
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. হান্নান মিয়া এবং সহ-সভাপতি বাবর আলীকে ঘিরে একটি মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ করা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অফিস খরচের কথা বলে ওই টাকা নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফলদা ইউনিয়নের গোনাপাড়া এলাকার ফলদা গোনাপাড়া দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার নামে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্প বরাদ্দ করা হয়। অভিযোগ রয়েছে,ওই প্রকল্পের বরাদ্দের অর্থ থেকে ৩০ হাজার টাকা অফিস খরচ দেখিয়ে নেওয়া হয়। এতে প্রকল্পের অর্থের ব্যবহার এবং টাকা নেওয়ার বৈধতা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এদিকে, মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুস সালামের সঙ্গে স্থানীয় এক সাংবাদিকের কথোপকথনের একটি ফোনালাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ফোনালাপে প্রকল্পের টাকা থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বিষয়টি যাচাই করতে সরেজমিনে মাদ্রাসায় গেলে অধ্যক্ষ আব্দুস সালাম বলেন, প্রকল্পের টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে পরে ওই টাকা ফেরত দিয়েছে। টাকা নেওয়া ও ফেরত দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যাও দেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে অর্থ বরাদ্দ এনে সেখান থেকে অফিস খরচসহ নানা অজুহাতে টাকা নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কেউ জড়িত থাকলে তিনি জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের কল্যাণের পরিবর্তে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অভিযোগের বিষয়ে ফলদা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. হান্নান মিয়া ও বাবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা বলেন, চেয়ারম্যান পদে প্রার্থিতা ঘোষণা করার পর থেকেই রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার বলেও দাবি করেন।
স্থানীয়দের মতে, সরকারি বা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বরাদ্দ করা উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ নির্ধারিত কাজেই ব্যয় হওয়ার কথা। প্রকল্পের অর্থ থেকে অফিস খরচ দেখিয়ে ৩০ হাজার টাকা নেওয়া হয়ে থাকলে এর কারণ, অনুমোদন ও বৈধতা যাচাই করা প্রয়োজন।
এ কারণে স্থানীয়রা প্রকল্পটির বরাদ্দের নথি, অর্থ উত্তোলনের তথ্য, প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি এবং ৩০ হাজার টাকা নেওয়া ও পরবর্তীতে ফেরত দেওয়ার বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তারা।
এ বিষয়ে প্রকল্প কর্মকর্তা সাখোয়াত হোসেনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে প্রকল্পের বরাদ্দ,অর্থ উত্তোলন ও ব্যয়ের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিবার্তা/বাবু /এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]