
একসময় যে সম্পর্কের শুরু হয় ভালোবাসা ও রঙিন স্বপ্ন দিয়ে, সেই সম্পর্কই এসে থামে আদালতের নথিতে নীরবে, নিঃশব্দে ভেঙে যাচ্ছে অনেক সংসার। বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ময়মনসিংহে বিবাহ বিচ্ছেদের সংখ্যা বেড়েছে। প্রতিদিন গড়ে জমা পড়ছে ১৫ থেকে ২০টি আবেদন। মূলত পরকীয়া, বাল্যবিয়ে, পারিবারিক সহিংসতা, দারিদ্র্য, মাদকাসক্তি ও জুয়ার মতো কারণগুলো সংসার ভাঙনের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
একজন অভিযোগকারী জানান, ‘টাকা জন্য চাপ দেয়া হয়। টাকা নেয়ার পর আমার বাচ্চা পেটে থাকা অবস্থায় স্বামী আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। আমার বাবা-মা বিয়ে দিয়েছিল ভালোর জন্য, কিন্তু এখন সে অন্য এক মেয়ের দিকে ঝুঁকছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরকীয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় অত্যধিক আসক্তি এবং বাল্যবিবাহ সম্পর্কের ভিত দুর্বল করছে। ময়মনসিংহ জেলা লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন বড় ইস্যু ছাড়াও অনেক সময় ছোটোখাটো কারণেও তালাক হয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টরগুলো হলো পরকীয়া, সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি এবং বাল্যবিবাহ।
বিবাহ বিচ্ছেদের ফলে সন্তানের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে এবং সমাজের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তাই বিচ্ছেদ কমাতে সচেতনতার পাশাপাশি পারিবারিক মূল্যবোধ ধরে রাখার কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা। ময়মনসিংহ মহিলা বিষয়ক অধিদফতরের উপ-পরিচালক নাজনীন সুলতানা জানান, যখন অভিযোগ শুনানির জন্য বাদী ও বিবাদী পক্ষকে ডাকা হয়, তখন প্রথমে মীমাংসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মীমাংসা সম্ভব নয়, তখনই কেবল বিচ্ছেদের পরামর্শ দেয়া হয়।
ময়মনসিংহ আনন্দ মোহন কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফারজানা ইয়াসমিন বলেন, ব্যক্তি যদি নিজের নৈতিক মূল্যবোধ বজায় রাখতে পারে, তবে বিবাহ বিচ্ছেদ কমে যাবে। এজন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়কেই পরস্পরের প্রতি সহনশীল হতে হবে এবং বোঝাপড়া বাড়াতে হবে।
ময়মনসিংহ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, পারিবারিক সম্পর্ক ভেঙে গেলে সামাজিক অবক্ষয় ঘটে এবং মানুষ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ে। তাই স্বামী-স্ত্রীর এই পবিত্র সম্পর্ক রক্ষা করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।
জেলা রেজিস্ট্রি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে ময়মনসিংহে প্রায় ১৮ হাজার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]