
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির ভরাডুবির পর পদত্যাগ করতে শুরু করেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা। এরই মধ্যে তিন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে বিতর্কিত ষড়যন্ত্রের তদন্তের নেতৃত্ব দেওয়া ফ্লোরিডার শীর্ষ ফেডারেল আইনজীবী জেসন রেডিং কুইনোনেস পদত্যাগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্লাঞ্চ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই তথ্য জানান।
ট্রাম্পের নিয়োগ দেওয়া রেডিং কুইনোনেস ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার ইউএস অ্যাটর্নির দপ্তরের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সিনেটে নিয়োগ নিশ্চিত হওয়ার ১৫ মাসের মাথায় তিনি পদত্যাগ করলেন।
তার পদত্যাগের ফলে ট্রাম্পের রাজনৈতিক বিরোধীদের বিরুদ্ধে বিচার বিভাগের বহুল আলোচিত ‘গ্র্যান্ড কনস্পিরেসি’ বা বৃহৎ ষড়যন্ত্র তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। রেডিং কুইনোনেসের তত্ত্বাবধানে তদন্তটির নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত দুই মাসেরও কম সময় আগে জোসেফ ডি জেনোভা আকস্মিকভাবে পদত্যাগ করেছিলেন। তখন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, রেডিং কুইনোনেসের নেতৃত্বেই তদন্ত চলবে। কিন্তু শুক্রবার তার নিজের পদত্যাগের পর সেই অবস্থানও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
শুক্রবার ব্লাঞ্চ আরও জানান, বিচার বিভাগের জাতীয় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান জন আইজেনবার্গও পদত্যাগ করেছেন। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার বিচার বিভাগের নাগরিক অধিকার বিভাগের প্রধান হারমিত কে ধিলন পদ ছাড়েন।
রেডিং কুইনোনেসের পদত্যাগের বিষয়ে বিস্তারিত কারণ জানাননি ব্লাঞ্চ। তবে তিনি দেশসেবার জন্য কুইনোনেসকে ধন্যবাদ জানান।
দায়িত্ব পালনকালে সহিংস অপরাধ ও মাদক পাচার দমনে রেডিংয়ের কাজের প্রশংসা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এছাড়া গত মে মাসে কিউবার সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে কিউবার বাহিনীর গুলিতে তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই অভিযোগ আনা হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে রেডিং কুইনোনেসও ট্রাম্পকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি লেখেন, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় ছিল। আমরা একসঙ্গে যা অর্জন করেছি, তা নিয়ে গভীর গর্ব এবং মহান দেশের সেবা করার সুযোগের জন্য আমি কৃতজ্ঞতা নিয়ে বিদায় নিচ্ছি।
দপ্তরে অসন্তোষ, কর্মকর্তাদের পদত্যাগ
রেডিং কুইনোনেস ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠদের প্রত্যাশা নিয়ে দায়িত্ব নেওয়া কয়েকজন ইউএস অ্যাটর্নির একজন ছিলেন। এর আগে তিনি ফ্লোরিডার দক্ষিণাঞ্চলীয় জেলার একই দপ্তরে সহকারী ইউএস অ্যাটর্নি হিসেবে কাজ করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালে দপ্তর ছাড়ার আগে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তার কাজের মূল্যায়ন ভালো ছিল না।
তার নিয়োগে রক্ষণশীল আইনবিষয়ক কর্মী মাইক ডেভিসের মতো ব্যক্তিরা জোরালো সমর্থন দিয়েছিলেন। ডেভিস ট্রাম্প প্রশাসনের একজন প্রভাবশালী অনানুষ্ঠানিক আইন উপদেষ্টা হিসেবে পরিচিত। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে রেডিং কুইনোনেস খুব একটা সমর্থন পাননি।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]