বোয়ালমারীতে সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ৯ গ্রামের মানুষ
প্রকাশ : ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪৯
বোয়ালমারীতে সেতুর অভাবে ভোগান্তিতে ৯ গ্রামের মানুষ
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার গুনবহা ও চতুল ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বারাসিয়া নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর অভাবে চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন ৯টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার মানুষ। যুগের পর যুগ ধরে এলাকাবাসী এখানে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও তা এখনো অধরাই রয়ে গেছে। বর্তমানে নিরুপায় হয়ে স্থানীয়রা নিজেদের খরচে তৈরি করা একটি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর ভরসা করেই পারাপার হচ্ছেন।


স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর পূর্ব পাড়ে চতুল ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর, শুকদেবনগর, রামদেবনগর ও আরাজী বাইখীর এবং পশ্চিম পাড়ে গুনবহা ইউনিয়নের জালিয়াডাঙ্গা, ধোপাপাড়া, দরিহরিহরনগর, চাপলডাঙা ও গুনবহা গুচ্ছগ্রাম অবস্থিত। প্রতিদিন এই ৯টি গ্রামের হাজারো মানুষকে ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসাসেবা ও আত্মীয়ের বাড়ি যাতায়াতের জন্য এই সাঁকোটি ব্যবহার করতে হয়।


সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে স্কুলগামী কোমলমতি শিশুরা। নদীর এক প্রান্তে শুকদেবনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অপর প্রান্তে শিরগ্রাম বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন দুই পাড়ের শিক্ষার্থীদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। সন্তানরা নিরাপদে বাড়ি ফিরে না আসা পর্যন্ত অভিভাবকদের চরম উৎকণ্ঠায় থাকতে হয়।


জালিয়াডাঙ্গা গ্রামের ব্যবসায়ী শিহাব মোল্যা জানান, প্রতি বছর আমরা নিজেদের পকেটের টাকা খরচ করে এই বাঁশের সাঁকোটি তৈরি করি। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে যখন নদীতে পানি থইথই করে, তখন এই নড়বড়ে সাঁকো দিয়ে পার হতে বুক কাঁপে। এখানে জালিয়াডাঙ্গা ফুলতলা ঈদগাহ নামক স্থানে একটি স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করা হলে ৯টি গ্রামের মানুষের ভাগ্য বদলে যেত।


একই গ্রামের বাসিন্দা সাব্বির হোসেনের ভাষ্য, মাত্র ১২০ মিটারের একটি পাকা সেতু আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে সহজ করে দিতে পারে। এই পথটুকু পার হতে বড়জোর ৩০ সেকেন্ড সময় লাগবে। অথচ একটি সেতুর অভাবে আমাদের বাইখীর চৌরাস্তা ঘুরে বাজারে যেতে অতিরিক্ত ৩ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। আমরা দ্রুত এখানে একটি পাকা সেতু চাই।


চতুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম জানান, "সেতুটি নির্মাণের জন্য আমি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। উপজেলার প্রতিটি উন্নয়ন সমন্বয় সভায় বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেছি। আঞ্চলিক মহাসড়কের বাইখীর ক্লাবঘর থেকে শুকদেবনগর হয়ে জালিয়াডাঙ্গা সড়কের শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই ব্রিজটি এলাকার মানুষের জন্য অত্যন্ত জরুরি।"


সেতু নির্মাণের অগ্রগতির বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী পুর্নেন্দু সাহার ভাষ্য, "প্রচলিত চলমান প্রকল্পগুলোতে সাধারণত ১০০ মিটারের নিচের সেতুগুলো অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ থাকে। কিন্তু এই প্রস্তাবিত ব্রিজটির দৈর্ঘ্য ১০০ মিটারের বেশি (প্রায় ১২০ মিটার) হওয়ায় এটিকে চলমান প্রকল্পে যুক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি আমাদের বিবেচনায় রয়েছে এবং পরবর্তীতে বড় কোনো প্রকল্প এলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই সেতুটি অন্তর্ভুক্ত করা হবে।"


ভুক্তভোগী ৯ গ্রামের মানুষের দাবি, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যেন অতি দ্রুত এই জালিয়াডাঙ্গা ফুলতলা ঈদগাহ পয়েন্টে একটি পাকা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে ২০ হাজার মানুষের দীর্ঘদিনের যাতায়াত কষ্টের অবসান ঘটান।


বিবার্তা/মিলু/এসএম

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com