
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাস্থ্য নিয়ে নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। কোনো তেল ‘বিষাক্ত’, কোনো খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়ায় এমন দাবির পাশাপাশি সম্প্রতি আরেকটি বিষয় নিয়েও বেশ আলোচনা হচ্ছে। সেটি হলো, ফল নাকি শুধু খালি পেটেই খাওয়া উচিত। অনেক ইনফ্লুয়েন্সার ‘ফুড কম্বাইনিং’ ও খাবার খাওয়ার নির্দিষ্ট ক্রমের কথা বলছেন। ফলে অনেকের মধ্যেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে খাবারের আগে ফল খাব, নাকি পরে? নাকি ফল খেতেই হবে খালি পেটে? ডায়েটিশিয়ানদের মতে, বিষয়টি নিয়ে এতটা ভাবনার কিছু নেই।
খাবারের কোন উপাদান আগে খাওয়া হচ্ছে, তা শরীরের হরমোন ও খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রায় কী প্রভাব ফেলে এ নিয়ে ‘মিল সিকোয়েন্সিং’ নামে একটি ধারণা রয়েছে। কিছু প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিরা কার্বোহাইড্রেটের আগে প্রোটিন, চর্বি ও আঁশযুক্ত খাবার খেলে খাবারের পর রক্তে শর্করার মাত্রা তুলনামূলকভাবে স্থির থাকতে পারে। তবে ডায়েটিশিয়ান লরেন মানাকার বলছেন, গবেষণাগারে পাওয়া এই ফলাফল সবসময় বাস্তব জীবনের সঙ্গে মিলে না।
ফল খাওয়ার সঠিক নিয়ম
মানাকার জানান, ডায়াবেটিসে আক্রান্ত বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সহায়তার জন্য তিনি সবজি, প্রোটিন ও চর্বিযুক্ত খাবারের পর ফলসহ অন্যান্য কার্বোহাইড্রেট খাওয়ার পরামর্শ দেন। তবে এটিকে তিনি কঠোর নিয়ম হিসেবে দেখেন না। কারণ খাবারের ক্রমের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো কার্বোহাইড্রেট যেন একা না খাওয়া হয় এবং খাদ্যতালিকায় প্রোটিন বা স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। আরেক গবেষণায় দেখা গেছে, খাবারের শুরুতে আঁশ ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকার অনুভূতি বাড়তে পারে। ফলও আঁশের ভালো উৎস। তবে তাই বলে ফল আলাদা করে বা নির্দিষ্ট ক্রমে খেতেই হবে, এমন নয়।
ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, কোনো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা না থাকলে একজন সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাবারের কোন অংশ আগে বা পরে খাওয়া হলো, তা পুষ্টি শোষণে প্রভাব ফেলে না। তাই খাবারের যেকোনো পর্যায়ে বা নাশতার সময় নিজের পছন্দমতো ফল খাওয়া যায়।
ফলের সঙ্গে কিছু যুক্ত করলে কি উপকার মিলে?
ফল কীভাবে খাচ্ছেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ডায়েটিশিয়ান এলিজাবেথের মতে, ফলের সঙ্গে প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। যেমন কলা ও পিনাট বাটার, আপেলের সঙ্গে বাদাম কিংবা ফলের সঙ্গে দই খাওয়া যেতে পারে।
এ ছাড়া ক্যান্টালুপ, আম ও এপ্রিকটের মতো কিছু ফলে থাকা চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন শরীরে কাজে লাগাতে চর্বির প্রয়োজন হয়। তাই এসব ফলের সঙ্গে একমুঠো বাদাম খাওয়া বা অ্যাভোকাডো দিয়ে স্মুদি তৈরি করাও ভালো বিকল্প হতে পারে। স্মুদি বোল, ফলের সালসার সঙ্গে মাছ, ওভারনাইট ওটস কিংবা ফল দিয়ে তৈরি ‘নাইস ক্রিম’-এর মতো খাবারেও ফল অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশিয়েই খাওয়া হয়। তাই ফলকে আলাদা করে খাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তার কারণ নেই।
ডায়েটিশিয়ান মানাকারের মতে, ফল কখন খাওয়া হচ্ছে এ নিয়ে অতিরিক্ত নিয়ম তৈরি করলে বরং মানুষের জন্য প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল খাওয়াই কঠিন হয়ে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রে মাত্র ১২ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক প্রতিদিন সুপারিশকৃত পরিমাণ ফল খান। সাধারণভাবে পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ২ কাপ এবং নারীদের জন্য দেড় কাপ ফলের পরামর্শ দেয়া হয়।
তাই খালি পেটে ফল খেতে না পারলে সেটি বাদ দেয়ার কোনো কারণ নেই। দিনের যেকোনো সময় ফল খাওয়া যেতে পারে তাজা, হিমায়িত, ক্যানজাত বা শুকনো ফলও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে ক্যানজাত বা শুকনো ফল বেছে নেওয়ার সময় অতিরিক্ত চিনি নেই এমন বিকল্প নেয়া ভালো।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]