জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ছিল না আইন, কোলাহলপূর্ণ এলাকা এখন নীরব
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:২৩
জঙ্গল সলিমপুরে দীর্ঘদিন ছিল না আইন, কোলাহলপূর্ণ এলাকা এখন নীরব
জয়দেব (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রিন্ট অ-অ+

চট্টগ্রাম নগরের পাশ ঘেঁষে বায়েজিদ বোস্তামী সংযোগ সড়কটি ফৌজদারহাটের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে। শেরশাহ মোড় থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার এগিয়ে ডানদিকে পাহাড় কেটে তৈরি একটি সড়ক চলে গেছে জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের দিকে।


পাহাড়ঘেরা এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে ইয়াছিন ও রোকন বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এখানে তাদের কথাই ছিল আইন। শত শত পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে ঘরবাড়ি, দোকানপাট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বাজার।


সোমবার (৯ মার্চ) দুপুর দুইটা থেকে প্রায় দুই ঘণ্টা এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন দৃশ্য। আগে মোড়ে মোড়ে কোলাহল থাকলেও এখন সুনশান নীরবতা। এলাকায় ব্যাপকসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে।


সেদিন প্রায় তিন হাজার ২০০ সদস্যের যৌথবাহিনী সেখানে অভিযান চালায়। বিকেল পর্যন্ত ২৫ জনকে গ্রেফতারের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মূলহোতা ইয়াছিন ও রোকনের কোনো হদিস পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


র‍্যাব সদস্য হত্যা ঘিরে আলোচনায় এলাকাটি। গত ১৯ জানুয়ারি র‍্যাব-৭ এর গোয়েন্দা টিমের প্রধান নায়েব সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়াকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার পর নতুন করে আলোচনায় আসে জঙ্গল সলিমপুর।


সেদিন বাজার এলাকায় বিএনপির একটি কার্যালয় উদ্বোধনের সময় ইয়াছিনকে গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালায় র‍্যাব। এ সময় র‍্যাবের চার সদস্যকে ধরে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা। তাদের মারধর করা হয় এবং মোতালেব হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।


স্থানীয় যুবক শহীদুল ইসলাম জানান, ওই কার্যালয় থেকেই ঘটনার সূত্রপাত হয়েছিল। প্রবেশমুখে ছিল কঠোর নজরদারি
নগরের বায়েজিদ আরেফিন নগর থেকে যে সড়কটি জঙ্গল সলিমপুরে ঢুকেছে সেটি আরসিসি ঢালাইয়ের। প্রায় এক কিলোমিটার যাওয়ার পর রাস্তা শেষ হয়।


স্থানীয়রা জানান, আগে এই প্রবেশমুখ দিয়ে ঢুকতে হলে ইয়াছিন-রোকন বাহিনীর সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হতো। পরিচয়পত্র না থাকলে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হতো না।


আধা কিলোমিটার এগোতেই একটি বাজার ও চারতলা ভবনের এসএম পাইলট প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়। কাছেই রয়েছে সীতাকুণ্ড থানার অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প। তবে স্থানীয়দের দাবি, পুলিশ সদস্যরা সেখানে থাকলেও বাস্তবে পুরো এলাকা নিয়ন্ত্রণ করতেন ইয়াছিন ও তার লোকজন।


সরেজমিনে দেখা গেছে, পাহাড় কেটে তৈরি প্রশস্ত মাটির সড়কের দুই পাশে গড়ে উঠেছে অসংখ্য বসতবাড়ি। লোহারপুল এলাকায় রয়েছে আরেকটি বাজার এবং একটি ব্রিজ। তার পাশে বিদ্যুতের খুঁটিতে লাগানো দুটি সিসিটিভি ক্যামেরা অপসারণ করতে দেখা গেছে পুলিশকে।


সেখানকার মুদি দোকানী মঈনুল ইসলাম বলেন, তিন মাস আগে দোকানটি ভাড়া নিয়েছেন। দোকানগুলোর ভাড়া নেন সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের এক সদস্য। তবে প্রকৃত মালিক কে তা তিনি জানেন না। সিসিটিভি ক্যামেরা কারা বসিয়েছেন তাও তার জানা নেই।


এলাকায় বিদ্যুতের লাইন, ডিপ টিউবওয়েল, কালভার্ট, ব্রিজ ও ড্রেনসহ বিভিন্ন অবকাঠামো গড়ে তুলেছে সরকারি সংস্থাগুলো। ফলে কম ভাড়ায় বসবাসের সুযোগ পেয়ে নিম্নআয়ের মানুষ এখানে বসতি গড়েছেন। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাসী বাহিনী পাহাড় কেটে হাজার হাজার প্লট তৈরি করে বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


লোহার ব্রিজ পার হয়ে পাহাড়ি ছড়ার ওপর নির্মিত একটি ব্রিজ রয়েছে, যা ২০১৭ সালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর নির্মাণ করে। স্থানীয় সাবেক সংসদ সদস্য দিদারুল আলম এটি উদ্বোধন করেন।
ব্রিজ পার হতেই পাহাড়ের পাদদেশে একটি মাঠ ও ফলক দেখা যায়, যেখানে লেখা রয়েছে ‘আরাফাত রহমান কোকো প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং সামাজিক খেলার মাঠ।


এরপর পাথরীঘোনা এলাকায় কয়েকটি দোকান ও পাহাড় কেটে নির্মাণাধীন প্যাসিফিক বহুমুখী স্কুল অ্যান্ড কলেজ দেখা যায়।আরও সামনে এগোলেই আলীনগর। এখানেও পাহাড়ের পাদদেশ থেকে চূড়া পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে অসংখ্য বসতবাড়ি, মাদ্রাসা, বিদ্যালয় ও ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠান।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com