
ইয়েমেনের সানা প্রদেশের একটি গ্রামে শনিবার হুতির অবস্থান লক্ষ্য করে ৮৭৫টি হামলা চালিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। এ হামলায় অন্তত ২৭ জন মানুষ নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম।
অন্যদিকে ৬ স্থানে পাল্টা হামলা চালিয়েছে হুতি। মারিব প্রদেশে হুতি হামলা প্রতিহত করার দাবি করেছে দেশটির সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী। খবর আল জাজিরার
শনিবার (৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সরকারি বাহিনী জানায়, যুদ্ধবিমান ও ড্রোনের সহায়তায় সেনারা কয়েক ঘণ্টা ধরে লড়াই করে মারিব প্রদেশে হুতির অগ্রযাত্রা থামিয়ে দিয়েছে। এ সময় গোষ্ঠীটির বেশ কয়েকটি প্রতিরক্ষা অবস্থান ও যুদ্ধ সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আল-জাওফ প্রদেশের হুতি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতেও অভিযান চালাচ্ছে সরকারি বাহিনী। সেখানে টানা তৃতীয় দিনের মতো সংঘর্ষ চলছে। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার এক মাসেরও বেশি আগে ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে। হুতিদের কাছ থেকে বিভিন্ন এলাকা পুনর্দখল করাই এ অভিযানের লক্ষ্য।
আলাদা এক বিবৃতিতে সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র কর্নেল মাজেদ আল-নাজিলি জানান, শনিবার হুতির অবস্থান লক্ষ্য করে ৮৭৫টি হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। এতে প্রায় ১৩০ জন হুতি কমান্ডার ও যোদ্ধা ‘নিষ্ক্রিয়’ হয়েছেন। এছাড়া ৫০টি যানবাহন ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযন্ত্র ধ্বংস বা অকার্যকর করা হয়েছে। তবে এসব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা।
এদিকে, শনিবার সানা প্রদেশে ধারাবাহিক হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত এবং প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুতি পরিচালিত সংবাদ সংস্থা সাবা।
সানাভিত্তিক স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আনিস আল-আসবাহি জানান, রাজধানীর উত্তরে আল-শারিয়া গ্রামে এসব হামলা হয়েছে। হতাহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু বলে দাবি করেন তিনি। হামলার জন্য ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটকে দায়ী করে প্রতিশোধ নেয়ার অঙ্গীকার করেছে গোষ্ঠীটি।
তবে হামলার এসব তথ্যও স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি আল জাজিরা। এ বিষয়ে সৌদি আরব ও ইয়েমেন সরকার কোনো মন্তব্য করেনি। এর এক দিন আগে তাইজের একটি বাজারে পৃথক হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় হুতি ও ইয়েমেন সরকার পরস্পরকে দায়ী করেছিল।
সানা থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক ইউসুফ মাওরি জানান, গত দুই দিনের হামলায় বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যুর সংখ্যা ৫৫ বলে দাবি করেছে হুতিরা। এসব মৃত্যুর জন্য সৌদি বিমান হামলাকে দায়ী করেছে তারা। অন্যদিকে, ইয়েমেন সরকারের কর্মকর্তারা অধিকাংশ হতাহতের জন্য হুতিকেই দায়ী করেছেন।
সৌদি লক্ষ্যবস্তুতে ছয় হামলার দাবি হুতির
ইয়েমেনে সংঘর্ষ চলার মধ্যেই সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ছয়টি হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা। তবে হামলাগুলো কখন চালানো হয়েছে, তা জানায়নি গোষ্ঠীটি।
হুতির দাবি অনুযায়ী, তাদের লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনা, খুরাইসের একটি তেলক্ষেত্র, দাওয়াদমির একটি তেল পাম্পিং স্টেশন, নাজরানের একটি ন্যাশনাল গার্ড ক্যাম্প এবং ইয়েমেনের আল-জাওফ ও মারিব প্রদেশে সৌদি সেনাদের অবস্থান।
অন্যদিকে, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি শনিবার ভোরে জানান, রিয়াদ অঞ্চলের আকাশে একটি হুতি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে জোটের বাহিনী।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]