ফুলবাড়ীতে জলাবদ্ধতা : বৃষ্টির পানিতে ডুবল দেড় হাজার বিঘা বোরো খেত
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:৫৮
ফুলবাড়ীতে জলাবদ্ধতা : বৃষ্টির পানিতে ডুবল দেড় হাজার বিঘা বোরো খেত
ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে টানা কয়েক দিনের ঝড়বৃষ্টিতে দুই ইউনিয়নের দশ গ্রামের দেড় হাজার বিঘা বোরো ধান খেত জলাবদ্ধতার পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কোমর পানিতে নেমেই ধান কাটার অপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা। তলিয়ে যাওয়া খেতের ধান কেটে রাখার জায়গা না থাকায় সেগুলো ভেলায় ঠেলে ডাঙায় এনে রাখতে হচ্ছে। স্বপ্নের ধান ঘরে তোলার আগেই জলাবদ্ধতার জন্য বোরো খেত পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আর্থিক লোকসানে মুখে পড়েছেন এলাকার দুই শতাধিক কৃষক।


সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার ৫নং খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের লহ্মীপুর, মহেশপুর, লালপুর, মহদিপুর, পূর্ব নারায়ণপুর এবং ৬নং দৌলতপুর ইউনিয়নের গড়পিংলাই, বারাইপাড়া, আড়াপাড়া, ঘোনাপাড়া, গণিপুর, পলিপাড়াসহ দশ গ্রামের প্রায় দেড় হাজার বিঘা ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে। কৃষকরা চড়া দামে মজুর নিয়ে চার-পাঁচদিন ধরে কোমর পানির নিচে তলিয়ে থাকা খেতের ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ইতোমধ্যে ডুবে থাকা ক্ষেতের ধান অনেকটাই পচে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়ে গেছে।


জানা যায়, ভুক্তভোগী কৃষকদের আন্দোলন সংগ্রামের পর জমি জলাবদ্ধতা নিরসন কল্পে উপজেলা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে জাইকা প্রকল্পের অর্থায়নে এলজিইডি এর ব্যবস্থাপনায় ২০২০ সালে প্রথম পর্যায়ে ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়ে উপজেলার দৌলতপুর বারাইপাড়া এলাকায় ১৬৩ মিটার ক্যানেল (ড্রেন) নির্মাণ করা হয়। দ্বিতীয় পর্যায়ে ১১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪৩ মিটার মিটার ক্যানেলটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে ২০৬ মিটার দীর্ঘ ক্যানেলটি নির্মাণে ৫৫ লাখ ৪৫ হাজার ব্যয় হলেও শুধুমাত্র তৎকালীন উপজেলা প্রকৌশলীর অজ্ঞতা ও য়িত্বহীনতার জন্য ক্যানেলটি ভুক্তভোগী কৃষকদের সুফল বয়ে আনেনি। উপরোন্ত জমি থেকে ক্যানেলটি অন্তত দেড় থেকে দুই ফুট উঁচুতে নির্মাণ করায় পূর্বের চেয়ে আরো বেশি জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে কমবেশি বছরজুড়েই ওই জমিতে চাষাবাদ বন্ধ থাকছে।


এদিকে ঝুঁকি নিয়ে বোরো আবাদ করলেও ধান ঘরে তোলার আগ মুহূর্তে কয়েকদিনের ঝড়বৃষ্টিতে পানিতে তলিয়ে আছে কৃষক আইয়ুব আলীর চার বিঘা, মোস্তাফিজার রহমানের ৩২ বিঘা, মো. বাবুর ১৮ বিঘা, জয়নাল আবেদিনের ৬ বিঘাসহ অসংখ্য কৃষকের জমি।


তারা বলেন, ধান কাটার আগ মুহূর্তে বৃষ্টির পানিতে কোমর পানির নিচে ডুবে যাওয়া ধান বিঘা প্রতি ১০ হাজার টাকা চুক্তিতে কাটতে হচ্ছে।


ভুক্তভোগী কৃষক মতিবুল রহমান, মিজানুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম ও আবু মুসাবলেন, আগে এসব জমিতে চাষাবাদ হলেও স্থানীয় প্রভাবশালীরা অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে বন্ধ হয়ে যায় জমির পানি নিষ্কাশনের পথ। ফলে জলাবদ্ধ হয়ে আছে প্রায় দেড় হাজার বিঘা আবাদি জমি। সমস্যা নিরসনে ক্যানেল নির্মাণ করা হয়। এতে কাজের কাজ কিছুই হয়নি, উল্টো সরকারের অর্ধকোটি টাকা গচ্ছা গেছে। ক্যানেল তৈরি করা হলেও তা পরিকল্পনামাফিক তৈরি করা হয়নি, একারণে ওই ক্যানেল দিয়ে পানি প্রবাহের পরিবর্তে জমিতে আরো বেশি জলাদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রয়েছে। এ কারণে দীর্ঘ ২১ বছর ধরে পানির নিচে ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় চাষাবাদ করা যাচ্ছে না ওই জমিতে। একই কারণে প্রয়োজনের তাগিদে জমি বেচাবিক্রিও করা যাচ্ছে না।


বিষয়টি নিয়ে কথা বললে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ‘কয়েক দিনের টানা বৃষ্টির কারণে ওই সব এলাকায় জলাবদ্ধতা হয়েছে।জলাবদ্ধতার মূল কারণ ওই এলাকার অপরিকল্পিত পুকুর খনন। পানি নিষ্কাশনের সমস্যা হচ্ছে।


আমরা ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। অল্প পানি থাকা জমিতে কম্বাইন হার্ভেস্টার মেশিন নামতে পারলেও বেশি পানিতে নামানো সম্ভব হয়না। ইউএনও সাহেবের সাথে কথা বলে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে এর স্থায়ী সমাধান করতে হবে।’


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহমেদ হাছান বলেন, ‘জলাবদ্ধতা হওয়ার আগে কয়েক দফা ওই এলাকা পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমরা কিছু টেকনিক্যাল ফল্ট পেয়েছি যা ক্যানেল নির্মাণের সময় হয়েছিলো। এই মুহুর্তে এর কোন সমাধান সম্ভব নয়। এটি দীর্ঘ মেয়াদী প্রকল্পের মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। শীঘ্রই স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে সরেজমিনে এনে বড় পরিসরে সমাধানের উদ্যোগ নেয়া হবে।’


বিবার্তা/অমর/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com