
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ম্যাডাম (বেগম খালেদা জিয়া) যে ঐক্যের পাটাতন তৈরি করে দিয়ে গেছেন, তার ওপর দাঁড়িয়ে আমরা যেন আমাদের দায়িত্ব পালন করতে পারি। তারেক রহমানের সাহেবের সঙ্গে সেটা নিয়ে আমরা আলাপ আলোচনা করেছি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটাও বলেছি, নির্বাচনের পরপরই সরকার গঠনের আগে আমরা ইনশাআল্লাহ বসব, খোলামনে কথা বলব, জাতির জন্য আমরা চিন্তা করব এবং জাতির জন্য সিদ্ধান্ত নেব।’
বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শোক ও সমবেদনা জানাতে যান জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। সেখান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘দেশ এখন একটা গুরুত্বপূর্ণ বাঁকে আছে। সামনে একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট। সংস্কারের জন্য গণভোট আর সরকার গঠনের জন্য সাধারণ নির্বাচন। ১২ তারিখের (ফেব্রুয়ারি) এই নির্বাচন নির্বিঘ্ন হোক, সুন্দর হোক এবং গ্রহণযোগ্য হোক। আমরা এই বিষয়টি নিয়ে আজকে আলাপ আলোচনা করেছি। আমরা এটাও বলেছি অতীতে আমরা এক সঙ্গে কাজ করেছি। আগামীতেও আমরা দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করব।’
তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমান সাহেবসহ বিএনপির নেতারা একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছেন। আমরাও একই আকাঙ্ক্ষা ব্যক্ত করেছি। আমরা এটাও বলেছি যে পাঁচটা বছরের জন্য, জাতির স্থিতিশীলতার স্বার্থে, একটা সুন্দর পরিবেশ ফিরিয়ে আনার স্বার্থে আমরা সবাই মিলেমিশে ভালো কোনো চিন্তা করতে পারি কি না, সেটাও আমাদের চিন্তা করা দরকার।’
তিনি বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিকে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতৃত্বে দিয়েছেন। এর বাইরেও তার একটি সংগ্রামী আপসহীন জীবন ছিল। তিনি গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং মানুষের নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আজীবন লড়াই করে গেছেন। লড়াই করতে করতে তার শেষ জীবনটা একাকিত্বে কেটেছে। এই সময় যারা দেশ শাসন করেছেন তারা তার সঙ্গে অমানবিক আচরণ করেছেন। তিনি যখন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লেন তখন তাকে বিদেশে নেওয়ার জন্য দল পরিবার বারবার অনুরোধ করেছে। সরকার তো আমলে নেয়নি বরং এটা নিয়ে বারবার উপহাস করেছে। আল্লাহর বিচার ইতিহাসের অমোধ বিধান। শেষ পর্যন্ত তিনি চিকিৎসা নিয়েছেন, বিদেশেও গিয়েছেন। কিন্তু ততক্ষণে তার বিশাল ক্ষতি হয়ে গিয়েছে।’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সেই যে তিনি (খালেদা জিয়া) যুক্তরাজ্য থেকে ফিরে আসলেন আর চিকিৎসা নেওয়ার মতো অবস্থা তার থাকল না। স্বাস্থ্যটা এতটা ভেঙে পড়ল যে শেষ চিকিৎসা তার দেশেই নিতে হলো। এই ক্ষেত্রে আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আল্লাহ রব্বুল আলামিনের দরবারে দোয়া করি আল্লাহ তাকে জান্নাতের সর্বোচ্চ দরজা তাকে দান করুন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সহমর্মীতা জানাই ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ পরিবারের সদস্য, সংগঠনের নেতাকর্মী এবং যারা তাকে চিকিৎসা দিয়েছেন সেইসব চিকিৎসক সমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বেগম খালেদা জিয়াকে তাদের সর্বোচ্চ সামর্থ অনুযায়ী চিকিৎসা দিয়েছেন। এটা আমাদের অনুপ্রাণীত করে যে ভবিষ্যতে আমাদের দেশের নাগরিকরা এমন চিকিৎসক সমাজের কাছে আশা করতে পারেন।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তিনি চলে গেছেন ইতিহাসের একটা বিরল সম্মান নিয়ে। তার শেষ বিদায় সংবর্ধনা হয়েছে গতকাল। মানুষ আবেগ দিয়ে চোখের পানি দিয়ে তাকে বিদায় দিয়েছে। উনি জাতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তিনি তার পাওনাটা আল্লাহর পক্ষ থেকে পেয়েছেন। তার পাওনা দেখে আমরাও অনুপ্রাণিত হই। আমরাও যদি জাতির জন্য এমন অবদান রাখতে পারি তাহলে এ দেশের মানুষ আমাদেরও একদিন এ রকম বিদায় দেবে। সবার কপালে এটা জোটে না। মানুষের চোখের পানি দিয়ে বিদায় এটা বিশাল ব্যাপার। এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।’
বিবার্তা/এসএস
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]