালিকাভুক্ত আসামি হওয়ায় অপূর্ব সতর্কতার সঙ্গে আত্মগোপনে চলাফেরা করছিল। শনিবার দিবাগত রাতে তার অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
প্রাথমিক অনুসন্ধানে পুলিশ জানতে পেরেছে, সাংবাদিক আলিফ হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ৫ থেকে ৬ জন জড়িত থাকতে পারে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থদাতা ও মদদদাতাসহ আরও একটি বড় চক্রের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অপূর্বকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সোয়া ৮টার দিকে দুর্গাপুর উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের উৎরাইল এলাকার তেলুনজিয়া গ্রামে শ্বশুরবাড়ির কাছের একটি দোকানের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান ফকির আলিফ। তিনি সাবেক সেনাসদস্য এবং ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামের একটি ফেসবুক পেজের কর্ণধার ছিলেন। তার শরীরে ছয়টি গুলির ক্ষত পাওয়া যায়।
এ ঘটনায় আলিফের স্ত্রী আনন্দিতা সাংমা বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ৭ থেকে ৮ জনকে আসামি করে দুর্গাপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) ও জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সমন্বিত দল মামলাটির তদন্ত করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]