অগ্রিম আয়কর না বসানোর দাবিতে এনবিআরের সামনে মোটরসাইকেলচালকদের মানববন্ধন
প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১৫:২৪
অগ্রিম আয়কর না বসানোর দাবিতে এনবিআরের সামনে মোটরসাইকেলচালকদের মানববন্ধন
বিবার্তা প্রতিবেদক
প্রিন্ট অ-অ+

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে মোটরসাইকেলের ওপর অগ্রিম আয়কর (এআইটি) আরোপের পরিকল্পনার প্রতিবাদে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা।


রবিবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এনবিআর কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন বাইকাররা। তাদের অভিযোগ, আসন্ন বাজেটে মোটরসাইকেলের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপের বিষয়ে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।


স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, প্রস্তাবিত বাজেটে ১১১-১২৫ সিসির মোটরসাইকেলের জন্য বছরে ২ হাজার টাকা, ১২৬-১৬৫ সিসির জন্য ৫ হাজার টাকা এবং ১৬৫ সিসির বেশি মোটরসাইকেলের জন্য ১০ হাজার টাকা অগ্রিম আয়কর নির্ধারণের প্রস্তাব রয়েছে। এতে দেশের বিপুলসংখ্যক মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তারা।


বাইকারদের পক্ষে স্মারকলিপি জমা দেন এ কে এম ইমন। মানববন্ধনে তিনি বলেন, প্রতিবেশী ভারতে যে মোটরসাইকেলের দাম প্রায় ১ লাখ টাকা, বাংলাদেশে সেটি কিনতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় করতে হয়। তার ভাষ্য, মোটরসাইকেল এখন সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় বাহনে পরিণত হয়েছে। রাইড শেয়ারিং ও পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে অনেক মানুষ প্রতিদিন ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। নতুন কর আরোপ করা হলে তাদের জীবন-জীবিকায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।


মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী বাইকাররা বলেন, মোটরসাইকেল এখন কেবল শখের বাহন নয়; বরং অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও রাইড শেয়ার চালকদের দৈনন্দিন যাতায়াত ও আয়ের অন্যতম মাধ্যম। যানজট এড়িয়ে দ্রুত চলাচলের জন্য অনেকেই মোটরসাইকেলের ওপর নির্ভরশীল।


স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমানে বহু নারী ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল ব্যবহার করে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে চলাচল করছেন। গণপরিবহনে নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি এড়াতে কর্মস্থল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াতে মোটরসাইকেল কার্যকর মাধ্যম হিসেবে ভূমিকা রাখছে। এ অবস্থায় অতিরিক্ত কর আরোপ নারীদের চলাচলেও আর্থিক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।


বাইকারদের দাবি, মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীরা ইতোমধ্যে নিবন্ধন ফি, রোড ট্যাক্স, ফিটনেস, বিমা ও জ্বালানির ওপর বিভিন্ন ধরনের কর পরিশোধ করছেন। এর সঙ্গে নতুন করে অগ্রিম আয়কর আরোপ করা হলে মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে।


তারা মোটরসাইকেলের ওপর প্রস্তাবিত অগ্রিম আয়কর প্রত্যাহার অথবা যৌক্তিকভাবে পুনর্বিবেচনার দাবি জানান। একই সঙ্গে মোটরসাইকেলকে বিলাসপণ্য হিসেবে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় পরিবহনমাধ্যম হিসেবে মূল্যায়নের আহ্বান জানান বক্তারা।


বিবার্তা/এমবি

সর্বশেষ খবর
সর্বাধিক পঠিত

সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি

এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)

১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫

ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫

Email: [email protected], [email protected]

© 2026 all rights reserved to www.bbarta24.net Developed By: Orangebd.com