
নাটোরের সিংড়ায় অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। অল্প সময়ে টাকা দ্বিগুণ থেকে ১০ গুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে মানুষকে জুয়ায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সংঘবদ্ধ চক্রের বিরুদ্ধে। এসব জুয়ার ফাঁদে পড়ে অনেকে সর্বস্ব হারাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এতে আর্থিক সংকট, পারিবারিক অশান্তি ও সামাজিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। প্রতিদিন কোটি টাকার লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। অনলাইন জুয়া রোধে পুলিশের অভিযান নেই। এতে করে সচেতন মহলের ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিংড়া উপজেলার বিয়াশ, কুমগ্রাম, সিংড়া বাজার, বাঁশবাড়িয়া, বামিহাল বাজার, রাতাল, ডাহিয়া, দুর্গাপুর বাজার, শেরকোল বাজার ও জামতলীসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম চলছে। স্থানীয়দের দাবি, উপজেলার প্রায় ২০টি পয়েন্টে এ ধরনের কারবার পরিচালিত হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে এজেন্ট ও সাব-এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে নতুন নতুন মানুষকে জুয়ার সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ রয়েছে, অনলাইন জুয়ার বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপে অল্প টাকা বিনিয়োগ করে কয়েক গুণ লাভের প্রলোভন দেখানো হয়। শুরুতে কোনো কোনো ব্যবহারকারীকে লাভের টাকা দেওয়া হয়, যাতে তাঁরা আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত হন। পরবর্তী সময়ে বড় অঙ্কের টাকা হারিয়ে অনেকেই আর্থিক সংকটে
পড়েন।
অনলাইন জুয়ার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে ‘ওয়ান এক্স বেট’ (1xBet), ‘মেইল বেট’সহ বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও দেশীয় নামে পরিচালিত হয়।
মোবাইল ব্যাংকিংয়ে চলছে লেনদেন
অনলাইন জুয়ার অর্থ লেনদেনে বিকাশ, নগদ ও রকেটের মতো মোবাইল আর্থিক সেবা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এসব মাধ্যমে টাকা পাঠিয়ে জুয়ায় অংশ নেওয়া এবং এজেন্টদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অনলাইন জুয়ায় টাকা হারিয়ে কেউ কেউ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছেন। সেই ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে আর্থিক ও পারিবারিক চাপে পড়ছেন অনেকে। এ পরিস্থিতিতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধের ঝুঁকি বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, অনলাইন জুয়ার বিস্তার রোধে শুধু জুয়ার ওয়েবসাইট বন্ধ করাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে জড়িত স্থানীয় এজেন্ট ও সাব-এজেন্টদের শনাক্ত করা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন খতিয়ে দেখা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য অনুসন্ধান করা প্রয়োজন।একই সঙ্গে তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রমের বিষয়ে খোঁজ রাখা এবং দ্রুত ধনী হওয়ার প্রলোভন সম্পর্কে সতর্ক করা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা।
সিংড়া থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বিবার্তাকে জানান, অনলাইন জুয়া বিষয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। নিয়মিত অভিযান
পরিচালনা করা হয়। কেউ তথ্য দিলে আমরা ব্যবস্থা নিয়ে থাকি।
বিবার্তা/রাজু /এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]