উখিয়ার শিক্ষাঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার নাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
প্রকাশ : ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৯:২৯
উখিয়ার শিক্ষাঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার নাম ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ
উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অঅ-অ+

উখিয়ার শিক্ষা ও সামাজিক অঙ্গনে বহুমুখী শিক্ষা বিস্তারের স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে চলেছেন মোহাম্মদ শাহ আলম। ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধে গড়ে ওঠা এই শিক্ষানুরাগী ব্যক্তি শুধু প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় নিয়ে গড়ে তুলেছেন ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ।


উখিয়ার শিলেরছড়া সেনাক্যাম্প সংলগ্ন মনোরম পরিবেশে অবস্থিত প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে স্থানীয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। বর্তমানে এখানে প্রায় ৫০০ শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং পাঠদান করছেন ১৭ জন শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে সরকারি নিবন্ধনের আওতায় এসেছে, যা এর প্রাতিষ্ঠানিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।


মোহাম্মদ শাহ আলমের শিক্ষা-ভাবনা কেবল একটি স্কুল প্রতিষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কক্সবাজার বায়তুশ শরফ ফাউন্ডেশনের পরামর্শ ও সহযোগিতার ধারায় এলাকায় মসজিদ, এবতেদায়ী শিক্ষা ও এতিম শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরির ক্ষেত্রেও তিনি ভূমিকা রেখে চলেছেন। এ কারণে স্থানীয়ভাবে তিনি একজন সমাজসংস্কারক ও শিক্ষানুরাগী হিসেবে পরিচিতি অর্জন করেছেন।


ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একটি পূর্ণাঙ্গ বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে তিনি ১৭ জন শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিকে নিয়ে পরিচালনা পর্ষদ গঠন করেছেন। তাঁদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার উদ্যোগ চলছে, যেখানে একদিকে থাকবে নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ, অন্যদিকে থাকবে আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা।


সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। শিক্ষার পরিবেশ, অবকাঠামো ও প্রতিষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা দেখে তিনি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং প্রধান পৃষ্ঠপোষক মোহাম্মদ শাহ আলমসহ পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের অভিনন্দন জানান।


পরিদর্শনকালে তিনি প্রতিষ্ঠানটিকে কয়েকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্যের সমন্বয়ে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষায় মানসম্মত শিক্ষার পাশাপাশি কম্পিউটার, তথ্যপ্রযুক্তি, কারিগরি দক্ষতা এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা-সহায়ক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


শাহজাহান চৌধুরীর মতে, একটি আধুনিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু পরীক্ষায় ভালো ফলাফল বা সনদ প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। শিক্ষার্থীদের বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত করা, তাদের দক্ষ করে তোলা এবং ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের উপযোগী করে গড়ে তোলাই হওয়া উচিত শিক্ষার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।


সেই ভাবনা থেকেই ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজকে একটি “Education, Skill & Employment Hub” হিসেবে গড়ে তোলার যে ধারণা সামনে এসেছে, তা উখিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।


বর্তমান সময়ে শুধু একাডেমিক ডিগ্রি বা সনদ একজন তরুণের কর্মজীবনের নিশ্চয়তা দিতে পারে না। প্রয়োজন ভাষাজ্ঞান, প্রযুক্তিগত দক্ষতা, যোগাযোগ সক্ষমতা, নৈতিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ। এসব বিষয়কে শিক্ষার মূলধারায় যুক্ত করা গেলে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষার্থী তৈরি করবে না; তৈরি করবে দক্ষ, আত্মনির্ভর ও কর্মক্ষম প্রজন্ম।


উখিয়ার মতো একটি সম্ভাবনাময় জনপদে এমন একটি বহুমুখী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে আশাব্যঞ্জক। তবে এর সাফল্য নির্ভর করবে মানসম্মত শিক্ষক, আধুনিক পাঠ্যক্রম, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, স্বচ্ছ পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর।


মোহাম্মদ শাহ আলমের স্বপ্ন ও ১৭ জন শিক্ষানুরাগীর সম্মিলিত উদ্যোগ যদি সঠিক পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে এগিয়ে যায়, তাহলে ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভবিষ্যতে শুধু উখিয়া নয়, কক্সবাজারের শিক্ষা অঙ্গনেও একটি অনুসরণীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।


বিবার্তা/মোসলেহ উদ্দিন/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected] ​, [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com