
গণভ্যুত্থানের পর দেশের ৪৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন উপাচার্য ও উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দল ভাগাভাগি করেছে বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
পাশাপাশি ‘জনতা’র চাপে শিক্ষক নিয়োগ, পদায়ন ও অপসারণের ঘটনা ঘটেছে অহরহ। চাপে পড়ে পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জন এবং আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির ছবি মুছে দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর টিআইবির সম্মেলনকক্ষে এ প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। ‘কর্তৃত্ববাদ পতন-পরবর্তী দেড় বছর: প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে শিক্ষাখাতে ‘অগ্রগতি’ ও ‘ঘাটতি’ অংশে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
শিক্ষাখাতে বেশ কয়েকটি ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- কাঠামোগত দুর্বলতা ও পর্যন্ত বাজেটের ঘাটতি অব্যাহত; পদত্যাগ বা অপসারণের পরিপ্রেক্ষিতে ৪৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও নিয়োগে মানদণ্ড ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন এবং দুটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের ভাগাভাগি।
শিক্ষার্থী ও ‘জনতা’র চাপে সিদ্ধান্ত গ্রহণের কিছু চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে- পাঠ্যপুস্তকের লেখা ও আদিবাসী সংশ্লিষ্ট গ্রাফিতির চিত্র পরিবর্তন; শিক্ষক নিয়োগ পদায়ন ও অপসারণ; বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক সংশোধন ও পরিমার্জনের কাজ সমন্বয়ের লক্ষ্যে গঠিত সমন্বয় কমিটি বাতিল; বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন ধরনের দাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ধারাবাহিক আন্দোলন এবং ছাত্রসংসদ কর্তৃক বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হেনস্তা; প্রাথমিক ও মাধ্যমিকের বিনামূল্যের পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বিলম্ব।
অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে শিক্ষাখাতের কিছু অগ্রগতিও তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। অগ্রগতিগুলো হলো- উচ্চশিক্ষার নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষ হিসেবে বাংলাদেশ উচ্চশিক্ষা কমিশন গঠনের উদ্যোগ; দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগের সুপারিশ প্রণয়নে সার্চ কমিটি গঠন; বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রসংসদ নির্বাচনের উদ্যোগ নেওয়া।
এছাড়া বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নতুন অ্যাডহক বা অস্থায়ী কমিটি গঠনের নির্দেশনা; বেসরকারি কলেজে অ্যাডহক কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণ, সরকারি প্রাথমিক প্রধান শিক্ষকদের গ্রেড একধাপ উন্নীত এবং বেসরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসির মাধ্যমে করার সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক ও অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছে টিআইবি।
শিক্ষাখাতে লেজুড়বৃত্তির রাজনীতি চলমান
শিক্ষার্থীদের হাত ধরে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে সরকার পতন ঘটে। জুলাই আন্দোলনের অন্যতম চাওয়া ছিল শিক্ষাখাতে দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি বন্ধ করা। অথচ অন্তর্বর্তী সরকার সেই চাওয়া পূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
টিআইবির পর্যবেক্ষণ বলছে, দেশের শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে এখনো দলীয় লেজুড়বৃত্তিক রাজনীতি চলমান। দুটি খাতের সংস্কার এ সরকারের যথাযথ মনোযোগও পায়নি। পাশাপাশি অন্তর্বর্তী সরকারকে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীজনদের সব মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা বেশি দেখা গেছে।
পর্যবেক্ষণে বলা হয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার খাতের সংস্কার সরকারের যথাযথ মনোযোগ না পাওয়া; এসব খাতে অংশীজনদের মতামতকে অগ্রাহ্য করার প্রবণতা দেখা গেছে।
একদিকে, বিভিন্ন খাতে অস্থিরতার পেছনে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রের প্রভাব, অন্যদিকে যৌক্তিক ও অযৌক্তিক আন্দোলনের মুখে দাবি মেনে নেওয়ার প্রবণতা ছিল। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আর্থিকসহ অন্যান্য খাতের সংস্কার উদ্যোগে সিন্ডিকেটে প্রভাব অব্যাহত বলেও উল্লেখ করেছে টিআইবি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]