
জ্বালানি তেল মজুদ ও পাচার প্রতিরোধে লালমনিরহাটের সীমান্ত এলাকায় নজরদারি ও অভিযান জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বিশেষ করে হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম সীমান্তে তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) তিস্তা ব্যাটালিয়ন (৬১ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সৈয়দ ফজলে মুনীম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে সীমান্ত এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্ত সংলগ্ন ফিলিং স্টেশন ও ডিলারদের জ্বালানি তেল উত্তোলন ও বিক্রয় কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এছাড়া সন্দেহভাজন যানবাহনে আকস্মিক তল্লাশি, নিয়মিত মোবাইল টহল বৃদ্ধি এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুটে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তেল পাচারের সঙ্গে জড়িত সম্ভাব্য সিন্ডিকেট চিহ্নিত করতে গোয়েন্দা তৎপরতাও বাড়ানো হয়েছে।
বিজিবি আরও জানায়, অবৈধ জ্বালানি মজুদ ও পাচারের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনগণকে নিয়ে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষকে এসব অবৈধ কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকতে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের সীমান্ত গুলোতে তৎপরতা বাড়িয়েছে বিজিবি। এক মাসে বিভাগটির তিন জেলার সীমান্ত থেকে ১৩০০ লিটারের বেশি জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
রংপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার সূত্রে জানা গেছে, গত এক মাসে সীমান্ত এলাকা থেকে এক হাজার ৩১৮ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ডিজেল ১ হাজার ১৩৫ লিটার এবং পেট্রোল ১৮০ লিটার।
কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারীর জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে এসব জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি জোরদার, চেকপোস্ট স্থাপন, বিশেষ টহল ও সন্দেহজনক যানবাহনে তল্লাশি কার্যক্রম বাড়ানো হয়েছে।
রংপুর বিজিবি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল শফিক জানিয়েছেন, লালমনিরহাটের বুড়িমারী, কুড়িগ্রামের সোনারহাটসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবি কঠোর অবস্থানে রয়েছে। স্থলবন্দর দিয়ে যেসব যানবাহন আসছে তার সবগুলোই তল্লাশি করা হচ্ছে। তেলের ট্যাংকও চেক করা হচ্ছে।
উদ্ধার করা জ্বালানি ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে মজুদ করা হয়েছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতে পাচার হওয়ার কোনো তথ্য আমাদের কাছে নেই। সীমান্তবর্তী মানুষ পাচারের চেয়ে মজুদ রাখতে বেশি আগ্রহী বলে মনে হয়েছে। সীমান্তে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে কেউ পাচারের সাহস পাবে না।
অবৈধ জ্বালানি মজুত ও পাচারের কু-ফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সীমান্তবর্তী এলাকায় স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণে সচেতনতামূলক সভা আয়োজন করা হচ্ছে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে জনগণকে তেল পাচার থেকে বিরত থাকার জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।
বিজিবি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে সর্বদা সতর্ক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিবার্তা/হাসানুজ্জামানি/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]