
ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টিকে (সিজেপি) ঘিরে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ। দলটির প্রতিষ্ঠাতা ও নেতারা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থদাতা, পাকিস্তানের রাজনীতিক এবং ভারতবিরোধী বিভিন্ন সংগঠনের কাছ থেকে অর্থ পাচ্ছেন বলে দাবি করেছেন দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং।
তার অভিযোগ, বিদেশি অর্থের সহায়তায় ভারতের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানো হচ্ছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে এখনো বিস্তারিত আর্থিক নথি প্রকাশ করা হয়নি।
দলটির নেতারাও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা ব্যঙ্গ-বিদ্রূপ করেছেন।
ভারতের সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে ও পিটিআইয়ের বরাতে দ্য প্রিন্ট জানিয়েছে, গত ৩ নভেম্বর বেঙ্গালুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জিতেন্দ্র সিং এসব অভিযোগ করেন।
তিনি দাবি করেন, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক অর্থদাতাদের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছেন। অন্যদিকে দলটির নেতা আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানের রাজনীতিকদের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
জিতেন্দ্র সিংয়ের ভাষ্য, দলটির সঙ্গে ভারতবিরোধী বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা এবং দেশের ভেতরে ও বাইরের কয়েকটি সংগঠনের যোগাযোগ রয়েছে। বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা, তথাকথিত গভীর রাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি এবং ভারতবিরোধী শক্তিগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দাবি করেন, অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিরুদ্ধে তাদের কাছে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ রয়েছে। বিদেশি অর্থ ব্যবহার করে ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ তার।
অভিযোগের জবাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গাত্মক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপক। জিতেন্দ্র সিংয়ের বক্তব্যের পর তিনি সংক্ষিপ্তভাবে লেখেন, ‘আর সৌরভকে?’ পাশাপাশি মাথায় বিপুল অর্থ নিয়ে ঘোরার একটি ব্যঙ্গচিত্রও প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে আশুতোষ রাঙ্কা পাকিস্তানকে সব সমস্যার জন্য দায়ী করার প্রবণতা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন। ব্যঙ্গ করে তিনি লেখেন, ভারতের প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষাব্যবস্থার অবনতি, ভোট চুরি এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির জন্যও পাকিস্তান দায়ী। এসব মন্তব্যের মাধ্যমে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগকে উপহাস করেন তিনি।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন বিজেপির মুখপাত্র তুহিন সিনহাও। তার দাবি, উৎসবের মৌসুমে দিল্লিতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পরিকল্পনা করেছিল দলটি। গত এক মাসে দলটির বিভিন্ন কর্মসূচির উদ্দেশ্য ছিল বিদ্রোহ উসকে দেওয়া এবং দেশে নৈরাজ্য তৈরি করা।
একটি সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তুহিন সিনহা অভিযোগ করেন, ককরোচ জনতা পার্টি ও কংগ্রেস উভয়ই বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। শুনানি চলাকালে রাহুল গান্ধীর সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিত হওয়ারও সমালোচনা করেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ রায়ের আগে ককরোচ জনতা পার্টির মক সংসদ আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই বিজেপি নেতা। তার অভিযোগ, এসব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা চলছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদেও দলটির নেতারা
রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই ককরোচ জনতা পার্টির নেতা অভিজিৎ দীপক, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে ঘিরে পুলিশের তদন্তও অব্যাহত রয়েছে। দিল্লি পুলিশের অপরাধ দমন শাখা দলটির নেতাদের আবারও তলব করেছে। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য, অনুমতি ছাড়া যন্তরমন্তরে প্রবেশ এবং অন্যের সম্পত্তিতে অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এর আগে যন্তরমন্তরে ভোটার তালিকা সংশোধনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করতে গিয়ে দলটির তিন নেতা পুলিশের হাতে আটক হয়েছিলেন। পরে তারা মুক্তি পান। বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) নিয়ে দলটির প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই এই আন্দোলনের সূত্রপাত।
তবে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট অর্থদাতার নাম, অর্থের পরিমাণ কিংবা লেনদেনের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দাবিগুলো এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। অন্যদিকে ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সব মিলিয়ে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং পুলিশি তদন্তকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
বিবার্তা/এমবি
সম্পাদক : বাণী ইয়াসমিন হাসি
এফ হক টাওয়ার (লেভেল-৮)
১০৭, বীর উত্তম সি আর দত্ত রোড, ঢাকা- ১২০৫
ফোন : ০২-৮১৪৪৯৬০, মোবা. ০১৯৭২১৫১১১৫
Email: [email protected] , [email protected]