
দুইদিনের সফরে ভারতের রাজধানী দিল্লি যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মরিশাসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) যোগ দেওয়ার আগে ৭ এপ্রিল ভারতের রাজধানীতে যাবেন তিনি। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সরকার গঠনের পর এই প্রথম কোনও মন্ত্রী দিল্লি যাচ্ছেন। কূটনৈতিক মহল গুরুত্বের সঙ্গে এই সফরকে দেখছে। এই দুই দেশ ছাড়াও পাকিস্তান সফরের কথা শোনা গেলেও তিনি এখন সেখানে যাচ্ছেন না। ১০-১২ এপ্রিল মরিশাসের পোর্ট লুইসে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুত্রে জানা গেছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হতে পারে। জয়শঙ্কর ছাড়াও আরও কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের কথা আছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সফরসঙ্গী হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির যাবেন।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চিঠি পাঠান। নরেন্দ্র মোদি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে পরিবারসহ ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা ভারতের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দনবার্তা তুলে দেন বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর হাতে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর অংশগ্রহণ এবং নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রতিনিধি পাঠিয়ে ভারত সরকার অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে থাকা স্থবির সম্পর্ক সচল করার উদ্যোগ নেয়। নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় ঘোষণা করে।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, ২০ মার্চ দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সৌজন্য সাক্ষাৎ সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতকে আরও জোরালো করে। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের মে মাসে দিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে যোগ দেন রিয়াজ হামিদুল্লাহ। কিন্তু অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দিল্লির টানাপোড়েনের জেরে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের জন্য বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে দীর্ঘ ৯ মাস অপেক্ষায় থাকতে হয়।
কূটনৈতিক সুত্র জানায়, বাংলাদেশের হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই সফর চূড়ান্ত হয়।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]