
শিক্ষা মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) কর্তৃক আয়োজিত জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ–২০২৬ উপলক্ষ্যে নির্ধারিত ক্যাটাগরিভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ময়মনসিংহ বিভাগে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান (কলেজ) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে কলেজের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান অধ্যক্ষ ড. মো. আতাউর রহমান।
তিনি বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) তত্ত্বাবধানে দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। শিক্ষা কার্যক্রমের মান, সহশিক্ষা কার্যক্রম, শৃঙ্খলা, সৃজনশীলতা, অবকাঠামো ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন করা হয়। সেই মূল্যায়নে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ময়মনসিংহ বিভাগে ১০০ নম্বরের মধ্যে ৯৮ নম্বর পেয়ে শ্রেষ্ঠ কলেজ নির্বাচিত হয় এবং জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে।
অধ্যক্ষ আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিজ্ঞানমনস্ক চিন্তাধারায় গড়ে তুলতে কলেজ প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রম, বিজ্ঞানচর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও খেলাধুলায় সক্রিয় অংশগ্রহণ এই সাফল্যের অন্যতম কারণ। ভবিষ্যতে জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল প্রতিভা, শিক্ষকতার মান, শ্রেণিকক্ষ ব্যবস্থাপনা, প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ও পরিবেশ এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমসহ একাধিক সূচকের ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
অ্যাকাডেমিক ফলাফলেও কলেজটির অবস্থান সুদৃঢ় বলে দাবি করেন অধ্যক্ষ। এইচএসসি ২০২৫ পরীক্ষায় ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডে শীর্ষস্থান ধরে রাখে কলেজটি। শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াড ও জাতীয় ফিজিক্স অলিম্পিয়াডে সাফল্য অর্জন করেছে। এক ব্যাচ থেকে ৫২ জন শিক্ষার্থী সরকারি মেডিক্যাল কলেজে এবং ৩৯ জন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) ভর্তির সুযোগ পেয়েছে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও তুলে ধরেন অধ্যক্ষ। তিনি বলেন, প্রতিটি শ্রেণিকক্ষে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের মাধ্যমে পাঠদান, ডিজিটাল উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং অভিভাবকদের মোবাইলে স্বয়ংক্রিয় এসএমএস পাঠানোর ব্যবস্থা চালু রয়েছে। অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী পাঁচটি টার্মে পাঠদান সম্পন্ন, অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের কাউন্সেলিং এবং এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ রিভিশন ক্লাসও পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়নে ইন-হাউস প্রশিক্ষণ ও মাইক্রো-টিচিং কার্যক্রম চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. হাম্মাদুর রহমান এবং কলেজের শিক্ষক–কর্মকর্তারা।
বিবার্তা/আমানুল্লাহ/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]