
আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে উত্তরের পথে যমুনা সেতু–টাঙ্গাইল–ঢাকা মহাসড়কে যানজটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, অন্তত ছয়টি প্রধান কারণে মহাসড়কের চারটি গুরুত্বপূর্ণ স্পট—এলেঙ্গা, গোলচত্বর, টোল প্লাজা ও যমুনা সেতুর ওপর—তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে ছয় লেনের যানবাহনের চাপ দুই লেনে এসে পড়া। ঢাকার দিক থেকে সার্ভিস লেনসহ ছয় লেনে আসা যানবাহন এলেঙ্গা এলাকায় এসে দুই লেনে প্রবেশ করতেই গতি কমে যায়। এর ফলে দ্রুতই দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, মহাসড়কে ফিটনেসবিহীন ও পুরনো লোকাল বাস চলাচলও যানজটের বড় কারণ। এসব ‘লক্কড়ঝক্কড়’ বাস পথে বিকল হয়ে পড়লে সেগুলো সরাতে সময় লাগে ২০ থেকে ৩০ মিনিট। ঈদের ব্যস্ত সময়ে এই সামান্য সময়ই দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়।
এছাড়া এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ চলমান রয়েছে। ফ্লাইওভার ও মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণকাজের কারণে যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে।
টোল আদায়ের ধীরগতি বা সাময়িক বন্ধ থাকাও যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে ধরা হয়। ঈদের সময় সেতুতে যানবাহনের চাপ বাড়ার কারণে টোল প্লাজায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়।
এদিকে মোটরসাইকেলের সংখ্যাও বাড়ছে। সেতু কর্তৃপক্ষ মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা টোল বুথের ব্যবস্থা করলেও তা অনেক সময় যথেষ্ট হয় না। সেতুর ওপর যানবাহন ধীরগতিতে চলার সময় মোটরসাইকেল চালকেরা ফাঁক পেলেই সামনে ঢুকে পড়ায় অন্যান্য যানবাহনের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
সড়ক বিভাগ সূত্র জানায়, মহাসড়কের টাঙ্গাইল অংশের মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত ছয় লেন চালু রয়েছে। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার অংশে চার লেনের কাজ চলমান। গোড়াই থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৬৫ কিলোমিটার মহাসড়ক টাঙ্গাইল জেলার মধ্যে পড়েছে।
সাধারণ সময়ে এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার যানবাহন চলাচল করে। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে এই সংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। যমুনা সেতু টোল প্লাজা সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ঈদুল আজহার ছুটি শুরুর দিনে সেতু দিয়ে ৬৬ হাজার ৪৮৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছিল।
সরেজমিনে টাঙ্গাইল শহর বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত ২৪ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, সড়কের অবস্থা তুলনামূলক ভালো। তবে এলেঙ্গার পর থেকে চার লেনের কাজ চলমান রয়েছে এবং এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ফ্লাইওভার নির্মাণকাজ চলছে।
মহাসড়কে চলাচলকারী নির্জন এন্টারপ্রাইজ বাসের হেলপার আব্দুল বাসেত, শ্রাবণ এন্টারপ্রাইজের চালক সালাউদ্দিন ও চালক সাহেব আলী জানান, ঈদের সময় ফিটনেসবিহীন যানবাহনের কারণে প্রায়ই গুরুত্বপূর্ণ স্থানে গাড়ি বিকল হয়ে পড়ে। এতে দ্রুত যানজট তৈরি হয়।
তারা আরও জানান, এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের কাজ কয়েক বছর ধরে চলছে। কাজের ধীরগতির কারণে চালক ও যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
তবে প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। মহাসড়কের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত আব্দুল মোনেম লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার রবিউল আউয়াল জানান, এলেঙ্গা থেকে সেতু পর্যন্ত চার লেনের কাজ প্রায় শেষ। ঈদের আগেই সড়কের দুই পাশের লেন যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শরীফ বলেন, একটি যানবাহন বিকল হলে তা সরাতে অন্তত ১০ মিনিট সময় লাগে। তবে এই সময়ের মধ্যেই দীর্ঘ যানজট তৈরি হতে পারে।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক সময়ে সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম প্রান্তে সাতটি করে টোল বুথে টোল আদায় করা হয়। ঈদের সময় তা বাড়িয়ে প্রতিপ্রান্তে ৯টি করে মোট ১৮টি বুথ চালু করা হবে। মোটরসাইকেলের জন্যও পৃথক বুথ থাকবে। এছাড়া যানবাহন বিকল বা দুর্ঘটনা ঘটলে দ্রুত সরিয়ে নিতে র্যা কার প্রস্তুত রাখা হবে।
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, রাবনা বাইপাস থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত মহাসড়কে ১৪টি ঝুঁকিপূর্ণ স্পট চিহ্নিত করা হয়েছে। তিন শিফটে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন। ঈদের পাঁচ দিন আগে থেকে ঈদের পরবর্তী সাত দিন পর্যন্ত যানজট নিরসনে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে।
বিবার্তা/ইমরুল/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]