রাজনৈতিক ইতিহাসে ৯ বারের এমপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ
প্রকাশ : ০১ জুন ২০২৬, ১৭:৪২
রাজনৈতিক ইতিহাসে ৯ বারের এমপি ছিলেন তোফায়েল আহমেদ
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য অধ্যায়ের অবসান ঘটলো উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান ও মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ–এর মৃত্যুর মধ্য দিয়ে।


সোমবার (১ জুন) বিকাল পৌনে ৪টার দিকে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর।


দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তোফায়েল আহমেদ ছিলেন বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব। তিনি ছাত্ররাজনীতি থেকে উঠে এসে দেশের স্বাধীনতা আন্দোলন, গণ-অভ্যুত্থান এবং পরবর্তী রাষ্ট্রগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।


১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলা সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ছাত্রজীবনেই রাজনীতিতে সক্রিয় হন এবং ১৯৬৭ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই সময়ই তিনি বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলনের সামনের সারির নেতৃত্বে উঠে আসেন।


১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানে তাঁর ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সে সময় ছাত্রসমাজের নেতৃত্বে যে আন্দোলন গড়ে ওঠে, তার অন্যতম মুখ ছিলেন তিনি। একই বছর ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি প্রদানের ঘটনায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে রাজনৈতিক ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে।


১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি স্বাধীনতার পক্ষে আন্তর্জাতিক জনমত গঠনে কাজ করেন এবং মুক্তিযুদ্ধ সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। যুদ্ধকালীন সময়েও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় করে স্বাধীনতা আন্দোলনকে শক্তিশালী করার চেষ্টা চালিয়ে যান।


স্বাধীনতার পর তিনি জাতীয় রাজনীতিতে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ১৯৭০ সালের নির্বাচনে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর স্বাধীন বাংলাদেশে নিজ জেলা ভোলা থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ১৯৭৩, ১৯৮৬, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হন।


সরকারে দায়িত্ব পালনকালেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালের ২৩ জুন তিনি শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। পরবর্তীতে ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তিনি বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি একাধিকবার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাও অর্জন করেন।


রাজনৈতিক জীবনে তিনি দীর্ঘ সময় জেলও খেটেছেন। ১৯৭৫ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে তিনি প্রায় ৩৩ মাসসহ একাধিকবার কারাভোগ করেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ ও আন্দোলনের কারণে তিনি নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে জীবন অতিবাহিত করেন।


দীর্ঘ এই রাজনৈতিক জীবনের মাধ্যমে তিনি শুধু একজন নেতা হিসেবেই নয়, বরং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক জীবন্ত সাক্ষী হিসেবেও বিবেচিত হন। ছাত্ররাজনীতি, গণ-অভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ে তাঁর উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com