
সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে সন্তানদের মধ্যকার দীর্ঘ টানাপোড়েন আর জেদের অবসান ঘটল শেষ পর্যন্ত। দীর্ঘ ২৫ ঘণ্টা বাড়িতে পড়ে থাকার পর অবশেষে দাফন করা হলো ৯০ বছর বয়সী বৃদ্ধ আজিজার রহমানের মরদেহ। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী পৌরসভার পায়রাডাঙ্গা এলাকায় বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে সম্পত্তি বণ্টনের লিখিত অঙ্গীকারের পর দাফনকার্য সম্পন্ন হয়।
গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান আজিজার রহমান। নিয়ম অনুযায়ী বুধবার সকাল ১১টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করে মাইকিং করা হয়েছিল। কিন্তু জানাজার আগমুহূর্তে দাফনে বাধা হয়ে দাঁড়ান তার প্রথম পক্ষের বড় ছেলে আব্দুল হাকিম। তার অভিযোগ ছিল, বাবা জীবদ্দশায় প্রথম পক্ষের সন্তানদের বঞ্চিত করে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানদের নামে গোপনে সব সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন।
মরদেহ দাফন না করে সকাল থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত চলে দফায় দফায় সালিস-বৈঠক। বড় ছেলের দাবি ছিল, আগে জমির ফয়সালা হবে, তারপর দাফন। এলাকাবাসী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি নিয়ে দিনভর সমঝোতার চেষ্টা চালিয়েও ব্যর্থ হন। ফলে জানাজায় আসা মানুষজনকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যেতে হয়।
অবশেষে গত রাত ১১টার দিকে স্থানীয়দের উপস্থিতিতে একটি আপসনামা তৈরি করা হয়। যেখানে ২১ শতক বসতভিটার জমি দুই ভাইয়ের মধ্যে ৮ শতক করে এবং বাকি অংশ বোনদের মাঝে বণ্টনসহ আবাদি জমি আইনগতভাবে ভাগ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। স্ট্যাম্পে সব পক্ষের স্বাক্ষর নিশ্চিত হওয়ার পর শুরু হয় দাফনের প্রক্রিয়া।
মৃতের বড় ছেলে আব্দুল হাকিম অভিযোগ করেন, ‘তার বাবার প্রথম স্ত্রীর চার সন্তান তিনিসহ জোসনা, ময়না ও আজিমন বিবিকে রেখে তার মা জয়গুন মারা যান। এরপর তার বাবা আজিজার রহমান রহিমা নামে এক নারীকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন রহিমার পক্ষের এক ছেলে রফিকুল ইসলাম ও এক মেয়ে আকলিমা রয়েছে।’
আব্দুল হাকিমের দাবি, ‘জীবদ্দশায় তাদের বাবা দ্বিতীয় স্ত্রীর সন্তান রফিকুল ইসলাম ও আকলিমাকে গোপনে সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিয়েছেন। বিষয়টি জানার পর অভিযোগ করলেও তারা আমলে নেয়নি এবং সেটি বিরোধ চলে আসছিল। একারণে দাফনে বাঁধা দেন।’
সাক্ষী ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘মরদেহ সামনে রেখে এমন বিরোধ অত্যন্ত দুঃখজনক এবং লজ্জার। তবে শেষ পর্যন্ত স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর ও সমঝোতা হওয়ার পর রাত ১১টায় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।’
মৃত্যুর ২৫ ঘণ্টা পর দাফন হওয়ার এই ঘটনাটি পুরো নাগেশ্বরী এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সাধারণ মানুষের মাঝে এটি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে নাগেশ্বরী থানা পুলিশ জানায়, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেনি। তবে লোকমুখে তারা ঘটনাটি শুনেছেন।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]