
বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ সুতালড়ী মনির উদ্দিন দাখিল মাদ্রাসার অ্যাকাডেমিক ভবনটি বর্তমানে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বারইখালী ইউনিয়নের এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনটির ছাদ ও পিলারের একাধিক স্থানে গভীর ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। যে কোনো সময় ভবনটি ধসে পড়ে কোমলমতি শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে ভয়াবহ প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে।
দেখা গেছে, একতলা অ্যাকাডেমিক ভবনের ছাদ কাঠের তৈরি অস্থায়ী খুঁটি ও সাপোর্ট দিয়ে কোনো রকমে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে।শ্রেণি কক্ষের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে ফেটে যাওয়া ছাদ, ঝুলে থাকা পলেস্তারা এবং খসে পড়া কংক্রিটের অংশ। ক্লাশ চলাকালীন সময়ে ছাদ থেকে ধুলো ও ছোট কংক্রিটের টুকরো পড়ছে। আতঙ্কের মধ্যেই পড়াশোনা করছে শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয়রা জানান, ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় তিন দশক আগে। উপকূলীয় অঞ্চলের লবণাক্ত মাটি, নিয়মিত ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার কারণে ভবনের পিলারগুলোর নিচের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে যথাযথ সংস্কারের অভাবে ভবনটি এখন কার্যত একটি মৃত ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে।
মাদ্রাসার নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বিকল্প কোনোশ্রেণি কক্ষ না থাকায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জীবন ঝুঁকিতে রেখে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
মাদ্রাসা সুপার মো. মতিউর রহমান খান বলেন, বৃষ্টির মাস গুলোতে এখানে ক্লাশ নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। ছাদ চুয়ে সমস্ত রুমে পানি পড়ে। অপরদিকে আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয় কখন কার মাথার ওপর ছাদ ভেঙে পড়ে। তাই নতুন একটি ভবন নির্মাণ না হলে আমাদের শিক্ষা কার্যক্রম ভিশন ভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে ইবতেদায়ি থেকে দাখিল পর্যন্ত তিন শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যেও প্রতিষ্ঠানটি বিগত কয়েক বছরে দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ফলাফলে বিভিন্ন সময় প্রথম স্থান অর্জন করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে গড়ে ওঠা বহু মেধাবী শিক্ষার্থী বর্তমানে রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছে। নিরাপদ শ্রেণি কক্ষের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, মাদ্রাসার দুটি টিনশেড আধাপাকা শ্রেণি কক্ষও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
মাদ্রাসার সাবেক ইংরেজি শিক্ষক মাস্টার হারুনুর রশিদ জানান, ভবনের ছাদ দুর্বল হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টি হলেই শ্রেণি কক্ষে পানি ঢুকে পড়ে। ফলে বৃষ্টির সময় পাঠদানের উপযোগী কোনো পরিবেশ থাকে না।
এলাকাবাসী জানান, দক্ষিণ সুতালড়ী এলাকায় একটি সাইক্লোন সেন্টার আজও গড়ে ওঠেনি। এলাকাটি দুর্যোগপ্রবণ হওয়া সত্ত্বেও এখানে কোনো সাইক্লোন শেল্টার নেই। নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মিত হলে সেটি দুর্যোগকালীন সময়ে এলাকাবাসীর জন্যসাইক্লোন শেল্টার হিসেবেও ব্যবহার করা যেত। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে ঝুঁকির মধ্যেই চলছে শিক্ষা কার্যক্রম।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় অভিভাবক ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণা করে একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
বিবার্তা/রাজীব/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]