সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আলোকিত মুখ শাহিনুর নার্গিস
প্রকাশ : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১৪:৩৬
সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় আলোকিত মুখ শাহিনুর নার্গিস
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। নবীন প্রবীণের সমন্বয়ে ৪৯ জন মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সাজিয়েছেন মন্ত্রিসভা। বিএনপির এই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের পর সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের বিষয়ে চলছে আলোচনা।


বিএনপির নীতিনির্ধারকরা বলছেন, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, দলের প্রতি আনুগত্য এবং রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা-এসবই হতে পারে মূল্যায়নের মানদণ্ড। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে দলের হাইকমান্ড থেকে।


সম্প্রতি বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান গণমাধ্যমকে বলেন, সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে দলীয় পর্যায়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি। যথাযথ নিয়ম মেনেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসবে। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।


নারী আসনে মনোনয়ন পেতে মহিলা দলের পাশাপাশি অতীতে ছাত্রদল করা নেত্রীরা বেশ এগিয়ে আছেন। আলোচনায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেত্রী শাহিনুর নার্গিস। তিনি বর্তমানে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।


শাহিনূর নার্গিস তার ৩১ বছরের রাজনৈতিক জীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও মহিলা দলের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।


১৯৯৫ সালে নরসিংদীর পলাশ শিল্পাঞ্চল কলেজে শাহিনুর নার্গিসের রাজনীতির হাতেখড়ি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কলেজে কমিটির ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।


১৯৯৮ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হল ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে রোকেয়া হল ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও ২০০৪ সালে সভাপতি নির্বাচিত হন শাহিনুর নার্গিস। ২০১০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সদস্য পদে দায়িত্ব পান। ২০১২ সালে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক ও ২০১৫ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন।


ছাত্র রাজনীতি ছেড়ে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ঢাকা মহানগর দক্ষিণ মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক, সদস্য সচিব ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বিগত ১৭ বছরে ৩৫টির বেশি মামলার আসামি হয়েছেন শাহীনুর নার্গিস। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘদিন কারাগারে ছিলেন। ২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত সরকারের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সঙ্গে সব মামলার আসামি হন। ৭ মার্চ তারেক রহমানকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে ঢাবি ক্যাম্পাসে মামলার ভুক্তভোগী একমাত্র ছাত্রী শাহিনুর নার্গিস।


সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে শাহীনুর নার্গিস বলেন, ‘আজীবন দলের জন্য কাজ করেছি। দলের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জিয়া পরিবারের দুঃসময়ে পাশে থেকেছি। দলের নেতৃত্বের প্রতি অনুগত ছিলাম। সংরক্ষিত নারী আসনে প্রত্যাশিত প্রার্থী এবং দল ১৭ বছরের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামের একটা ফ্রেমকে প্রাধান্য দিয়ে আলোচনা করছে। আমরা যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৯৮ সালে বিরোধী দল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত মামলা-হামলার শিকার হয়েছি, ১/১১’র আর্মি শাসনে রাজপথে জীবন বাজি রেখে সংগ্রাম করে নেত্রীকে মুক্ত করেছিলাম, তারেক রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর গর্জে উঠেছিলাম, অসংখ্য রাষ্ট্রদ্রোহী মামলার আসামি হয়ে পালিয়ে ছিলাম।


তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছি। জেল-জুলুমসহ নানাভাবে দমন-পীড়ন ও নির্যাতিত হয়েছি। নারী হয়েও বাসায় থাকতে পারিনি। দলের কাছে অনুরোধ, বিভিন্ন ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়ে যারা রাজপথে থেকেছে, নেতাকর্মীকে উজ্জীবিত রেখেছে, গ্রেফতার নেতাকর্মীদের জেলখানাসহ জামিন পর্যন্ত পাশে নেতা হিসেবে পাশে ছিল তাদের দিকে সুদৃষ্টি দিতে। অনেকে শুধু নিজেকে প্রতিনিধিত্ব করেছে এবং হাইলাইট হয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের প্রতি তাদের কোনো দায়বদ্ধতা ছিল না।’


তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের সব আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে ছিলাম। তাই সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি হিসেবে কাজ করার সুযোগ চাই। আমার বিশ্বাস নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে সংরক্ষিত আসনের এমপি হিসেবে মনোনয়ন দেবেন। আমি এমপি নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবো ইনশাআল্লাহ। করবো কাজ গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।


সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ঘিরে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা বেড়েছে। সরকার গঠনের পর এখন সবার নজর এই আসনগুলোর দিকে। ঈদের পরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনয়ন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে সময় যত গড়াচ্ছে, তীব্র হচ্ছে প্রতিযোগিতাও। অনেকেই বলছেন, শুধু পরিচয়ের রাজনীতি নয়, মাঠের অবদানও বিবেচনায় আসুক। পরিবারতন্ত্রের বাইরে থেকে উঠে আসা নেত্রীদের যোগ্যতা ও সংগ্রামের যথাযথ মূল্যায়ন হবে-এমনটাও প্রতাশা তাদের।


সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে ৫০টি নারী আসন সংরক্ষিত রয়েছে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, যে দল সাধারণ আসনে যতটি আসন পায়, সেই অনুপাতে সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। নিয়মানুযায়ী প্রতি ৬টি আসনের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত আসন পাওয়া যায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। সে হিসাবে ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে ৩৫টি পাবে দলটি। এছাড়া স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থীরা সাতটি আসন পেয়েছেন। ফলে স্বতন্ত্ররাও সংসদে একটি সংরক্ষিত নারী আসন পেতে পারেন। এদিকে সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com